প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এলএনজি খালাস না করায় পেট্রোবাংলাকে ক্ষতিপুরণের চিঠি এক্সিলারেট এনার্জির

বিশ্বজিৎ দত্ত : দেশের প্রথম আমদানি করা এলএনজির জাহাজ মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নোঙর করে আছে। কিন্তু সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে দেড় মাসেও প্রথম কিস্তির এলএনজি সরবরাহ হয়নি। এতে প্রতিদিনই অপচয় হচ্ছে গ্যাসের। অপচয়ের পাশাপাশি পরিচালন বাবদও আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে পেট্রোবাংলাকে। প্রতিদিন এই ক্ষতির পরিমাণ ৪০ লাখ টাকা। এ হিসাবে ৩ মাসে এলএনজি বাবদ পেট্রোবাংলার ক্ষতি হয়েছে ৩৬ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, এলএনজি জাহাজে বহনকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি সময়মতো এলএনজি খালাস না করতে পেরে পেট্রোবাংলাকে ক্ষতিপূরণের চিঠি দিয়েছে। তারা তাদের এলএনজি সরবরাহ চুক্তিতে প্রতিদিন যে ২ কোটি টাকা দেয়ার কথা ছিল তা বৃদ্ধি করার জন্য বলেছে। তারা বলেছে, সময় মতো এলএনজি জাহাজ থেকে খালাস না করায় এটি ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ি ক্ষতিপূরণ।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি কোম্পানি কাতার থেকে এলএনজি বাংলাদেশে আনা বাবদ এক বছরে জাহাজ ভাড়া পাবে ৭২০ কোটি টাকা। এরমধ্যে প্রথম চালান খালাস করতেই ৩ মাস চলে গেছে। বাকি এলএনজি এই দেরির কারণে সময় মতো সরবরাহ করতে পারবে না। সময়মতো সরবরাহের জন্য তাদের বাড়তি জাহাজ ভাড়া দিতে হবে। বলে জানিয়েছে এক্সিলারেট কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, অবকাঠামো তৈরি না করেই অতি উৎসাহে এলএনজি আমদানি জনগণের অর্থের অপচয়। বভিষ্যতে এলএনজির মূল্য বৃদ্ধি করে পেট্রোবাংলা তাদের ক্ষতিপূরনের চেষ্টা করবে। তাতেও জনগণেরই ক্ষতি হবে।

তবে পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিশনিং কার্গো বসিয়ে রাখার কারণে বয়েল-অফ গ্যাস ও পরিচালন ব্যয় বাবদ সংস্থাটির প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া কমিশনিং কার্গোর পর ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী যেসব জাহাজ আসার কথা, সেগুলো না আসার কারণেও গ্যাস ব্যবহার ছাড়াই ব্যয় বহন করতে হবে।
এলএনজির প্রথম কিস্তি নিয়ে গত ২৪ এপ্রিল কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৌঁছায় কমিশনিং কার্গো। গত ১২ মে পাইপলাইনের মাধ্যমে এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তু এফএসআরইউ থেকে জিরো পয়েন্ট তথা জাতীয় গ্রিডের আগ পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশে ছিদ্র দেখা দেয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এরপর পুনরায় সরবরাহের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৬ মে। এ সময়ের মধ্যেও ত্রুটি মেরামত না হওয়ায় ৯০ দিন ধরে সাগরে নোঙররত অবস্থায় বসে আছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ ঘনমিটার (৬০ হাজার ৪৭ টন) এলএনজিবাহী জাহাজটি।

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, শিল্প ও আবাসিকসহ বিভিন্ন খাতে দেশে গ্যাসের চাহিদা বর্তমানে দৈনিক ৪০০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৭০ কোটি ঘনফুট। ফলে ঘাটতি থাকছে ১৩০ কোটি ঘনফুট। এ সংকট সামাল দিতে এলএনজি আমদানির এ উদ্যোগ। এ লক্ষ্যে একটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ ও ব্যবহার বিষয়ে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে পেট্রোবাংলা ও যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির মধ্যে চুক্তি হয়। এরই মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণ শেষ করেছে এক্সিলারেট এনার্জি। ওই টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

গ্যাস সরবরাহের জন্য মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। আনোয়ারা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করবে। আনোয়ারায় একটি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গা হয়ে আরো একটি গ্যাস পাইপলাইনে ফৌজদারহাট পর্যন্ত যাবে এলএনজি গ্যাস। ফৌজদারহাট থেকে চট্টগ্রামের উদ্বৃত্ত গ্যাস নেয়া হবে জাতীয় গ্রিডে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ