প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফয়জুরসহ অভিযুক্ত ৬ চার্জশিট আজ

ডেস্ক রিপোর্ট:  শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষক ও জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত হয়েছে। দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের চারটি ধারায় প্রস্তুত অভিযোগপত্রে ফয়জুর ওরফে ফয়জুল হাসান ওরফে শফিকুরকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। ফয়জুর ‘স্বপ্রণোদিত’ হয়ে ড. জাফর ইকবালকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালায় বলে তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ।

স্বপ্রণোদিত হয়ে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ ফয়জুরকে সহযোগিতার জন্য অভিযোগপত্রে তার মা মোমেনা বেগম, বাবা আতিকুর রহমান, বড় ভাই এনামুল হাসান, মামা মো. ফজলুর রহমান ও বন্ধু সোহাগ মিয়াকে আসামি করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জের দিরাই থানার কালিয়াকাপনের বাসিন্দা ফয়জুরের পরিবার সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার এলাকায় বসবাস করত। বর্তমানে তারা সবাই সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। এই মামলার তদন্তে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতা নেওয়া হয়। চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম।

গত ৩ মার্চ বিকেলে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ড. জাফর ইকবালকে হত্যার চেষ্টা চালায় ফয়জুর। সে কয়েকদিন ধরে রেকি করে ঘটনার দিন জাফর ইকবালের ঠিক পেছনে মঞ্চে অবস্থান নেয়। সুযোগ বুঝে ছুরি দিয়ে জাফর ইকবালের মাথা ও ঘাড়ে উপর্যুপরি আঘাত করে সে। আহত অবস্থায় জাফর ইকবালকে প্রথমে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় মামলা করেন। এতে ফয়জুরকে প্রধান আসামি করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার পর শিক্ষার্থীরা গণপিটুনি দিয়ে ফয়জুরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ঘটনার পর পুলিশ আলামত হিসেবে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহূত ছুরি ও ফয়জুরের বাইসাইকেল উদ্ধার করে। গত ৮ মার্চ তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ১০ দিনের জন্য হেফাজতে নেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ফয়জুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পাশাপাশি পুলিশের হাতে গ্রেফতার ফয়জুলের বাবা, মা, ভাই, মামা ও বন্ধু রিমান্ড শেষে আদালতে পৃথক জবানবন্দি দেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময় বন্ধু ফয়জুরকে একটি মেমোরি কার্ড দেয় সোহাগ। ওই মেমোরি কার্ডে ছিল জসিম উদ্দিন রাহমানী, তামিম উল আদনানী ও অলিপুরী হুজুরের ওয়াজ, যা শুনে জঙ্গিবাদে প্রভাবিত হয় সে। জসিম উদ্দিন রাহমানীর লেখা উন্মুক্ত তরবারি বই পড়ে ও তিতুমীর মিডিয়ার ভিডিও দেখে সে ধারণা করে, জাফর ইকবাল একজন নাস্তিক। ড. জাফর ইকবালের লেখা ‘ভূতের বাচ্চা সোলায়মান’ বইয়ে এক নবীকে কটাক্ষ করা হয়েছে বলে দাওয়াহ-ইলাল্লাহ নামে একটি ওয়েবসাইট দেখে ধারণা করে ফয়জুর। এ জন্য জাফর ইকবালকে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি ছুরি কেনে সে। এরপর তিন-চার মাস ধরে সুযোগ খুঁজতে থাকে এবং ৩ মার্চ সে হামলা চালায়।  সমকাল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ