প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হঠাৎ বদলে গেল দৃশ্যপট

ডেস্ক রিপোর্ট:  আগামী সোমবার অনুষ্ঠেয় সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফল নির্ধারণে মূল নিয়ামক শক্তি হবে ধর্মীয় ভোট। আর এই ভোট নিজেদের পক্ষে নিতে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে হঠাৎ করেই বদলে গেছে দৃশ্যপট। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছে ইসলামী দলগুলো। তার বিপরীত চিত্র বিএনপিতে, অনেকটা অস্বস্তিতে পড়েছে দলটি।

প্রধান দুই প্রতিপক্ষ সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের ধর্মভিত্তিক ভোট নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাদের পক্ষ হয়ে ধর্মীয় ভোট টানার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৫ জুনের নির্বাচনে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ৩৫ হাজার ৬০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। ওই সময়ে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের দা-কুমড়া সম্পর্ক থাকায় ইসলামী দলগুলোর একচেটিয়া ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরী। ওই নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর কোনো প্রার্থীও ছিল না।

এবার অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে সিলেট শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নগরবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও ইসলামী আন্দোলনের ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান প্রার্থী হওয়ায় গত নির্বাচনের মতো এবার আর একচেটিয়াভাবে ধর্মীয় ভোট পাবেন না আরিফুল। আলোচিত এ দুই প্রার্থী নির্বাচনে থাকায় বিএনপি প্রার্থী কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ভোটের হিসাব-নিকাশের বেলায় বাড়তি সুবিধা পাবেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

তবে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম শুরুর দিকে বেশ এগিয়ে ছিলেন বিএনপি প্রার্থী। সাবেক এমপি শাহীনুর পাশা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশ ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেছে। খেলাফত মজলিসের একাংশও আরিফুলের পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এ নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বড় ধরনের হতাশা নেমে এসেছিল। তারা পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য দলের নেতাদের তাগাদা দিচ্ছিলেন।

এমন অবস্থায় গতকাল থেকে এ চিত্র হঠাৎ করেই বদলে যেতে শুরু করে। নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম শুরুর পর থেকে গতকালই প্রথম কামরানের পক্ষে পথসভা, গণসংযোগ ও ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন হয়েছে।

সিলেট মহানগর ইমাম সমিতি গতকাল মির্জাজাঙ্গাল, বদর বাজার ও তালতাল এলাকায় নৌকা মার্কার পক্ষে পথসভা ও গণসংযোগ করেছে। মওলানা নুরুল আমিনের নেতৃত্বে এই নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, জেলার সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মওলানা সালাহ উদ্দিন একরাম, মওলানা সাইফুল ইসলাম, মওলানা আলাউদ্দিন, মওলানা আবদুস সালাম, মওলানা আবদুল করিম, মওলানা কাউসার আহমদ, মওলানা জাহাঙ্গীর আলম ও মওলানা শফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া ইসলামিক ইনস্টিটিউট নামে একটি ইসলামী সংগঠন গতকাল সিলেট শহরের পানসী ইন হোটেলে এইচএমজি মোস্তফা ওয়াহিদের সভাপতিত্বে ‘ইসলাম ও মানবতার উন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়েছে। অবশ্য ওই সম্মেলনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরানের স্ত্রী আসমা কামরান উপস্থিত থাকলেও ভোট চাওয়ার সুযোগ পাননি। তবে উদ্যোক্তারা তার পক্ষ থেকে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। ওলামা-মাশায়েখদের ওই সম্মেলনে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদের খতিব শায়খ মওলানা মুফতি মুহিববুল হক এবং সিলেটের চাঁন্দারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল শায়খ মওলানা মুফতি সরওয়ারে জাহান উপস্থিত ছিলেন। বরণ্যে এ দুই আলেমের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সিলেটে।

এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক আহমদ হোসেন সমকালকে জানিয়েছেন, আঞ্জুমানে আল ইসলাহর সভাপতি মাওলানা হুছামুদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, মহাসচিব ও সিলেটের কামালবাজার আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মনোওর আলী, সিলেটের কাজীরবাজার জামেয়া ইসলামিয়ার প্রিন্সিপাল ও ইসলামী ঐক্যজোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাওলানা হাবীবুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি ও জামেয়া মাহমুদিয়া সোবহানীঘাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা শফিকুল হক আমকুনী এবং সিলেট মহানগর খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান আলমের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন ও যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক আতিক জানিয়েছেন, ধর্মীয় ভোট নৌকা প্রতীকে আনার জন্য নগরীর অর্ধশতাধিক কওমি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক ভোট নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা করছেন।

এদিকে, বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ও নগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। আর ইশতেহার ঘোষণার সময়ে জুবায়ের বলেছেন, স্থানীয় রাজনীতিতে নানা গুজব-গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে থাকছেন। তার এ ঘোষণায় বিএনপিতে অস্বস্তি আরও বেড়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। হতাশায় পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমনিতে নির্বাচনের শুরু থেকেই জামায়াতের প্রার্থিতা নিয়ে ২০ দলীয় জোটে টানাপড়েন চলে আসছে।

তবে আরিফুল হক চৌধুরী সমকালকে বলেছেন, তার বিজয় ঠেকানোর অপচেষ্টা করছে জামায়াত। কিন্তু সেটা ধোপে টিকবে না। বিএনপি প্রার্থী তার বিজয়ের বেলায় জামায়াতকে ফ্যাক্টর হিসেবেও দেখছেন না বলে জানান। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ইসলামী দলগুলোর ভোট পাবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি প্রার্থীর সমর্থনে কয়েকটি ইসলামী দল নির্বাচনী প্রচার করেছে। ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির সখ্যও রয়েছে।

এদিকে, এবারের নির্বাচনে শতকরা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোটের আশা করছেন জামায়াত প্রার্থী। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শতকরা ৫০ শতাংশ ভোট পাবেন বলে দাবি করছেন। আর বিভিন্ন নির্বাচনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ছাড়া আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ১৫ হাজার, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ১০ হাজার ও খেলাফত মজলিস গড়পড়তা প্রায় ১৫ হাজার ভোট পেয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটার তিন লাখ ২১ হাজার ৭৩২। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার সংখ্যালঘু। আর গত নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারদের সিংহভাগই ভোটকেন্দ্রে যাননি। তবে এবারের নির্বাচনে তারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন বলে অনেকেই মনে করছেন। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ বেশ ইতিবাচক অবস্থানে থাকবে।  সমকাল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ