প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাশরাফি-সাকিবরা ক্রিকেটের এক অদ্ভুত আইনের শিকার!

স্পোর্টস ডেস্ক: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হারের জন্য কাঠগড়ায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানেরা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য মাত্র ৮ রান তুলে নিতে পারেননি তারা। কিন্তু যদি বলা হয়, অদ্ভুতুড়ে এক নিয়মের জন্য বাংলাদেশ এই ম্যাচে হেরেছে! হারের ব্যবধানটা ৩ রানের হওয়ায় ব্যাপারটা বারবার সামনে চলে আসছে!
অদ্ভুতুড়ে নিয়মটা একদিন বিতর্ক ছড়াবেই।

চার বছর আগে ক্যান্ডিতে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে। একটি ডেলিভারি তার প্যাডে লেগে বাউন্ডারি হয়। প্রোটিয়াদের লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুল তোলেন মাঠের আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেন জয়াবর্ধনে। তবে লেগবাই হিসেবে সেই বাউন্ডারির ৪ রান শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডে যোগ হয়নি। ব্যাপারটা অদ্ভুত না?
শ্রীলঙ্কা সেই ম্যাচটা জিতেছিল। তাই হয়তো অদ্ভুতুড়ে এই নিয়ম নিয়ে তখন কেউই মাথা ঘামায়নি। কিন্তু কোনো দল এই নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে যদি মাত্র ৩ রানে ম্যাচ হারে, তাহলে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায়!
আজ গায়ানায় দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ অল্পের জন্য হেরে গেছে। এ ম্যাচে শেষ ওভারে ৮ রান তুলতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এ নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু অনেকেরই হয়তো চোখ এড়িয়ে গেছে, আজ যে একটি বাউন্ডারির ৪ রান যোগ হয়নি বাংলাদেশের হিসাবে।
বাংলাদেশের ইনিংসের ৪২.৩ ওভারের ঘটনা সেটি। দেবেন্দ্র বিশুর বলে রিভার্স সুইপ করেছিলেন মুশফিক। সাদা চোখে মনে হয়েছে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। কিন্তু বলটা ঠিকই বাউন্ডারির সীমানা পেরিয়ে যায়। এদিকে ক্যারিবীয়দের লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুল তুলে দেন মাঠের আম্পায়ার। সিদ্ধান্তটা মনোনীত না হওয়ায় রিভিউ নেন মুশফিক। ‘আলট্রা এজ’ প্রযুক্তিতে দেখা যায়, বলটা তাঁর ব্যাটে লেগেছিল। মানে তার ব্যাটে লেগেই বল সীমানাছাড়া হয়েছিল। কিন্তু মুশফিক কোনো রান পাননি।
আইসিসির আইনের ২৩ নং ধারার ১-এর তৃতীয় উপধারায় আছে, আম্পায়ার আউট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলটি ‘ডেড’ হয়ে যাবে। অর্থাৎ তখন ওই ডেলিভারি থেকে ব্যাটসম্যান কোনো রান পাবেন না। মুশফিকের ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই ঘটেছে। প্রথম সিদ্ধান্তটি ‘আউট’ থাকায় ওই ৪ রান আর যোগ হয়নি। যদি রিভিউয়ের মাধ্যমে পরে সিদ্ধান্তটি ভুল প্রমাণিত হয়, সে ক্ষেত্রে কী হবে, সেটি কিন্তু আইনের কোথাও লেখা নেই।

আক্ষেপটা তাই থেকেই যাচ্ছে। ওই ৪ রান যোগ হলে বাংলাদেশ তো ম্যাচটা জিতত, মানে সিরিজও জিতত! সেটি না ঘটলেও ব্যাপারটি কিন্তু বিশ্লেষকদের দৃষ্টি এড়ায়নি। ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদ রজনীশ গুপ্ত তার ভেরিফাইড টুইটার অ্যাকাউন্টে মন্তব্য করেছেন, ‘ওই ৪ রান খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আম্পায়ার আউট দেওয়ার জন্য যা মুশফিকুর রহিম পাননি। ডিআরএসের মাধ্যমে সিদ্ধান্তটা পাল্টানো হয়েছে। কিন্তু মুশফিক তো আর বাউন্ডারিটা পাননি। ক্রিকেটীয় আইনের এই প্যাঁচ একদিন বিতর্ক তুলবেই।’ প্রথমআলো

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত