Skip to main content

টেলিফোনেও সংলাপ করা যায়: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপে না বসার বিষয়ে অনড় থাকলেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মেট্রো রেলের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সংলাপের বিষেয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী একথা বলেন। কাদের বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আর মাত্র তিন মাস বাকি। এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক সংলাপের প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটা ওয়ার্কিং, একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকতে পারে, এর জন্য টেলিফোনে আমার সঙ্গে যে কেউ কথা বলতে পারে। ‘কাদের সিদ্দিকী সাহেব ফোন করেছেন, তিনি কথা বলতে চান। তাকে আমি বলেছি আসেন। অনানুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা হতে পারে। আর কিছু না হোক, চোখ দেখাদেখি না হোক টেলিফোনে তো সংলাপ করা যায়।’ বিএনপির নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ দিন দেখা না হওয়ায় ‘মানসিক দূরত্ব’ তৈরি হওয়ার কথা তুলে ধরে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকার উপর জোর দেন ওবায়াদুল কাদের। ‘এর মধ্যে আমাদের অনেক গ্যাপ, মনের মধ্যে অনেক দূরত্ব হয়ে যায়, সবই কি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমিত থাকবে? আমরা কি কথাবার্তা বলব না। টেলিফোনে কথা বলতে অসুবিধা কি? আমি বলেছি, বিএনপি মহাসচিব আমাকে কখনো ফোন করেননি। আমি বলিনি যে আমি সংলাপের জন্য আহ্বান জানিয়েছি। এর ভুল ব্যাখ্যা দিবেন না প্লিজ।’ এদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঠিক আছে আমরা অগ্রীম ম্যাসেজটা জানলাম, গুড ম্যাসেজ, আশা করার মতো ম্যাসেজ। উনি (কাদের) যদি আমাদের ফোন করেন, আমরাও ফোন করবো।’ বিএনপি বরাবর সংলাপ চেয়ে আসছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের একটা সুবিধা আছে, উনি খুব সুন্দর করে যখন যা খুশি বলতে পারেন। সেই ব্যাপারে তার কোনো রকমের সমস্যা নেই, উনি বলতেই পারেন। “আমরা একটা সুস্থ অবস্থায় যাওয়ার জন্য একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ বের করতে তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্যে সব সময় আহ্বান জানাচ্ছি। আজকেও আপনাদের মাধ্যমে আবারো আহ্বান জানালাম- আসেন আলোচনায় বসি, কথা বলি। কোথায় বসবেন কি করবেন বলুন। আমরা সবসময় প্রস্তুত আলোচনার জন্য।” আগারগাঁওয়ে মেট্রো রেলের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট আরও বড় হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কাদের। তিনি বলেন, “নির্বাচন আসলে পোলারাইজেশন হবে। এলায়েন্স বলেন, এলায়েন্স তো আছে আমাদের। সেটা বাড়তেও পারে। অনেকেই তো জোটে আসতে চাইছে। অনেকেই আবার নিজেরাই আলাদা জোটে ঢুকতে চাইছে। বিএনপির সঙ্গেও থাকবে না আওয়ামী লীগের সঙ্গেও নয়- এমন জোটও হতে পারে। শেষ পর‌্যন্ত বিষয়টা কোথায় গিয়ে দাড়ায় এটা পরিস্কার হবে অক্টোবরে।” কয়লাখনির দুর্নীতির খবর সরকারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টা নিয়ে কি ভাবছে? এসব ঘটনা পৃথিবীর সব দেশেই ঘটে থাকে। আমার বক্তব্য হচ্ছে সরকার এখানে প্রো-একটিভ কি না। এই বিষয়টি সরকার কনসার্ন কতটা। সরকার তো বিষয়টা সিরিয়াসলি দেখছে এবং এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ- এ ব্যপারে যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার কথা হচ্ছে দেশে এত কর্মকাণ্ড হচ্ছে, এখানে এধরণের ঘটনা ঘটতে পারে, ঘটলে সরকার যদি এখানে নিরব থাকে বা এটাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় সেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারেন। সরকার তো এখানে নিরব নয়, সরকার এখানে কঠোর।

অন্যান্য সংবাদ