প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জলাবদ্ধতায় হিমশিম খাচ্ছে রোহিঙ্গারা

শ.ম.গফুর,উখিয়া (কক্সবাজার): এমনিতেই নানা দুর্ভোগ আর কষ্ট চাপিয়ে দিনরাত পার করছিল রোহিঙ্গারা। তার উপর প্রবল বৃষ্টির খড়ক।কক্সবাজার জেলা জুড়ে গত চারদিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা।

জলাবদ্ধতার কারণে ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যাপন করছে মানবেতর জীবন। অভ্যন্তরীণ রাস্তা ভেঙে গিয়ে ও বসতি ডুবে সৃষ্টিতে হয়েছে অচল অবস্থা। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ক্যাম্পের বৃদ্ধ ও শিশুদের।

সরেজমিন দেখা যায়, উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে চলাচলের জন্য মাটির রাস্তাগুলো টানা বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে। চলাচলের জন্য হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক। বৃষ্টির পানি জমে বেশ কয়েকটি সড়ক ও বসতি ডুবে গেছে। কথা হলে ক্যাম্পের ডি-২ ব্লকের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ হাফেজ আহমেদ জানান, বৃষ্টির কারণে রাস্তাগুলোয় চলাচলের অবস্থা নেই। ঠিকমতো হাঁটাও যাচ্ছে না।

একই কথা জানান ক্যাম্পের আরেক বাসিন্দা হাজেরা বেগম। তিনি বলেন, গত সোমবার রাত থেকে তার আড়াই বছর বয়সী শিশুর জ্বর। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাকে চিকিৎসা ক্যাম্পে নেয়া যাচ্ছে না। এখন বৃষ্টি কমার অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। বালুখালী ২ নম্বর ক্যাম্পের ডি ব্লকে কাজ করছেন উন্নয়ন কর্মী মোহাম্মদ হাসান।

তিনি বলেন, ‘গতকাল ভোর থেকে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। এ ক্যাম্পের ডি-১, ডি-২, ডি ১৫ ব্লক, কাঁচাবাজার সড়ক ও মসজিদের সামনের রোডসহ বিভিন্ন সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। তবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসব সড়কের মেরামতে কাজ করছেন।’দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে উখিয়া ও টেকনাফের ৩১ রোহিঙ্গা শিবিরে রান্নার জন্য চুলায় আগুন ধরানোই মুশকিল হয়ে উঠেছে। বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন, যাদের গ্যাসের চুলা নেই। কারণ এসব রোহিঙ্গা পরিবারের অধিকাংশেরই জ্বালানি কাঠ ভিজে গেছে।

এদিকে শিবিরগুলোর অভ্যন্তরীণ চলাচলের মাটির রাস্তাগুলো বেহাল হয়ে পড়ায় সংকট দেখা দিয়েছে পানি সংগ্রহ নিয়েও। বৃষ্টির পানিতে শিবিরসংলগ্ন নালা-খাল ও নিচু এলাকা ডুবে যাওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা।এরই মধ্যে গতকাল দুপুরে পুতিগনিয়া ক্যাম্পে পানিতে ডুবে শাহীনা আক্তার (২) নামে এক শিশু মারা গেছে। এছাড়া টেকনাফ উনচিপ্রাং ক্যাম্পে পানি ঢুকে শর্ট সার্কিট হয়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যাটারি বিস্ফোরণে রশীদ আলী নামে (৩৮) এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আয়েশা খানম বলেন, ‘বৃষ্টির জন্য কিছুই রান্না করা যাচ্ছে না। চুলার নিচে পানি জমে থাকায় দুইদিন ধরে অনেক চেষ্টা করেও আগুন জ্বালাতে পারিনি। ছেলেমেয়েরা না খেয়ে বসে আছে। কিছু বিস্কুট ছিল, তাদের খেতে দিয়েছি। দুপুরে খাওয়া হয়নি।’

উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান বলেন, ‘অধিকাংশ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা আছে। এরই মধ্যে ধসের বেশি ঝুঁকিতে থাকা ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঘরে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।’

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী আব্দুর রহমান বলেন, ‘বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় একটু সমস্যা হলেও তাৎক্ষণিক আমরা এ ব্যাপারে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। দু-একদিনের মধ্যে সেখানকার অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। সঙ্গে দেশী-বিদেশী সহায়তা তো আছেই। এ বিষয়ে সরকারের সুনজর শুরু থেকেই আছে।রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রশাসনও আন্তরিক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত