প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘দেড় লাখ টন কয়লা হজম করার শক্তি অর্ডিনারি কারও নেই’

আশিক রহমান: দেড় লাখ টন কয়লা হজম করার শক্তি অর্ডিনারি কারও নেই বলে মন্তব্য করেছেন পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বি.ডি রহমতউল্লাহ।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বড় পুকুরিয়ার কয়লা উধাওয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতিটা এমন যেহেতু দেড় লাখ টন কয়লা, আমার হিসেবে ৫ টন ধারণা ক্ষমতার ট্রাক ধরলে ৩০ হাজার ট্রাক লাগে। একদিনেও সম্ভব না। কন্টিনিউয়াস পরিশ্রম করেও শ্রমিকেরা সেসব ট্রাকে উঠাবে না। ৩০ হাজার ট্রাকের মুভমেন্ট এত বড় ইয়ার্ডে হয়েছে, এর সঙ্গে যদি বড় কোনো কর্মকর্তা না থাকে সম্ভব না।

তিনি আরও বলেন, কী হয়েছে, সবাই তা দেখেছে। অভিযোগ করেও কোনো ফল হয়নি। লোকজন স্টেটমেন্ট দিচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে হয়েছে এটা। দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিন প্ল্যান করে কয়লা চুরি করেছে। কয়লা কেন চুরি করবে? কারণ এই কয়লার মান ভালো, বাজারে এর দামও অনেক বেশি। পিডিবিকে সাবসিডিয়ারি দেওয়া হয় টনপ্রতি এগারো হাজার টাকা। বাজারে তা বিক্রি করতে পারে টনপ্রতি ১৭ হাজার টাকা। পুরো বিক্রি করতে পারলে তো অনেক লাভ। পিডিবির কাছে বিক্রি করলে ওদের পকেটে পয়সা আসত? আসত না। এটা একটা বিরাট সাগর চুরি।

এক প্রশ্নের জবাবে বি.ডি রহমতউল্লাহ বলেন, দেড় লাখ টন কয়লা হজম করার শক্তি অর্ডিনারি কারও নেই। প্রতিষ্ঠানটির এমডিও পারবেন না। তার এত শক্তি নেই যে, আড়াইশ কোটি টাকার কয়লা চুরি করে হজম করে ফেলবে। কয়লা চুরির টাকা অনেক ভাগ হয়েছে। ওই কয়লা খনির শ্রমিক, চেয়ারম্যানও পেয়েছেন। এর বাইরে আর কে কে পেয়েছেন টাকার ভাগ বুঝে নিতে হবে আমাদের।

তিনি বলেন, হজম করার শক্তি না থাকলে আড়াইশ কোটি টাকার দেড় লাখ টন কয়লা এখান থেকে সরত না। আর একদিনে এটি হয়নি, ছয় মাসের কাজ। কাজ যখন শুরু হয় তখন একজন চোর এমডি ছিলেন। আর কাজটা যখন শেষ হয়ে যাচ্ছে, ধরা পড়বে আশঙ্কায় একজন ভদ্রলোককে ওখানে বসিয়েছে, এখন তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত করতে যাকে দেওয়া হয়েছে তিনি তো আরেকজন চোর, যার বিরুদ্ধে দুদকে মামলা রয়েছে। অডিট ও তদন্তও লোক দেখানো বলে মনে করেন এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত