প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গাজীপুরে শিল্পে ফের ভয়াবহ গ্যাস সংকট

ডেস্ক রিপোর্ট: আবারও চরম আকার ধারণ করেছে গাজীপুর, শফিপুর, কোনাবাড়িসহ আশপাশের শিল্পকারখানার গ্যাস সংকট। সাধারণত জেনারেটর বা বয়লার চালানোর জন্য পোশাক কারখানাগুলোয় ১৫ পিএসআই চাপের গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু কয়েক দিন ধরে এ চাপ ২-৩ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এ চাপে কোনোভাবেই গ্যাস চালিত মেশিন চালানো যাচ্ছে না। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সকালের দিকে। বিকাল থেকে চাপ কিছুটা বাড়লেও তখন কিছুই করার থাকে না। খবর: যুগান্তর

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, কয়লার অভাবে বড়পুকুরিয়া খনিসংলগ্ন ৫২৫ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় সংকট মোকাবেলায় বেশ কয়েকটি গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করতে হয়েছে। গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্যাস কাটছাঁট করে সোমবার থেকে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ৮০ মিলিয়ন অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর প্রভাবে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকার শিল্প কারখানায় গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। পেট্রোবাংলার ওই কর্মকর্তা বলেন, এ সংকট আরও কমপক্ষে ১ মাস অব্যাহত থাকবে। বড়পুকুরিয়া থেকে কয়লা উৎপাদন শুরু না হলে এ সংকট দিন দিন আরও বাড়বে। তবে তিনি বলেন, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আমদানিকৃত এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি মঙ্গলবার জানিয়েছে, ৮ আগস্ট থেকে তারা জাতীয় গ্রিডে এলএনজি যুক্ত করতে পারবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাচালিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার নেপথ্যে কারণ হচ্ছে খনি থেকে দেড় লাখ টন কয়লা চুরি। আর এ চুরির সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা ও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা জড়িত। এর দায়ভার কেন শিল্পকারখানা মালিকরা নেবেন। কয়লা চুরির খেসারত দিতে পেট্রোবাংলা এখন শিল্পকারখানা থেকে গ্যাস কাটছাঁট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। তাদের চুরির কারণে এখন হাজার হাজার শিল্পকারখানা গ্যাসের অভাবে বন্ধ হতে চলছে।

এ এলাকার একাধিক শিল্পকলকারখানার মালিক টেলিফোনে বলেছেন, এভাবে কিছুদিন পরপর গ্যাস সংকট তৈরি করার অর্থ হচ্ছে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্র দেশের বিরুদ্ধে। এ ষড়যন্ত্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র নানা কৌশলে ও পরিকল্পিতভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার চক্রান্তে নেমেছে। নির্বাচনের আগে শিল্প মালিকদের সঙ্গে সরকারের খারাপ সম্পর্ক তৈরি করার ষড়যন্ত্র। হাতিয়ার হিসেবে তারা গ্যাস, বিদ্যুৎকে কাজে লাগাচ্ছে। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন- ১৫ দিন, ১ মাস গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, হঠাৎ করে আবার ১৫ দিন গ্যাস উধাও। এটা কিসের আলামত। তাদের মতে, সরকার যদি এ ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে না পারে, এ চক্রের মূলোৎপাটন করতে না পারে তাহলে নির্বাচনের বছরে সরকারকে বড় ধরনের বিপাকে পড়তে হতে পারে। এটা সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে।

বুধবার গাজীপুর, কোনাবাড়ি, শফিপুরসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে ও শিল্পকারখানার মালিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে গ্যাসের অভাবে দিনের বেশিরভাগ সময় শিল্পকারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এ কারণে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার পণ্য উৎপাদনে চরম বিঘœ ঘটছে। এভাবে লাভ তো দূরের কথা রফতানিমুখী বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে লোকসানের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় শিল্পমালিকদের অভিযোগ, কিছু দিন পরপর শিল্পাঞ্চল হিসেবে খ্যাত এ এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাচ্ছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর উদ্বেগ, চিঠি চালাচালি হলেও নির্বিকার সরকার।

ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীদের কয়েকজন যুগান্তরকে বলেন, গ্যাস না পেয়ে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেলের ব্যবহার বাড়ায় কারখানাগুলোয় পণ্যের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত, রফতানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোয় এ সংকট এখন চরমে রূপ নেয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রয়োজনীয় গ্যাস না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে তৈরি পোশাক কারখানাগুলো। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না থাকায় জেনারেটর ও বয়লারের মতো যন্ত্রপাতির বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল বা তেল ব্যবহার করতে হয়। এতে গ্যাসের তুলনায় খরচ পড়ে দ্বিগুণ। ভারি শিল্পকারখানাগুলোকে একই ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কোনাবাড়ী, সফিপুর ও সিনাবহ এলাকার কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৪-৫ দিন ধরে এ গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে। সন্ধ্যার পর সীমিত আকারে কিছু কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ পাওয়া গেলেও সারা দিন থাকে শূন্য। এর ফলে কোনো কোনো কারখানার একটি ইউনিট কোনোমতে চালানো সম্ভব হলেও গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় পুরোপুরি উৎপাদনে যাওয়া যাচ্ছে না।

শিল্পোদ্যোক্তাদের অভিযোগ- সাভার, গাজীপুর, সফিপুর, সিনাবহ, কোনাবাড়ী এলাকার শিল্পকারখানাগুলো কয়েক বছর ধরেই গ্যাস সংকটে ভুগছে। মাঝে মাঝে এ সংকট তীব্র হয়। গ্যাস স্বল্পতায় তারা অনেক সময়ই কারখানা চালু রাখতে পারেন না। কিন্তু গত ৫ দিন ধরে এ সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ছোট ও মাঝারি মানের অধিকাংশ কারখানাই গ্যাসের অভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ