প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রামে নগরীর অধিকাংশ মানুষ বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বন্দি

মো. শহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ৬ দিন ধরে পানিবন্দি নগরীর অধিকাংশ এলাকার মানুষ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কয়েক দফায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর, চান্দগাঁও ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এতে ওই এলাকায় বসবাসকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল ও ড্রেন পরিষ্কার না করায় গতবছরের চেয়ে এবার নিচু এলাকায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বেশি উঠেছে। গতকাল আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সড়ক, বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে।

এলাকায় বসবাসকারীরা রিক্সা করে চলা করছে। ৬ দিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণ তুলে ধরে শকওত ওসমান নামের এক ব্যবসায়ী জানান, ভারী বৃষ্টি হলেই আমরা পানিবন্দি হয়ে পড়ি। সেই সঙ্গে জোয়ারের পানি আসলে তো আরও ভোগান্তি বেড়ে যায়। এই সময় ঘর থেকে বেড় হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এলাকার ড্রেনগুলো সব ভরাট হয়ে আছে। পরিষ্কার করা হচ্ছে না দীর্ঘদিন। তাই বৃষ্টি বা জোয়ারের পানি আসলে তা সহজে নামতে পারছে না। ক’দিন ধরে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিবন্দি হয়ে আছি। দেখার যেন কেউ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।

আয়েশা আকতার নামে হালিশহর এলাকার এক গৃহিনী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি থাকায় পরিবারের সবাই বন্দি হয়ে পড়েছি। এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে পরিবারের সবাই অসুস্থ হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা ও দেখা দিয়েছে।

এতে পাহাড়ের পাদদেশে বাসবাসকারী নিম্ম আয়ের মানুষরা মৃত্যু ঝুকির আতঙ্কে রয়েছে। তাই ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসে দুর্ঘটনা ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় গত রবিবার সকাল থেকে নগরীর বাটালি হিল, মিয়ার পাহাড়. একে খান ও আমিনজুট মিল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি জানান, প্রশাসনের নির্দেশনায় মাইকিং করে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের সরে যেতে বলা হয়েছে। যেহেতু ভারী বর্ষণ হচ্ছে, সেহেতু পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। যেকোন দুর্ঘটনা ঠেকাতে আগাম প্রস্ততি হিসেবে তাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মহানগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে নালা-খাল জলাশয় সংস্কার-নির্মাণের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার যে মেগা প্রকল্প শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে- তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নগরীর বিভিন্ন সংস্থাকে সমন্বয় করে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির মেগা প্রকল্প চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হাতে নেওয়ায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও এই দায় নিজ কাঁধে নিতে চাইছে না বলে দৃশ্যমান হচ্ছে।

চট্টগ্রামের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় এবার জলাবদ্ধতাজনিত দুর্ভোগের দায় তার কাঁধে নেই বলে আভাস দিয়েছেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি শুরু করতে পারেননি বলে নগরীর বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে।

ইতোমধ্যে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল- চট্টগ্রামে চলতি বছরের মে থেকে শুরু হওয়া মেগা প্রকল্পের কারণে জনগণ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্ত থাকবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ