প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্জিত হয়নি চাষের লক্ষ্যমাত্রা কমবে ফলন, বাড়বে পাটের দাম

মতিনুজ্জামান মিটু : অর্জিত হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। এবার কমবে ফলন, বাড়বে পাটের দাম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের আট লাখ পাঁচ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্য নিধারণ করা হয়। বর্তমানে পাট রয়েছে ছয় লাখ ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে। গত ২০১৭-১৮ মৌসুমে সাত লাখ ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে পাট হয়েছিল ৮৮ লাখ ৯৪ হাজার বেল।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার কারণ তুলে ধরে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (কৃষি) ড. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, লাগাতার বৃষ্টিপাতে জমিতে ‘জো’ না থাকায় চাষিদের অনেকে এবার পাট বুনতে পারেননি। তাই পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রা। অর্জিত হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার শতকরা ৮০ ভাগ। এই হিসেবে চলতি মৌসুমে দেশে ৭২ লাখ বেল কাঁচা পাট উৎপাদন হতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রজনন বিভাগের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আল-মামুন বলেন, উৎপাদন কম হওয়ায় এবার বাজারে পাটের দামও বেশি হবে। গত মৌসুমে দেশের বাজারে কাঁচা পাট বেচা কেনা হয়েছিল মণ প্রতি ১৬০০ থেকে ২৪০০ টাকায়। বেশ কয়েক বছরের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বলা যায়, যে বছর উৎপাদন এবং ফলন বেশি হয় সেবার কৃষক পাটের দাম পায়না। এতে উৎসাহ হারিয়ে কৃষক পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, বাড়ে বাজারে পাটের দাম। এটা জেনে নতুন উদ্যোমে কৃষক আবারও বেশি করে পাট ফলান, কমে যায় দাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক পাট চাষ সংশ্লিষ্টদের অনেকে জানান, শুধু সময় মতো জো না থাকায় দেশে এবার পাট চাষ কম হয়েছে একথা পুরোপুরি ঠিক নয়। বিগত মৌসুমে উচিত দাম না পাওয়ার কারণেও এবার পাট চাষের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়েছে। উৎসাহ নিয়ে কৃষক পাটের দাম না পেয়ে হতাস হন। কমে পাটের উৎপাদন, বাড়ে দাম-এ খেলা চলছে নিরন্তর।

অভিজ্ঞরা জানান, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও দেশের মানুষের অতি প্রয়োজনীয় ধান উৎপাদনের জন্য ছেড়ে দেয়ায় প্রতি বছর পাটের জমি কমছে। প্রথম ও দ্বিতীয় নয়, বেশ কয়েক বছর ধরে দেশের তৃতীয় শ্রেনীর জমিতে হয়ে থাকে পরিবেশ বান্ধব পাট চাষ। এছাড়া পাট চাষের জন্য নেই সরকারের কোনো প্রণোদনা। উদ্বেগজনক হারে কমছে পাট পচানো বা জাগ দেয়ার প্রয়োজনীয় জলাশয়। এই সঙ্গে রয়েছে সঠিক বীজের অপ্রতুলতা ও পাট চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ