প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানুষের কল্যাণে বৃক্ষরোপণ

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির: প্রকৃতি মানুষ ছাড়া বাঁচতে পারে, মানুষ প্রকৃতি ছাড়া বাঁচতে পারে না। পৃথিবীর মূল সম্পদ হল ভূমি, পানি ও পরিবেশগত বৈচিত্র। আর পরিবেশ-বৈচিত্র্যের অন্যতম কারিগর উদ্ভিদ। আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ বৃক্ষ ছাড়া কল্পনা করা যায়না। আল্লাহ তায়ালা প্রাকৃতিক পরিবেশকে মানুষের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও স্বাভাবিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ করে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে পৃথিবীর মানুষকে প্রাকৃতিক-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দিক নির্দেশনা দিয়ে ঘোষনা করেছেন, ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন। অতঃপর তা (বায়ু) মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে। অতঃপর তিনি (আল্লাহ) মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তা স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও, তার মধ্য থেকে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাদের ইচ্ছা তা (বৃষ্টি) পৌঁছান। তখন তারা আনন্দিত হয়’। (সুরাঃ রূম, আয়াতঃ ৪৮)।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- তোমরা যে অগ্নি প্রজ¦ালিত কর তা লক্ষ করে দেখছো কি? তোমরাই কি অগ্নি উৎপাদন বৃক্ষ সৃষ্টি কর, না আমি? আমি একে করেছি নিদর্শন এবং মরুচারীদের প্রয়োজনীয় বস্ত্র। (সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত,৭১/৭৩)। পবিত্র কোরআনে মানুষের জন্য আল্লাহ পাকের অসংখ্য নিয়ামত প্রসংগে স্পষ্টভাবে ইরশাদ হচ্ছে-“মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করুক। আমিই প্রচুর বারি বর্ষণ করি, অতঃপর আমি ভূমিকে প্রকৃষ্টরূপে (ভালভাবে) বিদারিত করি এবং আমি উৎপন্ন করি শস্য,আংগুর, শাক-সবজি, যায়তুন, খেজুর, বহুবৃক্ষ, বিশিষ্ট উদ্যান, ফল এবং গবাদির খাদ্য, এটা তোমাদের এবং তোমাদের পশুগুলোর ভোগের জন্য। (সুরা আবাসা, আয়াত: ২৪-৩২)।

হযরত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃক্ষ রোপণকে সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। হযরত আনাস (রা) হতে বর্ণিত, হযরত রাসুল (দ:) বলেছেন, মানুষ, পাখী বা পশু তাদের আহার্য গ্রহণ করে তখন তা তার (রোপণকারী) পক্ষে একটি সদকা (দান) হিসেবে পরিগণিত হয় (বুখারী-মুসলিম শরীফ) বন ও বণ্য পশু-পাখী আল্লাহ পাকের দান ও প্রকৃতির শোভাবর্ধক। তাই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এগুলোর সংরক্ষণের উপরও বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মক্কা মোর্কারমা ও মদীনা মনোয়ারার একটি বিশেষ এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা বলে ঘোষণা করেছিলেন। ওইসব এলাকায় গাছপালা কাটা এবং সেখানে বন্য পশু-পাখি শিকার করা আজও নিষিদ্ধ। মুসলিম বিজয়ীরা যে দেশে গিয়েছেন সে দেশকে গাছপালা দ্বারা সবুজ করে তোলার চেষ্টা করেছেন। প্রধানত: কুরআন মজীদ ও হাদীস শরীফ থেকেই তাঁরা এ কাজের অনুপ্রেরণা লাভ করেছিলেন। মুসলিম ইতিহাসে এর যথেষ্ট নজীর রয়েছে। কৃষির উন্নয়ন ও সংরক্ষণের প্রতি মুসলিম খলিফাগণ সব সময় সজাগ ও সচেষ্ট ছিলেন। একদা এক ব্যক্তি হযরত ওমর (রাঃ) এর নিকট অভিযোগ করেন যে, সিরিয়ায় একটি শস্যক্ষেত্র ছিল এবং মুসলিম সৈন্যরা এদিকে যাওয়ার সময় সেটাকে নষ্ট করে দিয়েছে। হযরত ওমর (রাঃ) এর অভিযোগ শোনামাত্র ঐ ব্যক্তিকে তার শস্যক্ষেতের ক্ষতিপূরণস্বরূপ বায়তুল মাল থেকে দশ হাজার দিরহাম দান করেন (কিতাবুল খেয়াজ)।

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ যাপিত জীবনের সব কিছুই গাছকে ঘিরে ও গাছকে নিয়ে। হাদীস শরীফে এসেছে ‘যে ব্যক্তি কোন বৃক্ষরোপন করে, আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময়ে তাকে এই বৃক্ষের ফলের সমপরিমাণ প্রতিদান দান করবেন। (মুসনাদে আহমদ)। লেখক: গবেষক ও কলামিষ্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ