প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে অর্থনৈতিক বাস্তবতায় হাল ধরছেন ইমরান

 

নূর মাজিদ: পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম চিরাচরিত বড় দলগুলোর মাঝে নতুন কোন দল নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে। যদিও এমন ধারাবাহিকতার প্রথা ভেঙ্গেছে মাত্র ২২ বছর বয়সী ইমরানের দল পিটিআই। সবচাইতে বেশী সংখ্যক আসন পাওয়ায় এখন একটি ছোট্ট জোট করার আনুষ্ঠানিকতার মাঝেই আবদ্ধ ইমরানের সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। তবে ইমরান আর তার সমর্থকদের সামনে হয়ত এমন বিজয় উদযাপন করার সুযোগ খুবই কম। বিশেষত যখন পাকিস্তানের অর্থনীতির ঈশানকোণে ভয়ঙ্কর দুর্যোগের কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি গতকাল বৃহস্পতিবার ইমরান তার নির্বাচন পরবর্তী ভাষণে দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করতে হলে এখন তাকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

পাকিস্তানের অর্থনীতির যে বিশেষ দিকটির তাকালে দেশটির অর্থনৈতিক দূরাবস্থা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তা হলো পাকিস্তানি রুপি। ২০১৭ সালের শুরু থেকেই মার্কিন ডলারের পরিবর্তে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে পাকিস্তানি রুপির দাম। ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১১১-১১২ পাকিস্তানি রুপি বিনিময় হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে চলতি বছরেও। চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার নাগাদ মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানের মুদ্রার বিনিময় হার ছিলো ১২৮ রুপি। অর্থাৎ দিনে দিনে আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে পাকিস্তানি রুপির মুল্যমান। বিশেষ করে, পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে  যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে তা রুপির পুনঃরুত্থানকে বাধাগ্রস্থ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ পাকিস্তানের নির্বাচন পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদনে জানায়, এই মুহূর্তে পাকিস্তানের ৬৬০ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরী অর্থ সহযোগিতা প্রয়োজন। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে পাকিস্তানের দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের এখন নিত্য প্র্যয়োজনীয় আনাজ ও অন্যান্য সওদা ক্রয় করতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ‘এসব কিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি আরো বেশী চ্যালেঞ্জপুর্ণ হয়ে উঠেছে’, জানান দেশটির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্তঃবর্তীকালীন অর্থমন্ত্রী শামশাদ আখতার। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যৎবাণী করেছেন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান দেউলিয়াত্ব ঘোষণা করে আইএফএম’এর কাছে থেকে কঠিন শর্তে ঋণ সাহায্য চাইতে পারে।

দেশটির সরকারের নগদ অর্থঘাটতির পরিমাণ চলতি বছরের ২০ জুলাই নাগাদ ১৮০০ কোটি মার্কিন ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। যা ২০১৭ সালে ছিলো ১২৬০ কোটি ডলার। এটি দেশটির মোট জিডিপি’র ৪.১ শতাংশ। তবে, এমন ঘন দুর্যোগের মাঝেও আশার কথা একটাই, সেটা হলো ইমরান এসব পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল আছেন। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন, দুর্নীতি হ্রাস এবং দেশে ব্যবসায়ের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এসব কিছুকেই নিজের প্রশাসনের ধ্যান-জ্ঞ্যানে পরিণত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এখন দেখার বিষয় ইমরান নিজের প্রতিশ্রুতি ক্ষমতার মুকুট মাথায় পড়ে কতটা রক্ষা করতে পারবেন! নাকি তিনিও অন্যান্য পাকিস্তানী শাসকের মতো নিজের ব্যাংক-ব্যালেন্স ও বিদেশের মাটিতে সম্পদ গড়ার দিকেই মনোনিবেশ করবেন, এখন এটাই দেখবার বিষয়। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন/ ব্লুমবার্গ/ দ্য নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ