প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরিত্যক্ত শিশু থাকলেও সন্তান দত্তক নিতে হয়রানিতে নিঃসন্তান দম্পতি

হ্যাপী আক্তার : সমাজ কল্যাণের ছয়টি বিভাগে শিশু আশ্রয় কেন্দ্র পরিত্যক্ত শিশু রয়েছে প্রায় ৩’শ জন। তারপরেও অভিভাবক আইনে পরিত্যক্ত শিশুদের দত্তক নিতে গিয়ে অনেক নিঃসন্তান দম্পতিকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিভাবকত্ব আইনটি ভালোভাবে না জানার কারণেই এ অবস্থা। এছাড়া কয়েকটি ধর্মে দত্তক আইন না থাকার কারণে শিশুর অভিভাবকত্ব গ্রহণ আরো জটিল হয়ে পড়ে বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা।

গত ছয় মাসে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ছয়টি পরিত্যক্ত শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে এসকল শিশুকে সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। সারা দেশে সমাজ কল্যাণের ছয়টি বিভাগে শিশু আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। যার প্রতিটি শাখায় ৫০ জন করে পরিত্যক্ত শিশু রয়েছে।

ঘর ভর্তি শিশুদের এই হরেক রকমের খেলনার আয়োজন করেছেন রানা এবং শিখা নামের দম্পতি। নি:সন্তান এই দম্পতির এতকিছু আয়োজন একটি শিশুর বাবা – মা হতে পারারা প্রত্যাশায়। কিন্তু তারা পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে যখন পরিত্যক্ত একটি শিশুকে নিজের সন্তান হিসেবে নিতে যান তখন নানাভাবে হয়রানি হতে হয় তাদের। যেকারণে এখনও শূন্য তাদের কোল ।

শিখা বলেছেন, ডাক্তারি কাগজসহ সব কোর্টে দেওয়া হয়েছে। বাচ্চাটা পাওয়ার সব আশা দিয়েছিল। কিন্তু এত কিছু করার পরও বাচ্চাটা দিল না।
শিখার স্বামী রানা বলেছেন, বাচ্চা দত্তক দেওয়ার জন্য যে আইন তা যদি আরেকটু সহ হতো তাহলে আমাদের মতো যে আরো দম্পতি রয়েছে তাদের কোল জুড়ে সন্তান থাকতো। শত চেষ্টার পরও তাদের মতো আরো অনেক দম্পতিরই শোনা হয়নি বাবা- মা ডাক।

আরেক দম্পতি জানান, বাচ্চাটা আমি পেয়েছিলাম, তাই বাচ্চাটা কেমন আছে সেটা জানার অধিকারও আমার আছে। আমরা কোর্টে যাই, যে বাচ্চাটি আমি পেয়েছিলাম তার জন্য অনেক দৌঁড়াদৌড়ি করলাম কিন্তু পেলাম না।

এদিকে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,আইনী জটিলতায় নয় বরং আইন না জানার কারণেই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি’র সভাপতি ফৌজিয়া করিম ফিরোজ বলেছেন, ‘অজ্ঞতার জন্য হয়রানি এবং অনেক সময় আপনি বোঝেন না আপনি হয়রানি হচ্ছেন। যদি এটা সিস্টেমের দোষ। এটা আইনের দোষ নয়। অনেক আইজীবী আছেন, যারা অনেক ছোট জিনিসকে বড় করেন। যদি মনে হয় আপনার আইনজীবী আপনাকে ভোগান্তি করছে তাহলে তার নামে বারকাউন্সিলারে অভিযোগ করতে পারেন।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার চেয়ারম্যান সিগমা হুদা বলেছেন, কিছু আইন আছে যেটাতে দত্তক নেওয়া যেতে পারে। হিন্দুদের ক্ষেত্রে দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে আইন আছে। যা ইসলাম ধর্ম ও খ্রিস্টান ধর্মে নেই। অভিভাবকত্ব নয় বরং এসব শিশুকে দত্তক নেওয়ার আইন প্রণয়ন করা গেলে তবে তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যেত বলে মনে করেন তিনি।   সূত্র : সময় টেলিভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ