প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খান সাহেব ধানমন্ডিবাসী

ফেসবুক পোস্ট: খান সাহেব ধানমন্ডিবাসী। সে জন্ম থেকে ঐ এলাকায় বড়।আবাহনী মাঠ তার খেলার মাঠ।শেখ কামাল তাকে খুব আদর করতো তার নাদুস নুদুস গোল মাটল চেহারার জন্য জুনিয়র থাকায় শেখ রাসেল তাকে খেলায় নিতো না।তুই বাদ। যা ভাগ।তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এর বড় ছেলে আঙুল ধরে সে প্রায় তাদের বাসায় যেতো মজার মজার নাস্তাও খেতো।দারুন একটা লোক ছিলো শেখ কামাল।

এটা তার শিশু কালের স্মৃতি এবং গর্বও।ওকে আমি বসে বসে শুনি আর হাই তুলি।বড় মানুষের পিছে আমি কি শৈশবেও হাটতাম? মনে নেই।অনেক সেলেব যারা ধানমন্ডিবাসী তাদের সে শৈশব থেকে চিনে।তাদের এলাকা হেন তাদের এলাকা তেন।বিয়ের পর আমি গিয়ে উঠলাম তাদের এলায়ায়।হায় একেমন এলাকা।বিশাল বিশাল গলি গুলো সব শান্ত।কোন ছোটাছুটি চেচামেচি নাই।জায়গায় জায়গায় ফেরিওয়ালা নাই।সকালে দু’একটা ডাক কানে এলেও দুপুরের পর থেকে সব নিরব।

কেও কাওকে পুছে না। মেয়েগুলি হাই হিল জুতা পরে গট গট করে হেটে গাড়ীতে বসে।ছেলে গুলো হুসহাস বাইক নিয়ে দৌড়ায়।দেখতেও সব সেই রকম।একদম মাখন-মালাই।তাদের স্কিন পাতলা ঠোট, কালার করা চুল, দামি পোশাক।ওদের মাঝে এলো মেলো আমি,চুল খোলা পাগলী, টিপ পড়া ম্যাতরানি,শান্তিনিকেতনী ঝোলা ব্যাগ কা ওখানে বাজারের থলি, পায়ে কলাপুরী, হাতে আজগুবি সব আইম্যান, নাহ টোটাল বেমানান।

২৭ নাম্বার নামে এক জায়গা আছে দুনিয়ার খানার দোকান। সেকি দোকান সব। দোকানে ঢুকলেই মনে হয় সেন্ডেল খুলে হাতে নিয়ে নেই।তোমরা সন্ধ্যায় পুরি খাও না?
খাই।
তো কই পুরির দোকান?
আছেতো।
রায়ের বাজারের দিকে পুরির দোকান আছে। আমি আনবোনে। লাগবেনা । এক টাকা দামের পুরির জন্য দশ টাকা রিক্সাভাড়া দেয়ার কি দরকার।

নান খাও, কাবাব খাও, ইন্ডিয়ান ফুড আছে দেখো খুব মজা। এসব খাও। দেখো কত সুন্দর মোবাইল রেস্টুরেন্ট সাজানো। সব ইন্ডিয়ান ফুড বেঁচে এখানে।চলো সুপ খেয়ে আসি
সন্ধ্যায় রাতের খানা খাবো?
কেবল সুপ খাবো। আর কিছু না
এরা খালি সুপ খেতে দেবে? অন্য কিছু অর্ডার না করলে যদি বেঁধে রাখে।
কিসব কথা এগুলো। তুমি না ঢাকার মেয়ে?
হ্যা। তবে এই ঢাকার নয়। এটা বিত্তবানদের এড়িয়া।আমরা মুল ঢাকার মানুষ।যেখানে একই রাস্তায় চাইনিজ এর দোকান আবার পুরির দোকান দুটাই আছে। যেখানে গলি গুলো সুড়ু থাকলেও পোলাপান তাতেই ক্রিকেট খেলে দু চার বাড়ীর জানালার গ্লাস ভাঙ্গে।যেখানে হকার আর ফেরিওয়ালা সারাদিন হাকডাক করে।যেখানে ঘন্টায় ঘন্টায় দরজার কড়া নেরে পরিচিত ভঙ্গিতে ভিক্ষুক ভিক্ষা চায়।

যেখানে দুপুর হলেই মা এরা মেঝেতে বালিস পেতে শোয়। আর তার বাচ্চারা মায়ের শরীর টাকে বর্ডার লাইন বানিয়ে দুদিক থেকে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলে।তাতে মাএর ঘুমের কোন ব্যঘাত ঘটেও না। যেখানে কিশোরী ছাদে উড়ার বাহানা খুজে পাশের বাড়ী ছেলে টাকে এক নজর দেখবে বলে। যেখানে বৃস্টি হলে রাস্তায় ছোট ছোট পোলাপান নাচানাচি করে বৃস্টিতে ভেজে।যেখানে পথচাড়ী পান দোকানের প্লাস্টিকের শেড এ জমে থাকা বৃস্টির পানিতে ছাতির মাথা দিয়ে খোচা দেয়। আর সেই পানিতে পা এর কাদা ধোয়।আমি সেই ঢাকার মেয়ে। টিপিকাল মধ্যবিত্ত।দেখো আমিও মধ্যবিত্ত।তবুও তোমার গায়ে সরা সরা গন্ধ।স্বাভাবিক। এলাকাটাই এমন। এসব দেখেই অভস্ত।
আমি এসবে অভস্ত হতে চাই না। ফেরিওলার সাথে দরদাম করে সবজি কিনবো। সন্ধ্যা ভাই এরা দৌড়ে হেটেল থেকে পুরি কিনে আনবে। দুপুরের সালমানের সপ্ন রেখে ঘুম ঘুম চোখে ফকির কে ভিক্ষা দিবো সাথে শাসানি আবার যদি দুপুরে আসস তো দেখিস কি করি।
আমি ঐ জীবনে অভস্ত এটা আমার জীবন নয় গো।উফফফ…

শাশুড়ী গত হবার দু মাসের মধ্যেই আমি আমার এলাকায় বাসা ভাড়া করে চলে আসি। মাত্র দু বছর ছিলাম ঐ এড়িয়ায়। না আমি তাদের মত হতে পারিনি।

আজ ১৬ বছর খান সাহেব আমাদের এড়িয়ায় থাকে। না সেও আমাদের মত হতে পারেনি। মাঝরাতে বাড়ী ফিরে বেলা করে বেড় হয়।সবাই তাকে চেনে। সে কাওকে চেনে না।জামাই সে এখনও আমাদের পাড়ায়। কেও তাই তাকে ঘাটায়ও না।

লেখাটি ‘রোকসানা ইসলাম খান’র ফেসবুক থেকে নেয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত