প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগের দুই প্রস্তুতি

ডেস্ক রিপোর্ট : দুই ধরনের সম্ভাবনা মাথায় রেখে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে এক রকম আর অংশ না নিলে ভিন্নভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ক্ষমতাসীনরা। টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা।
দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, আপাতদৃষ্টিতে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মনে হলেও আওয়ামী লীগের কাছে খবর রয়েছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো দ্বিধায় দলটি। ক্ষমতাসীনরা ধারণা করছেন আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে যাবে বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না। এ অবস্থায় দুই ধরনের কৌশলে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। প্রথম কৌশল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে আওয়ামী লীগ গতবারের মতো জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোটের পরিধি আরও বাড়বে। জাতীয় পার্টি, ১৪-দলীয় জোট ছাড়াও বেশ কিছু রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের জোটশরিক হয়ে নির্বাচন করবে।

অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে সর্বোচ্চ সংখ্যক দলের অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে চায়
ক্ষমতাসীন দলটি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব দল অংশ নেয়নি তাদের একাদশে নিয়ে আসার জোর চেষ্টা চালানো হবে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি এখন যাদের বন্ধু মনে করছে আগামী নির্বাচনের আগে তারা তাদের ভোল পাল্টে ফেলতে পারে। বিএনপি জোটের অনেক দল তো বটেই, পাশাপাশি বিকল্প জোটগুলোও একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জেটের পাশাপাশি রাজনীতির মাঠে আরও কিছু জোট সক্রিয়। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোট, সিপিবি ও বাসদের নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক জোট, সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট, বিএনপির সাবেক নেতা নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন বিএনএ উল্লেখযোগ্য। আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে বাকি জোটগুলো যাতে নির্বাচনে অংশ নেয় সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমাদের সময়কে বলেন, ধারণা করছি, আগামী আগস্টের মধ্যেই বোঝা যাবে বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে কি নেবে না। তবে আমরা নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছি। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে গতবারের মতো জোটগতভাবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপি অংশ না নিলে জাতীয় পার্টি বা আমাদের জোটের অন্য দলগুলো নিজ নিজ দলের ব্যানারে পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা সেটা তখন বোঝা যাবে।
একই বিষয়ে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ আমাদের সময়কে বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে আওয়ামী লীগে। আমরা চাই সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। তবে কোনো দল যদি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনে অংশ না নেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।
দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, যে কোনো নির্বাচনকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয় আওয়ামী লীগ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দিক থেকে নানা রকম খেলাধুলা হয়ে থাকে, এবারও হচ্ছে তবে আমাদের লক্ষ্য টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে জিতে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কি নেবে না তার জন্য আমরা বসে নেই।
আওয়ামী লীগের নেতারা আরও জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনের আগে দেশের সব সক্রিয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের ওপর জোর দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। যেসব দলের সঙ্গে আগে থেকেই সম্পর্ক রয়েছে তাদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন এবং যাদের সঙ্গে একেবারেই সম্পর্ক নেই তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের কাজ চলছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ভিন্ন মতের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। মঙ্গলবার তিনি নিজেই সিপিবি কার্যালয়ে গিয়ে দলটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করেছেন। এ ছাড়াও ছোট দলগুলোর বড় নেতা বলে পরিচিত কাদের সিদ্দিকী, অলি আহমেদ, আ স ম আবদুুর রবসহ অনেকের সঙ্গেই ওবায়দুল কাদেরের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত