প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীতে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতাকে অপহরণ (ভিডিও)

মাসুদ আলম : কুমিল্লার জেলার তিতাস উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা পারভেজ হোসেন সরকারকে প্রকাশ্যে অপহরণ করা হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকার মিনার মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে দুপুর পৌনে ২টায় তাকে একটি পাজেরো গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পারভেজ সরকার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন (তিতাস-হোমনা) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এছাড়া তিনি কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য ।

পারভেজ সরকারের খালাতো ভাই ফাহাদ ভূঁইয়া বলেন, দুপুর পৌনে ২টায় মসজিদ থেকে জুমার নামাজ পড়ে লালমাটিয়ার সি ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কে নিজ বাসার দিকে যাচ্ছিলেন পারভেজ। মসজিদের কয়েক গজ দূরেই তার বাসা। গেটের সামনে আসার পর প্যান্ট ও গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তি তার সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় লম্বা চুলওয়ালা আরেক ব্যক্তি পেছন থেকে এসে পারভেজ সরকারের মুখ চেপে ধরেন। ওই সময় কালো রঙের একটি পাজেরো সামনে আসে। পারভেজকে গাড়িতে তুলে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তারা। তার ভাইকে অপহরণের সময় চারজন ছিল। এদের সবার হাতে পিস্তল ও ওয়াকিটকি ছিল। দুজন বাইরে ও দুজন গাড়ির ভেতর ছিলেন। অপহরণকারীরা দীর্ঘ সময় পারভেজ সরকারকে অনুসরণ করছিল। ঘটনাস্থলের সামনে একটি বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। যে গাড়িতে করে তাকে তুলে নেওয়া হয় সেটির নম্বর প্লেট ছিল ঢাকা মেট্রো ঘ-১৪-২৫৭৭। লালমাটিয়ার বাসায় ২ সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে থাকতেন পারভেজ।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিতাসের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল শিকদারের সঙ্গে অনেকদিন ধরেই রাজনৈতিক ঝামেলা চলছে পারভেজ হোসেনের। ওই এলাকায় প্রোটোকল ছাড়া পারভেজ কখনও যাতায়াত করতেন না। গত বছর ওই এলাকায় সোহেল শিকদারের লোকজন পারভেজের ওপর হামলা করেছিল। পারভেজ ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিতাসের উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। সোহেল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ধারণা করা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, পারভেজকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় আমরা কাজ করছি। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ