Skip to main content

বৃষ্টিতে বিপর্যস্থ জনজীবন, দুর্ভোগে ছিন্নমূল মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

মো. ইউসুফ আলী বাচ্চু : থেমে থেমে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নগর জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। অবর্ননীয় কষ্টে আছে ছিন্নমূল মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। মাঝে মধ্যে কিছুটা বিরতি দিয়ে ঝরতে থাকে বৃষ্টি। অবিরাম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর অধিকাংশ পথ-ঘাট। অপর্যাপ্ত পানি নিস্কাশন ব্যবস্থার কারণে অনেক নিম্ন এলাকায় ঘরের ভেতরে পানি উঠেছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক স্থানে সিএনজি, রিক্সা, পাইভেটকার দুর্ঘনার শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রিক্সাচালকরাও বাড়িয়ে দিয়েছে ভাড়া। তারপরও জীবিকার তাগিদে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঘর থেকে বাইরে পা বাড়িয়েছে মানুষ। বন্ধের দিন থাকার কারণের রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা। এদিকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বিপাকে পরেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। বাইতুল মোকাররমের ফুটপাথে জুতার দোকানী নুর ইসলাম জানান, যেভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে তাতে বেচা-কেনা একেবারে বন্ধ, ব্যবসার টাকা ভেঙ্গে খেতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ছেলে মেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। এদিকে রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে, গ্রিনরোড, তেজকুনিপাড়া, তেঁজতুরী বাজার, খিলগাঁও, গোড়ান, বাসাবো, নয়াপল্টন, কাকরাইল, মৌচাক, মগবাজারের ভেতরের দিকে গলি, ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার এলাকার অধিকাংশ সড়ক, মিরপুরের ১১ নম্বর কালশী রোড, কাজীপাড়া, সেনপাড়া, ১৩ নম্বর সেকশনের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে গেছে। রাজধানীর গোলপশাহ মাজার, হাইকোর্ট মাজার, খিলগাঁও রাস্তার পাশে,পরিবাগ ওভারব্রীজের নিচে,কারওযান বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় যে সমস্থ মানুষ ঘুমায় তারা চরম দুর্ভোগে আছে। বৃষ্টির কারণে তারা ঘুমাতে পারছে না, ভিজে ব্যবহার অনুপোযাগী হয়ে পরছে তাদের কারপ-চোপর। আশ্রয় নিতে হচ্ছে বিভিন্ন ভবনের পাশে। ভুক্তভোগী আয়শা বেগম জানান, নদী ভাঙ্গনের কারণে রাজধানীতে আশ্রায় নিয়েছি, প্রায় ৩ বছর যাবৎ হাইকোর্ট মাজারে থাকি। প্রত্যেক দিন মানুষ কোনো না কোনো খাবারের আয়োজন করে তা খেয়ে বেঁচে আছি। প্রতি বছরই বৃষ্টিতে কষ্ট পাই তবে এবছর একটু বেশী। থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে থাকার যায়গা পানিতে ভিজে গেছে, রাত কাটাতে হবে বসে বসে। ঘুমানোর কোনো উপায় নাই। জানা গেছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, মংলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সর্বত্র টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। চারিদিকে পানি থৈ থৈ করছে। অনেক এলাকায় পানিতে ভেসে গেছে ঘের ও পুকুরের মাছ। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে জানিয়েছেন তারা। এছাড়া রংপুর , রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং দিনাজপুর, পাবনা,বগুড়া , টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, অঞ্চলে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্র বৃষ্টিসহ ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। গত ২৪ ঘন্টায় সারা দেশে উল্লেখ যোগ্য পরিমান বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুইয়া জানায়, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যান্য সংবাদ