প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনকালীন সরকার; আলোচনায় অলি আহমেদ-রব-কাদের সিদ্দিকী-সেলিম

আবুল বাশার নূরু : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারে কারা থাকছেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান মহাজোট শরিক ছাড়াও সমমনা একাধিক দলের প্রতিনিধিও থাকতে পারেন নির্বাচনকালীন সরকারে। এলডিপি প্রধান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জেএসডি প্রধান আ স ম আব্দুর রবকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জণ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) নেতাদের সঙ্গে। সিপিবি কার্যালয়ে গিয়ে দলটির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের। বুধবার ওবায়দুল কাদের বৈঠক করেছেন কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে। সিপিবি ও কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও ওবায়দুল কাদের মোবাইলে একাধিকবার কথা বলেছেন কর্নেল অলি আহমেদ, আ স ম আব্দুর রব ও বাসদ সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামানের সঙ্গে। এছাড়া সাবেক বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমূল হুদার সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের সপিবি’র সঙ্গে বৈঠককে সৌজন্য বৈঠক বলে মন্তব্য করেছেন। সিপিবিও দাবি করেছেন এটি ছিল সৌজন্য বৈঠক। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলেন, সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনা এবং নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় রাখার উদ্দেশ্যেই নানামূখী চেষ্টা চলছে। সকল দলের অংশ গ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চায় আওয়ামী লীগ।

দশম সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপিকে আনতে প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপিকে একাধিক মন্ত্রণালয় দেওয়ার কথাও বলেছিলেন শেখ হাসিনা। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি ফোন করেছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলের নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার অক্টোবরে গঠিত হতে পারে। তবে সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার বা অন্তকালীন সরকারের কোনো বিধান নেই।

সংবিধান অনুসারে, বিদ্যমান সরকার ক্ষমতায় থাকতেই পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে গেলেও সরকারের ওপর তার প্রভাব পড়বে না। সংবিধানের ৫৭ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধীকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোনোকিছুই অযোগ্য করিবে না।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, যিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি নতুন একজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত স্বপদে বহাল থাকবেন। সংবিধান অনুসারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বপদে বহাল রেখেই নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করবে। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি তার সরকারের মন্ত্রিসভার ক্ষেত্রেও একই বিধান।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। বিদ্যমান সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন সহয়তা করবে। নির্বাচনের সময় সরকারের আকার ছোট করা বা কেবল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠন করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, সংবিধানে অন্তবর্তকালীন বা সহায়ক সরকার বলে কোনো বিধান নেই। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের সময় বর্তমান সরকারই ক্ষমতায় থাকবে। আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক স, ম রেজাউল করিম বলেন, অন্তবর্তীকালীন বা নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো বিধান সংবিধানে নেই। নির্বাচনের সময় বর্তমান সরকারই স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবে। বর্তমান সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। নির্বাচনের সময় সরকারের আকার ছোট হবে না বড় হবে এ বিষয়ে সংবিধানে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ