প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগের অস্বীকার, নীরব ইসি

ডেস্ক রিপোর্ট : বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা চলছে। প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দাপুটে মনোভাব ও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধাসহ নানা অভিযোগ সামনে আনছেন বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নীরব এ অভিযোগ আনছেন তিনি।

তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি বিএনপির এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে দাবি করেছে। এ নিয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আব্বাস গতকাল বরিশাল মহানগর দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।
সেখানে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে এই বরিশাল শহরে কোনো একটা ঐশ্বরিক শক্তি বিরাজ করেছে বলে আমার মনে হচ্ছে। নির্বাচনের স্বাভাবিক অবস্থা এখানে নেই। আমরা চাই প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন, কিন্তু এখানে আওয়ামী সমপ্রদায়ের কারণে অন্য কারও ক্ষতি হোক সেটা নিয়ে তারা ভাবে না।

তারা প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা গতরাত (বুধবার) থেকে একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এই যে দুরবস্থা আজ সেখানে আমরা সিইসি’র কাছে প্রত্যাশা করেছিলাম যে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে, মনে করেছিলাম বরিশাল গাজীপুরের মতো হবে না। নির্বাচন কমিশনও তা বলেছিল, কিন্তু ?উনাদের কথা ঠিক না। মির্জা আব্বাস আরো বলেন, সিইসি এখন কোনো কমপ্লেইন নিতে চান না।

নির্বাচনী প্রচারণার জন্য স্পিকার লাগানোও নিষেধ। কিন্তু আমার চোখের সামনে নিয়ে ঠেলা গাড়ি করে নৌকা নিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা নিষেধ। নৌকার গেইট, আলোকসজ্জা করা হয়েছে, যদিও এসব নিষেধ। এখানে আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছি না। তারপরও আমি বিশ্বাস করি যে, আওয়ামী অত্যাচার, এই অত্যাচারকে পরাস্ত করে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন পর্যন্ত অটুট মনোভাব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে, এবং কাজ করে যাবে। ২০দলীয় জোট সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের প্রার্থীর প্রচারণার কাজ করছে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। তাকে অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে কাজ করতে হচ্ছে। বরিশাল শহরের আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামে লোক জড়ো করেছে।

এই লোকগুলোর কাজ হবে তারা ইলেকশনের দিন হয়তো নৌকা বা ধানের শীষের ব্যাজ লাগিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করবে। বরিশালের লোকদের যারা আমাদের কর্মী তাদেরকে পুলিশ দৌড়াচ্ছে। আমি আশা করবো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বরিশালের আশেপাশের লোকদের পুলিশ গ্রেপ্তার করুক বা অবিলম্বে তাদের বের করে দেয়া হোক। তা না করা হলে নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, গতরাতে (বুধবার) ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এর আগের দিন চারজন, আজকে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমাদের নেতাকর্মীরা শেষ পর্যন্ত হলেও মাটি কামড়ে হলেও মাঠে থাকবে।

বিএনপির কমিশনার প্রার্থীদের জেলে ভরে দিয়েছে, তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে, হামলা হচ্ছে। তারা বাড়িতে থাকতে পারছে না। যারা প্রার্থী হয়েছে তাদেরকে প্রথমে টাকা-পয়সার লোভ দেখাচ্ছে। কারণ আওয়ামী লীগের কাছে অবৈধ টাকার অভাব নেই। তারপর জোর জবরদস্তি, অতঃপর পুলিশি হয়রানি চালানো হচ্ছে। তাদের ব্যবসায়িক জায়গাতে হাত দেয়া হয়েছে। এ সমস্ত কারণে আমাদের অনেক প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে বিএনপির এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর পক্ষে নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়কারী ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, বিএনপি সময় সময় অসত্য ও ভুলের উপর রাজনীতি করে। তাদেরকে আমাদের দিক থেকে কোনো ধরনের হয়রানি বা বাধা দেয়া হচ্ছে না, এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা ও ভ্রান্ত। সাদিক আব্দুল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, বরিশালের মানুষ একটা উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায় আছে। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করার মতো সব ধরনের পরিবেশ বজায় রাখছে।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছি। বরিশালের মানুষও নৌকার পক্ষে আছেন। আজও বেশ কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগ করা হয়েছে। চেম্বার অব কমার্স এবং আরো কিছু প্রতিষ্ঠানে আমরা উপস্থিত হয়ে ভোট চেয়েছি। আমাদের প্রার্থীও বিভিন্ন পথসভা ও বৈঠকে অংশ নিয়ে জনগণের সঙ্গে কথা বলছেন, মানুষও বেশ সাড়া দিচ্ছে।
এদিকে বিএনপির এই অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশন আমলে নিচ্ছেন না বলেই দাবি করছেন দলটির নেতারা। তারা জানান, নির্বাচনী প্রচার- প্রচারণায় বাধাদানসহ অনেক অভিযোগ নির্বাচন কমিশন কিছুতেই আমলে নিচ্ছে না। তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে বারবার অভিযোগ দেয়া সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

অবশ্য বরিশাল জেলা নির্বাচন ভবন সূত্র বলছে, বরিশালে গত ১৬ দিনে ২৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এর বেশির ভাগই আচরণবিধি লঙ্ঘনের। রিটার্নিং কর্মকর্তা অভিযোগের পর সতর্ক করা এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। বরিশালে এ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে সাতটি, আওয়ামী লীগের পক্ষে পাঁচটি এবং বাসদের একটি অভিযোগ পড়েছে।

এর মধ্যে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও পরিচালকের আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়ার অভিযোগটি গুরুতর। রিটার্নিং কর্মকর্তার কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে দুঃখ প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে এ কাজ না করার মুচলেকা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে জেলা নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা হেলালুজ্জামান এসব বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যত অভিযোগ এসেছে সবই নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনারও আজ (গতকাল) বরিশাল এসে কাউকে হয়রানি যেন না করা হয় সে ব্যাপারে পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। বিএনপি যেসব অভিযোগ করছে তা কিছু কিছু আমাদের চাপে রাখার জন্য। তাছাড়া আর কিছু নয়।
সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ