প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘তসলিমা নাসরিনের সমস্যা কোথায়?’

রবিন আকরাম : ইমরান খান বিজয়ের পরে বলেছেন, তিনি মদিনার মতো করে দেশ চালাবেন। এটা দেখে তসলিমা নাসরীন লিখেছেন, ইমরান খান পাকিস্তানকে সপ্তম শতাব্দীতে পিছিয়ে নিতে চান। ইমরান খান তার দেশেকে যদি সপ্তম শতাব্দীতে পিছিয়ে নিয়ে যেতে চায় আর দেশের জনগনের সার্বভৌম ইচ্ছা যদি তাই হয় তাহলে তসলিমার সমস্যা কোথায়?

তসলিমা এবং আমরা যে গণতন্ত্রের ধারনায় আস্থা রাখি সেই গণতন্ত্রের জন্ম তো খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে। তাহলে কি তসলিমা নিজে এবং আমরা বাংলাদেশকে খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে নিয়ে যেতে চাই?

আসলে তসলিমার এই ফেনমেননটাকে খুব ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ইরানের তাত্ত্বিক হামিদ দাবাসি তার ব্রাউন স্কিন ওয়াইট মাস্ক বইয়ে। তিনি সেখানে দেখাচ্ছেন, মুসলমান সম্পর্কে পশ্চিমের যে নেতিবাচক ধারনা তৈরি হয়েছে তার কারণ দুইটা। একটা কারণ হচ্ছে পশ্চিমা মিডিয়া। যেমন মুম্বাই শহরে ২০০৮ সালে সন্ত্রাসী হামলায় ১৭৩ জন মানুষ মারা গেলে সেটাকে ইসলামী সন্ত্রাস বলা হচ্ছে, যার দায় দেয়া হচ্ছে সমস্ত মুসলমান সম্প্রদায়ের উপরে। অথচ একই বছরে ইসরায়েলের সন্ত্রাসী হামলায় ১৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হলে সেটাকে ইহুদী সন্ত্রাসবাদ বলা হচ্ছে না এবং সমস্ত ইহুদি সম্প্রদায়কে এর দায় দেয়া হচ্ছে না।

তিনি দ্বিতীয় কারণ হিসেবে যেটা দেখাচ্ছেন তা হচ্ছে, মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে এক শ্রেনীর মানুষ যারা এসাইলাম নিয়ে পশ্চিমেই থাকে, তারা ক্রমাগতভাবে নিজ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে গেছেন। এই মুসলিম বুদ্ধিজীবীরাই চিৎকার করে পশ্চিমাদের কাছে বলে গেছেন, ইসলাম কোন শান্তির ধর্ম নয়। “ইসলামী সন্ত্রাস” শব্দযুগল তাদেরই আবিস্কার। এরা নিজেদের ব্যক্তিগত সামান্য সুখের জন্য নিজ সম্প্রদায়কে বলি দিতে দ্বিধা করেনি। তিনি বেশ কয়েকজনের নাম করেছেন বইয়ে। তসলিমা যদিও সেই উচ্চতায় পৌছেনি যে তার নাম হামিদ দাবাসির বইয়ে আসবে।

হামিদ দাবাসি এই ঘরের শত্রু বিভিষনদের বলেছেন, নেটিভ ইনফর্মার। তসলিমা এবং আরো ডজন খানেক বাংলাদেশি আছেন যারা আসলে হামিদ দাবাসির বলা সেই নেটিভ ইনফর্মার তবে নিম্নস্তরের নেটিভ ইনফর্মার।

(লেখাটি পিনাকীর ফেসবুক থেকে নেয়া)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ