প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘জলাবদ্ধতার মূল কারণ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা’

ফাহিম ফয়সাল : কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।শুক্রবার (২৭ জুলাই) পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্তৃপক্ষের দায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব অভিমত ব্যক্ত করেন।

বক্তারা বলেন, ঢাকা মহানগরীতে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল-নদী ভরাট ও দখল, খাল ও নালা-নর্দমা আবর্জনায় ভরাট এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করা, সংস্থাগুলোর দায়িত্বে অবহেলা, সমন্বয়হীনতা, জনসচেতনতার অভাব রাজধানীর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।

বক্তারা আরও বলেন, বৃষ্টির পানি ড্রেনের মাধ্যমে স্যুয়ারেজে যাবে, সেখান থেকে খালে, খাল থেকে নদীতে পড়বে। দীর্ঘ এই পথের কোথাও এটি বাধাপ্রাপ্ত হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে খালগুলো পুনরুদ্ধার করে সেগুলো নিয়মিত তদারকি, পরিচর্যা ও পরিষ্কার করতে হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায় স্বীকার না করে একে অপরকে দোষারোপ করছে।

বক্তারা আরও বলেন, বৃষ্টির কারণে জলজট-যানজটে ঢাকা মহানগরী অচল হয়ে পড়ে। গত বছর ঠিক এই সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এ বছর জলাবদ্ধতা হবে না। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ, ওয়াসা, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাদের সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। কর্তৃপক্ষ যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই কমে যাবে।

বক্তারা আরও বলেন, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে, রাজধানীতে মাত্র দুই শতাংশ জলাভূমি রয়েছে, যেখানে থাকার কথা ১২ শতাংশ, নিম্নাঞ্চল ভূমিদস্যুদের দখলে, ৬৫টি খাল ও চারটি নদী ছিল, এখন সেগুলো নেই। এসব কারণে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন কিছুটা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তাঁর পরিসংখ্যান নিয়ে মতভেদ থাকলেও জলাভূমি, নিম্নাঞ্চল, খাল ও নদী ভরাট ও দখলের বিষয়টি কম-বেশি প্রায় সকলেরই জানা। কিন্তু ঢাকা ওয়াসা যে ২৬টি খাল দেখভাল করার কথা সেগুলো দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করে প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে ওয়াসার গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি কিছুই বলেন নি। খালগুলো দখলমুক্ত ও পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে ওয়াসার উল্লেখযোগ্য কোন উদ্যোগ নগরবাসীর চোখে পড়ছে না। পাশাপাশি বক্স-কালভার্ট ও ড্রেনের ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না। জলাবদ্ধতা লাঘবে ২৬টি খালের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে ওয়াসা এবং ড্রেন পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন উদ্যোগ নিবে এটাই নগরবাসীর প্রত্যাশা।

উক্ত গোলটেবিল বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. মো. আবদুস সোবহান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পবা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, নাসফের সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব আলী, পবা’র সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ, স্ট্যামফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার, বিআইডাব্লিউটিএ-এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌ. তোফায়েল আহমেদ, প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ