Skip to main content

প্রযুক্তির কারণে চলচ্চিত্র ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে!

মহিব আল হাসান: ঢাকাই চলচ্চিত্রে বর্তমানে মন্দাভাব বিরাজ করছে। বিগত দশবছর থেকে ঢাকায় সিনেমা মুখ থুবরে পড়ছে। দেশের ১২০০ সিনেমা হল থেকে বর্তমানে হল সংখ্যা প্রায় ৩০০টির মতো, বিশেষ উৎসব হলে আরও ৫০ টির মতো হল চালু হয়। বাংলাদেশে বিগত ত্রিশবছর, বছরে সিনেমা নির্মাণ হতো একশত থেকে দেড়শতাধিক বর্তমান বছরগুলোতে সিনেমা নির্মাণ হয় অর্ধশতেরও কম। অনেকে ধারণা করছেন সিনেমার হল সংখ্যা কমার কারণে ছবির সংখ্যাও কমে গেছে। কেউ কেউ দাবি করছেন চলচ্চিত্রের শিল্পী সংকট, গল্পের কারচুপি আবার প্রযুক্তির প্রভাবের কারণে চলচ্চিত্রের বেহাল দশা। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন,‘বাংলা চলচ্চিত্রের ধ্বংস হচ্ছে এর কারণ অনেক কিছুই। আশির দশকের কথা বললে মানুষ অনায়াশে সিনেমা হলে যাওয়ার কথা বলবে। কারণ মানুষের বিনোদনের তখন একমাত্র মাধ্যম ছিলো সিনেমা হল। তখনকার সময়ে ,নায়করাজ রাজ্জাক-কবরী, রহমান-আনোয়রা, বুলবুল আহমেদের মতো অভিনয় শিল্পীরা ছিলেন। পরর্তীতে সোহেল রানা, সোহেল চেীধুরী, জসিম, মান্না, ইলিয়াস কাঞ্চন, রুবেল, দিতী, চম্পা, জাফর ইকবাল, মেীসুমি, শাবনূর এবং সালমান শাহের মতো তুখোড় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ছিল। বর্তমানে এই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কোন রকম বিকল্প তৈরি না হওয়ায় ঢাকাই সিনেমা থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। চলচ্চিত্রবোদ্ধরা বলছেন,‘ ৯৫ সালে বাংলাদেশে ডিস সংযোগ আসলে সারা বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বিনোদনের একটা জায়গা তৈরি করে। দিনদিন প্রযুক্তির প্রসারে সিনেমার ব্যবসার কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন হতে থাকে। প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসে মানুষ পৃথিবীর সকল সিনেমা উপভোগ করছে। নিম্মমানের চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং চলচ্চিত্রের অশ্লীলতার কারণে প্রেক্ষাগৃহ থেকে দর্শক হারিয়ে যেতে শুরু করে। সাধারণ দর্শকেরা বলছেন, ‘সিনেমা দেখার জণ্য একটা বিশেষ গল্পের প্রয়োজন হয়। সেই গল্পের ছবি এখন বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে না। এখনকার নির্মাতারা যেসব সিনেমা তৈরি করেন তাতে নিজস্ব সংস্কৃতি থাকেনা। বিভিন্ন দেশের ছবি মিশ্রণে নিজেদের সংস্কৃতি বিলুপ্তি ঘটিয়ে সামজস্যহীন সিনেমা তৈরি আজ সিনেমা হলে দর্শকেরা যাচ্ছে না। ’ মোহাম্মদ রিয়াজ নামে একজন সাধারণ দর্শক বাংলা সিনেমার প্রসঙ্গে বলেন, সিনেমা দেখতে খুব একটা সময় হয় না। তবে ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা জাগলেও যাওয়া হয় না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি সিনেমা আমাদের সংস্কৃতিতে না হয়ে অন্য সংস্কৃতির ছবি বানিয়ে সে ছবিতে আইটেম গান দেওয়া হচ্ছে। এই গানটিতে আইটেম কন্যার খোলামেলা নাচ পরিবারের সকলকে নিয়ে দেখা সম্ভব নয়। একারণে অনেক সিনেমা প্রেমীরা হলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও রাবি চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি ড. সাজ্জাদ বকুল বলেন, ‘বর্তমানে বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শক কমেছে। বাংলাদেশের শিল্পী সংকট, গল্পের অভাব ও হলগুলোর নোংরা পরিবেশ এ জন্য দায়ী। চলচ্চিত্রে এখন ভারতীয় আগ্রাসন আর আমাদের দেশের শিল্পীদের সঠিকভাবে ব্যবহার না করার জন্য দিন দিন এ শিল্পটি তার পুরনো ঐতিহ্য হারাতে বসছে। কর্তৃপক্ষের দেখভালের করলেও আরাও ঘুড়ে দাঁড়াবে চলচ্চিত্র শিল্প।