প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিলেটে আচরণবিধি মানছেন না কেউই

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি মানছে না আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এমনকি এই দুই দলের মেয়র প্রার্থীদের শোকজ এবং সতর্ক করেও পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটানো যাচ্ছে না। উল্টো এই দুই প্রার্থীকে অনুসরণ করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী।

এ প্রসঙ্গে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. আলীমুজ্জামান গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সমকালকে জানিয়েছেন, একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। শোকজ, সতর্ক ও জরিমানা করেও কয়েকজন প্রার্থীর অতিউৎসাহী কর্মীদের ঠেকানো যাচ্ছে না।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন সাতজন প্রার্থী। এর মধ্যে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সিপিবি-বাসদ প্রার্থী আবু জাফর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহেরের বিরুদ্ধে গতকাল পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অন্য

চার প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

এই চার প্রার্থী আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী, জামায়াতের অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও ইসলামী আন্দোলনের ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খানকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ এবং সতর্ক করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি পালনের ক্ষেত্রে তারা অনীহা দেখাচ্ছেন। ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্বাচনী সভা করছেন। বিশেষ করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে নির্বাচনী পথসভা করে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছেন। এ জন্য তাদের সতর্ক ও শোকজ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অক্ষরে অক্ষরে আচরণবিধি পালন করা হচ্ছে। গণসংযোগের সময় পারতপক্ষে মাইক ব্যবহার ও শোডাউন করা হচ্ছে না। অথচ বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনো কারণ ছাড়াই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

সহকারি রিটার্নিং অফিসার প্রলয় কুমার সাহা বলেছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে গত মঙ্গলবার শোকজ করা হয়েছে। তবে বুধবার পর্যন্ত শোকজের চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তার দাবি, নির্ধারিত সময়ের পরেও পথসভা চালিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শোডাউন করায় নিবন্ধন হারানো নগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে শোকজ করা হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, সংবাদপত্রের রিপোর্ট দেখেই তাকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বন্দরবাজারে গণসংযোগ করেছেন, মাইকও ব্যবহার করা হয়নি, শোডাউনও ছিল না।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বীকার না করলেও আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীকে আর্থিক জরিমানা গুনতে হয়নি। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেয়ালে পোস্টার লাগানোয় তাকে তিন হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে।

এদিকে, প্রায় প্রতিদিনই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে স্থানীয় নির্বাচন কমিশন অফিসে অভিযোগ করা হচ্ছে। আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্থানকে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। তার দাবি, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শাহী ঈদগাহ মাঠে বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার লাগানো হয়েছে। একাধিক মাইকে প্রচার করা হচ্ছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে নির্বাচনী পথসভা করে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ানো হয়েছে।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তার অভিযোগ, গত ২১ জুলাই রাতে নগরীর আম্বরখানায় একটি হোটেলের হলরুমে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সভায় অংশ নিয়েছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমদ, ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী, সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায়, শাবির রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম শোয়েবসহ অর্ধশতাধিক সরকারি কর্মকর্তা।

এ ছাড়াও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৭ জুলাই ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে মঞ্চ তৈরি করে মাইক বাজিয়ে সমাবেশ, ২০ জুলাই সুবিদবাজারে সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়িতে মঞ্চ বানিয়ে সমাবেশ, সুবিদবাজার, বনকলাপাড়া, লন্ডনী রোড ও পীরমহল্লার রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ২২ জুলাই রাতে কুমারপাড়া ও সুবহানীঘাট মোড়ে পথসভা চলাকালে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ করেছে বিএনপি। বাগবাড়ী বর্ণমালা চত্বর ও শাহী ঈদগাহের আল্লাহু চত্বরে আলোকসজ্জা সংবলিত নৌকা প্রতীক এবং একটি ভ্যানগাড়িতে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পক্ষে ডিজিটাল প্রচারণা চালানোর অভিযোগ ছিল।

এর মধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী ও সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায়কে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা গত ১৮ জুলাই চৌহাট্টা এলাকায় সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে একটি সভায় অংশ নিয়েছিলেন। আর মেয়র প্রার্থীসহ ১৬ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আচরণবিধি নিয়ে ভীতি, হানিফ ঢাকায়

আচরণবিধি নিয়ে এক ধরনের ভীতিও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতারা এ নিয়ে এক ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েছেন। বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ গতকাল সমকালকে জানিয়েছেন, তিনি গত মঙ্গলবার রাতে জরুরি প্রয়োজনে নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য সিলেট এসেছেন। তিনি নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে যোগ দেননি। অথচ তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। মাহবুবউল আলম হানিফ বিভ্রান্তি এড়াতে গতকালই ঢাকায় গেছেন।

গাজীপুরের মেয়র সিলেটে

হানিফের মতো প্রায় একই সংকটে পড়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। তিনি গতকাল সিলেটে হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারতের পর কাষ্টঘর এলাকায় বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সঙ্গে নিয়ে নৌকা প্রতিকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গাজীপুরের মেয়র জানান, আজ বৃহস্পতিবার তিনি শপথ নেবেন। তাই সিলেটে হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত করতে এসেছেন।
সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ