প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইতিহাসের পালাবদলে ইমরানই পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী

 

নূর মাজিদ : ২০১৮ সাল পাকিস্তানের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই নির্বাচনে অতীতের সকল প্রথার ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রচলিত বড় দলগুলিকে হারিয়ে, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান ও তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। গত শুক্রবার পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক হিসেব অনুযায়ী পিটিআই ১১৪ টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। দেশটিতে সরকার গঠনে প্রয়োজন এখন তার মাত্র ২৩ টি সংসদীয় আসনের নির্বাচিত প্রার্থীর সমর্থন প্রয়োজন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আশীর্বাদপুষ্ট ও আস্থাভাজন ইমরান খানের পক্ষে যা অর্জন অসম্ভব নয় বলেই মনে করছেন অধিকাংশ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক। ইতোমধ্যেই, ইমরান খানকে শুধুমাত্র রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী পান এমন ভিভিআইপি প্রটোকল দেয়া হচ্ছে, জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডন।

“জনাব খান এবং তার বানিগালা’র বাসভবনকে বিশেষ নিরাপত্তার চাদরে বেষ্টিত করা হয়েছে” জানান পাকিস্তান পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ওয়াকার আহমেদ চোহান। তিনি আরো জানান, এই নিয়ে পুলিশের একটি বিশেষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা দল ইমরান খানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে একটি বৈঠকও করেছেন।

তবে, এখনও বিস্ময়ের ঘোর কাটেনি পাকিস্তানের অনেক বিরোধী দলের নেতাদের মাঝে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হবার পর এটি পাকিস্তানের ইতিহাসের ১৩তম নির্বাচন। এই নির্বাচনে শোচনীয় ফলাফল করেছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ নওয়াজ (পিএম এল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) মতো বাঘা বাঘা দুই রাজনৈতিক শক্তি। এবারের নির্বাচনে সরকারি হিসেবে পিএমএল-এন পেয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৩টি আসন এবং পিপিপি মাত্র ৪৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। নওয়াজ শরীফের নির্বাচন পূর্ববর্তী সেনাবিরোধি বক্তব্য পিএমএল-এনের শক্ত ঘাঁটি পাঞ্জাবের ভোট ব্যাংকে চিড় ধরিয়েছে। আর সিন্ধুতে যথেষ্ট উন্নয়ন না করার খেসারত দিয়েছে পিপিপি। বিলাওয়াল ভুট্টোর তারুণ্যের কারিশমাও পিপিপি’র এমন বিপর্যয় ঠেকাতে পারেনি।

বিশেষ করে, পাকিস্তানের ৪ কোটি ৬০ লক্ষ তরুণ ভোটারের অধিকাংশই এবার ইমরানের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তরুণদের মাঝে ইমরানের প্রতি এই সমর্থন প্রচলিত দলগুলির রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্রতিও একটি বড় ধরণের আঘাত। ইমরানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়- বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিজ্ঞা তাদের গভীরভাবেই প্রভাবিত করতে সমর্থ হয়েছে। ফলে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক এসেম্বলিগুলোতেও  নিজস্ব জোট সরকার গঠনের প্রতি মনোযোগী হয়েছে পিটিআই। দলটির প্রথম লক্ষ্যই হলো সবচাইতে প্রভাবশালী পাঞ্জাবে প্রদেশে নিজস্ব সরকার গঠন।

পাকিস্তানের সামগ্রিক নির্বাচনী ইতিহাসে এটি চতুর্থবারের মতো এক বেসরকারি সরকার থেকে আরেক বেসরকারি সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া। অধিকাংশ সময় সামরিক শাসনের প্রভাবাধীন থাকা দেশটির জন্য যা খুবই ইতিবাচক। তবে ইমরানের কার্যকরী জোট সরকার গঠনের নেপথ্যে ভূমিকা পালন করবে দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই, অভিমত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের। আল জাজিরা জানায়, ইউরোপিয় ইউনিয়ন পাকিস্তানের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ডের অস্তিত্ব নেই এমন অভিযোগ করেছে। বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিঙয়ের অভিযোগ অনেক পুরোনো পশ্চিমা পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকে। তবে সকল অভিযোগ স্বত্বেও কার্যত ইমরান খানের সামনে ক্ষমতায় যাবার রাস্তা সম্পূর্ণ বাধাহীন। এখন শুধু কেন্দ্র ও প্রদেশগুলিতে জোট গঠনের হিসেব নিয়ে ব্যস্ত পিটিআই। আল জাজিরা/ ডন/ ইয়ন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ