প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি নেতাদের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা নতুন নয়

সজিব খান: সম্প্রতি মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বেশকিছু রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়াতে অনেকটা বেকায়দায় পড়ে গেছে দলের নেতাকর্মীরা। কাউকে কাউকে যেতে হয়েছে কারাগারে। একইসাথে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা এভাবে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক কৌশলেও মার খাচ্ছে তারা। বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মুঠোফোনে ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জার-হোয়াটস্ অ্যাপ ব্যবহার করে তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

গত ১৭ জুলাই রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগকালে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ইন্টারনেটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তাইফুল ইসলামের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। যেখানে দুজনের কথায় স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায়, তারেক রহমানের কাছ থেকে ক্রেডিট ও আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর জন্য শান্ত মনোরম গণসংযোগে এ বোমা হামলা চালানো হয়। পরে ওই ফোনালাপের সূত্র ধরেই মন্টুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। যেখানে উঠে আসে দলীয় একাধিক নেতার নাম। যদিও এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিএনপির ওপর দায় চাপাচ্ছে। যে অডিও ক্লিপটি বের হয়েছে সেটা নকল, এডিট করা।

তবে বিএনপি নেতাদের এমন ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা নতুন নয়।  এর আগে ফোনালাপের জের ধরেই ফাঁস হয়ে যায় গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আ.লীগের ব্যাচ পরে বিএনপির ‘নাশকতার’ পরিকল্পনা। ধরা পড়েন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তার আগে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে দেশের বাইরে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মামুন আহমেদের ফোনালাপ ফাঁস হয়। তারেক রহমানের ফোনালাপ  ফাঁস হওয়ার পর অভিযোগ উঠে কোটা সংস্কারে আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরের তীব্র চেষ্টা ছিল একটি মহলের।

এর আগের বছর তারেক রহমান ও শমসের মবিন চৌধুরীরও ফোনালাপ প্রকাশিত হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট রইস উদ্দিন রইসের কথোপকথন ফাঁস হয়। যেখানে উঠে এসেছিল ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ না করা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাসহ দলের বিভিন্ন দুর্বল দিকসহ নানা প্রসঙ্গ।

ফাঁস হয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের ফোনালাপ। যেখানে সিটি করপোরেসন নির্বাচন বর্জন সংক্রান্ত কথা হয় দলটির এক কর্মীর সঙ্গে। এ ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের এক ফোনালাপ ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া ফোনালাপের এক পর্যায়ে মওদুদ আহমেদ বলেন, শোনো (আবেদ) এই বিএনপিকে দিয়ে হবে না। এর আগে সাদেক হোসেন খোকা ও মাহমুদুর রহমান মান্নার একটি ফোনালাপে তোলপাড় হয় রাজনৈতিক অঙ্গন।

সূত্র জানায়, পর পর এসব ঘটনায় বেশ বিব্রত দলটির সিনিয়র নেতারা। গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপানে থাকা নেতারা মোবাইল হ্যাকিংয়ের ভয়ে পরিবার পরিজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন না। তাদের ধারণা- তাদের নিজস্ব নম্বর ছাড়াও পরিবারের সব সদস্যদের নম্বর মনিটরিং করা হচ্ছে। যার ফলে বিভ্রান্ত হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। সূত্র: ভোরের কাগজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ