প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কয়লা সংকট কাটাতে আমদানির উদ্যোগ

ডেস্ক রিপোর্ট : জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এবার কয়লা আমদানির উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এজন্য ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি কয়লা আমদানি ও পরিবহনের পদ্ধতি ঠিক করে দেবে। কয়লা আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও। বৃহস্পতিবার রাতে হোটেল ওয়েস্টিনে একটি অনুষ্ঠানে রাখা বক্তব্যে তিনিও বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখাসহ এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এক মাসের স্টক রাখার জন্য কয়লা আমদানি করা হবে।

সূত্র জানায়, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়েকটি ইউনিটের সাম্প্রতিক কয়লা সংকট দূরীকরণের জন্য আমদানি বা সংগ্রহ ও পরিবহনের পদ্ধতি নিরূপনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন)কে আহ্বায়ক করে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

পিডিবি জানায়, বড়পুকুরিয়ার কয়লা দুর্নীতির কারণে কয়লা সংকটে পড়েছে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। গত ২২ জুলাই রাতে কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে চায় না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় পুরো উত্তরাঞ্চল জুড়ে এখন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিডিবি চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ বলেন, আমরা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করছি। আগামীতে এ ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আগেই সমাধানের জন্য কমিটি কাজ করবে। তিনি বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে আশা করা হচ্ছে কেন্দ্রটি চালু করা হবে। তবে এর মধ্যে আমদানি করে কেন্দ্রটি চালানো সম্ভব কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জানা যায়, ১২ সদস্যের মধ্যে জাতীয় রাজ্স্ব বোর্ডের একজন সদস্য, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, লেজিলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্প্রদ বিভাগের একজন করে প্রতিনিধি আছেন। তবে যুগ্মসচিবের নিচের পদের কেউ এই কমিটিতে নেই) এছাড়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি (সদস্যের নিচের কেউ নয়), বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন প্রতিনিধি (অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নিচের পদের কেউ নয়), বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা)একজন প্রতিনিধি (পরিচালকের নিচের পদের কেউ নন), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন), পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব (উন্নয়ন-১) এই কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।এছাড়া কমিটি প্রয়োজনবোধে সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, কমিটির সদস্যরা বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাম্প্রতিক কযলা সংকট নিরসনে কয়লা আমদানির পদ্ধতি ঠিক করবে। এই আমদানির করা কয়লা কীভাবে কেনা যায় এবং তা পরিবহন করার বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি কয়লা আমদানির বিষয় তদারকি করা এবং এরসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে কাজ করবে কমিটির সদস্যরা।

পিডিবি সূত্র বলছে, কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রর তিনটি ইউনিট একসঙ্গে চালানো হলে প্রতিদিন পাঁচ হাজার মেট্রিকটন কয়লার দরকার হয়। এখন একটি ইউনিট সংস্কারের জন্য বন্ধ থাকায় প্রতিদিন চার হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হচ্ছে।নতুন করে কয়লা তোলা আরম্ভ হলে প্রতিদিন অন্তত ৫ হাজার টন কয়লা তুলতে হবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু রাখার জন্য। তা কয়লা খনির নতুন শিফট শুরুর পরে সম্ভব হবে কিনা সে বিষয়েও উদ্বেগ রয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের। এ কারণে এই সংকট দূর করতেও কয়লা আমদানি করার জরুরি বলে মনে করছে পিডিবি।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে খনি কর্তৃপক্ষ জানায়, খনির শিফট পরির্ব্তনের কারণে কয়লা তোলা বন্ধ রাখা হবে। এরপর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য যথেষ্ট কয়লা আছে বলা হলেও পরে দেখা যায় মাত্র ১০ হাজার টন কয়লার মজুত আছে।এরপর কয়লা অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময় খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল,একটি স্তরের কয়লা শেষ করে অন্যস্তরের কয়লা তোলা হয়।এ সময় খনির ভেতরে যন্ত্রাংশের স্থান পরিবর্তন করতে হয়। এই কাজ গত ২৯ জুন থেকে শুরু হয়েছে। কাজ শেষ করতে করতে আগস্ট মাস পুরোটা লাগতে পারে। সে হিসেবে সেপ্টেবর মাস থেকে আবার কয়লা উত্তোলন শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।সর্বশেষ এই খনির ১২১০ নম্বর ফেইজ থেকে দিনে প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন করে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছিল।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ