প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতীয় টিভি সিরিয়াল দেখার আসক্তি বাড়ছে নারীদের

কান্তা আইচ রায় : দেশে ভারতীয় টিভি সিরিয়াল দেখার প্রতি নারীদের আসক্তি দিন দিন বাড়ছে। আর এসব ভারতীয় সিরিয়াল আমাদের পরিবার এবং সমাজে বিরুপ প্রভাব ফেলছে। এছাড়া মার খাচ্ছে আমাদের দেশের টিভি চ্যানেল ও প্রোডাকশন।

এসব বিষয় নিয়ে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎতকারে অভিনেত্রী বন্যা মির্জা বলেন, নির্মাণ শৈলী এবং অভিনয়ের যে জায়গাটি সব বিষয়গুলোকে সেই সব সিরিয়ালের কন্টেন্ট যাই হোক না কেনো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেখানে আসলে দর্শক ধরে রাখতে বাধ্য হয় ।

খুব পরিস্কারভাবে আমি দর্শকদের খেয়াল করাতে চাই- কিছু হালকা সস্তা হাসির বিষয় দেয়া হয়, যা কিনা ২৫ বছর বা এর কম বয়সীদের হয়তো পছন্দ হয়। কিন্তু এর থেকে যাদের বয়স বেশী তাদের কাছে আর ভাল লাগে না।

আমরা সব সময় বলে থাকি দর্শক যা খায় তাই আমরা দিই। আমরা এই কথাটা বলি যে, টেলিভিশন একটা মিডিয়াম সেখানে আপনি যা দেখাবেন দর্শক যদি তা নেয় তাহলে তো আপনার প্রথমে ভালোটা দেখানো দরকার এবং সেটাই বিক্রি হবার কথা । এখানে আমাদের দক্ষতার একটা প্রসঙ্গ অবশ্যই তুলতে চাই । এ জন্যই নির্মাণের প্রসঙ্গটা প্রথমে তুলেছিলাম, সেখানে আমাদের সমাজটা হয়তো আলাদা এবং ভারতীয় সমাজটাও তেমনই আলাদা ।

যখন ‘সকাল সন্ধ্যা’ দেখতাম তখন আমরা আমাদের সমাজের একটা কাছাকাছি চিত্র দেখতে পেতাম। আমরা কিন্তু সমাজ থেকে অনেকটুকু সরে গেছি। ভিজুয়্যাল মিডিয়াম এর সাথে আমরা সমাজের একটা পার্থক্য করেছি সবসময়। করতে করতে এই পার্থক্যটা এখন এত বড় হয়েছে যেখানে গিয়ে আমরা নাটকে যে আমাদের জীবনের একটা প্রতিচ্ছবি এটা বলতে পারি না ।

আমরা নাটক বলি আসলে আমার মনে হয় টেলিফিল্ম বা সিরিয়াল বলা হলে আমাদের জন্য সুবিধা কারণ নাটক থিয়েটারে হয় সেটা বরং আমাদের জন্য মেনে নেয়া ভাল । এই নাটক এবং সিনেমার একটা কনফেক্টও বাংলাদেশে সারাক্ষণ হয়। কেউ একটা ভাল ছবি বানালে শুনতে হয় নাটক বানিয়েছে। কারণ তারা এটা দেখে অভ্যস্থ। ফলে এই ধরনের একটা সংকটও কিন্তু আছে। সংস্কৃতির সংজ্ঞার যে প্রসঙ্গ আসলো, সংস্কৃতির সকল প্রসঙ্গ ধরেই আমি বলবো সংস্কৃতির সংজ্ঞাটাই আমাদের সত্যি সত্যি নির্ধারণ করতে হবে এবং আমাদের কিন্তু এটা দর্শকের কাছে গিয়ে জানবার বিষয়- আমাদের দর্শক কী ধরনের অনুষ্ঠান পছন্দ করে। এই যে একটা বিশাল কাজ এর থেকে আমরা বিরত আছি এবং আমরা নিজেদের এতটাই পারদর্শি ভাবি যে আমাদের দর্শকের কথা না ভাবলেও চলবে। এই গ্যাপটাই কিন্তু অন্য দেশের টিভি দেখতে আমাকে উদ্বুদ্ধ করে।

আমি প্রথমেই বলছিলাম যে, পাশের দেশের সমাজ আর আমাদের দেশের সমাজ আলাদা । সেখানে যে ধরনের সিরিয়ালগুলো হয় তার বিপক্ষেও কিন্তু অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। খুব কম সংখ্যক মানুষই কিন্তু এর পক্ষে । এটা একধরনের জনপ্রিয়তা। সেই কারণেই হয়তো দেখছেন। কিন্তু এটিকে তারা সমাজে চর্চা করেন কিনা সেটা আমাদের বুঝতে হবে সেই সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে ঢুকে। আমার মনে হয় যেমন আমাদের দেশে এর চাইতে বিপরীত ধরনের কাজ একই সাথে চলে। সেটিও চলে নারীর অবমাননা তেমন কাজও চলতে থাকে। আবার নানা ধরনের সোস্যাল ক্রাইসিস নিয়েও কাজ চলে। কিন্তু সমাজ এবং রাষ্ট্র দুটো পরিস্থিতি কিন্তু বিরাজমান থাকে । উদাহরণ হিসেবে বলতে চাই, সমাজে আছে একজন লোক ৪টি বিয়ে করতে পারবেন যেটা নারীর জন্যে অবমাননাকর। কখনো কখনো একজন স্ত্রীকে ম্যানেজ করে আরেকজন স্ত্রীর সাথে থাকতে পারছেন। সমাজে আছে রাষ্ট্রে বা আইনে নেই। রাষ্ট্র এটা পারমিট করে না। একজনকে বিয়ে করলে আরেকজনের পারমিশন নিতে হয় যদি পারমিশন না দেয় তাহলে সেই বিয়ে টেকে না। এই ধরনের সংকট কিন্তু সমাজ এবং রাষ্ট্রে চলতে থাকে। ফলে সমাজে আমরা সব সময় যা চর্চা করি রাষ্ট্রে তা বহাল থাকে এমন নয় আবার রাষ্ট্রে যা বহাল আছে আমরা যে তাই চর্চা করি তাও নয়। ফলে আমাদের মনে হয় যে গড়ে-ই তো সমাজে নারী অবমাননা করার একটা চর্চা হয়। যারা স্কিপ্ট লেখেন তাদের মনে হয় আমাদের সমাজটাই দেখা আছে কম। সূত্র : ডিবিসি নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত