প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গদি হারাচ্ছেন বদি, বড়কুটুমেই বড় ধাক্কা!

ডেস্ক রিপোর্ট : এমনই- কোথাও বদি হাঁটছেন পেছনেই তার শ্যালক জাহাঙ্গীর। কোথাও আবার শালা-দুলাভাই পাশাপাশি। এমনই চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে। কিন্তু এবার বুঝি স্বপ্ন ভাঙছে আবদুর রহমান বদির। আর সে স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়ে উঠছেন শ্যালক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী নিজেই।

জানা যাচ্ছে, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ(৪) আসনে নৌকার টিকিট হয়তো মিলছে না বদির ভাগ্যে। মরণ নেশা ইয়াবার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসাবে আবদুর রহমান বদির কুখ্যাতি আছে। তবে সে কারণে বদিকে কোনঠাসা হতে দেখা যায়নি অতীতে। পরপর দুই দফা বদি এই আসনের সংসদ সদস্য হয়েছেন সরকারি দলের টিকিটে। তবে এবার বুঝি আর শেষ রক্ষা হচ্ছে না! ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের কাছ থেকে এমনটাই আভাস মিলছে।

“মরণনেশা ইয়াবাকে বাংলাদেশসহ পাশের দেশে পাচার করে, কালো টাকার পাহাড় বানিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন বদি। এ কথা সবারই জানা। কেউ কেউ এমনও বলেন- “মাদকদ্রব্য ইয়াবাকে তিনি বাংলাদেশে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন!”
বদির শ্যালক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী আগে থেকেই উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া তিনি সদর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। এবারের সংসদ নির্বাচনে তিনিও মনোনয়ন প্রত্যাশী। আর সে ইচ্ছার কথা এখন পুরোপুরি স্পষ্ট।

এ নিয়ে অনুসন্ধানের বেরিয়ে এসেছে আরও কিছু ভেতরকার তথ্য। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বদির সাথে তার স্ত্রী শাহীন চৌধুরীর মনোমালিন্যের জের ধরেই এমনটা ঘটছে।
বদির পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এই প্রতিবেদককে জানায়, শ্বশুরবাড়ির সাথে সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে বদির। আর শ্যালক মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় গত একমাস ধরে বদি ও তার স্ত্রী আলাদা বাসায় থাকছেন বলেও একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে।
বদির নিজের বাড়ির টেকনাফে হলেও শ্বশুর বাড়ি উখিয়া হওয়ার সুবিধা নিয়ে বিগত দুই সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন তিনি। কিন্তু এবার উখিয়া নিজস্ব প্রার্থী পেলে বদিকে সমর্থন দেবে না… এমনটাই ভাবা হচ্ছে।
উখিয়া-টেকনাফ (কক্সবাজার-৪) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এলাকাবাসীও এখন এমপি বদির শ্যালক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর কথাই গুরুত্বের সাথে ভাবছেন বলে তৃণমূল থেকে আভাস মিলছে।
‘লাকি’ আসন খ্যাত; কক্সবাজার-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকার টিকেট পেতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন এমপি বদির শ্যালক জাহাঙ্গীর চৌধুরী।
বলা হচ্ছে, আবদুর রহমান বদিকে নিয়ে দেশব্যাপী নানা সমালোচনা ও দলের হাইকমান্ডের দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে নানা মতভেদ থাকার সুযোগকে কাজে লাগাতে চান বদির শ্যালক।
সূত্র জানায়, এরই মধ্যে নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দাবি করে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণে জোরালো তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়াও তৃণমুলের ত্যাগী নেতাকর্মী থেকে শুরু উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে নিবিড় সম্পর্ক ও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের দুই মেয়াদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী।
কেউ কেউ বলছেন, সম্প্রতি ঢাকায় তৃণমুলের প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রেখে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনারও সু-নজরে এসেছেন জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। গণভবনে একসভায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে গঠনমূলক বক্তব্যে উখিয়া-টেকনাফ তথা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা সমস্যা ও সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে পরপর দুই বার প্রতিনিধি সম্মেলনে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বক্তব্যের সুযোগ পাওয়ায় গণমাধ্যমেও তাঁর ব্যাপক পরিচিতি এসেছে। এতে উখিয়া-টেকনাফ থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন উজ্জ্বল হয়ে উঠছে বলেও স্থানীয় নেতাকর্মীরা কে জানিয়েছেন।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীকে উখিয়া-টেকনাফ থেকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবেন বলে অনেক নেতাকর্মী
উল্লেখ্য; গত ২৩ জুন ঢাকায় গণভবনে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সারাদেশের আওয়ামী সমর্থিত অর্থাৎ দলীয় প্রতীক নৌকায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের নিয়ে বিশেষ বর্ধিত সভায়ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বক্তব্যের সুযোগ পান।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, উখিয়া-টেকনাফে লাখ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। বিশ্বখ্যাত ‘মাদার অফ হিউমিনিটি’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা বিশাল এ রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে সাময়িক আশ্রয় দিয়ে সব ধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তিনি তার বক্তব্যে রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ উখিয়া-টেকনাফ মহাসড়ককে যানজট নিরসন প্রকল্পে চার লেইনে উন্নীতকরণের দাবিও তোলেন।
এছাড়াও, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, সারাদেশে বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা উখিয়া-টেকনাফের মানুষ এর বাস্তবায়ন চাই।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে উখিয়া-টেকনাফে মাদকের ভয়াবহতা হ্রাস পেয়েছে। এসময় তিনি—’চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে দিন দিন সফলতা আসায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
মনোনয়নের ব্যাপারে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী  বলেন— আমি পারিবারিক সূত্রে দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। আমার বাবাও সুনামের সাথে জনগণের ভালোবাসা নিয়ে সফল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আমিও জনগণের সমর্থনে বিপুল ভোটে জয়ী নির্বাচিত হয়েছি। আমি সামনে এগুতে চাই।
জাহাঙ্গীর বলেন, উখিয়া-টেকনাফ (৪) আসনে এমপি বদির কতটুকু জনপ্রিয়তা রয়েছে সে ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাইনা। তবে এটুকু বলতে পারি; উখিয়ায় আমাদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার রয়েছে। আমাকে উখিয়াবাসী ভালোবেসে তাদের চেয়ারম্যান বানিয়েছে। এমপি বদির মূলত উখিয়ায় জনপ্রিয়তা ছিলোনা। আমি বদির বদির শুভাকাঙ্ক্ষী বলেই উখিয়ার জনগণ এতদিন বদির সঙ্গে ছিলো।
একই আসন থেকে দুজন মনোনয়ন প্রত্যাশার পেছনে কোনও দ্বন্দ্ব রয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গির বলেন, পারিবারিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আমরা আলাদা করে ভাবি।
এছাড়াও, ভবিষ্যতে বদির পাশে থাকবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ভেবেচিন্তে স্থানীয় অন্যান্য নেতাদের পরামর্শে এবং দলীয় হাইকমান্ডের ইঙ্গিতেই মনোনয়ন চাওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। বদির বিরোধিতা করে এই সিদ্ধান্ত এমনটা হওয়ার প্রশ্নই আসেনা।
‘বদি কেমন মানুষ,বা সাংসদ হিসেবেই কেমন তা জনগণই ভালো বলতে পারবেন। আমি বদির পক্ষেবিপক্ষে কোন দিকেই মন্তব্য করতে রাজী নই, বলেন জাহাঙ্গীর চৌধুরী।
তিনি বলেন, দলীয় প্রধান আবারও তাকে মনোনয়ন দিলে তার জন্যে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইবো। নেত্রীর সিদ্ধান্তই মেনে নিবো। আর তিনি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিলেই আমি ভোটে দাঁড়াবো।
দলীয় সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে মনোনয়নের সংক্রান্ত কোন ধরণের ইঙ্গিত পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর বলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় রাজনৈতিক সকল ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নেত্রী আমার ব্যাপারে অবগত রয়েছেন বলেই আমি জেনেছি। গণভবনের সভায় নেত্রীর সঙ্গে আমার ক্ষণিক আলাপের সৌভাগ্যও হয়েছিলো। কিন্তু তা একান্তই আমাদের রাজনৈতিক আলাপচারিতা। তা গণমাধ্যম কে জানানোর কিছু নয়, বলেন জাহাঙ্গীর চৌধুরী।
এই প্রসঙ্গে কথা বলতে উখিয়া— টেকনাফ (৪) আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। সূত্র : সারাবাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত