প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসন আমার দায়িত্ব নয়: খোকন

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসন সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, ‘দুই ঘণ্টা বৃষ্টি হলে শহর তলিয়ে যায়। রাজধানীবাসী মেয়রের কাছে এর সমাধান চায়। কিন্তু এর সমাধান করবে ঢাকা ওয়াসা। নগরের যানজট সমস্যা আমার কাছে চায়। কিন্তু এটা তো আমার দায়িত্ব নয়।’

বুধবার নগর ভবনে সিটি করপোরেশনের ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

বাজেট বক্তৃতায় মেয়র রাজধানীর সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সমন্বয়হীনতার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মেয়র বলেন, ‘বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করতে আমরা সভার আয়োজন করি। কিন্তু সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন না।

খোকন বলেন, ‘সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না।’ কারা সমন্বয় সভায় উপস্থিত থাকেন না তাদের নাম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান মেয়র।

তিন হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের জন্য তিন হাজার ৫৯৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র। ২০১৫ সালে নির্বাচিত মেয়র সাঈদ খোকনের এটি তৃতীয় বাজেট।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে তিন হাজার ৩৩৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল ডিএসসিসি। সংশোধনের পর যা দুই হাজার ১৪ কোটি ৩১ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। এবার নিজস্ব উৎস থেকে ৯০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ডিএসসিসি। এরমধ্যে গৃহকর থেকে ৩৩০ কোটি টাকা, বাজার সালামি থেকে ৩০৫ কোটি টাকা, সম্পত্তি হস্তান্তর কর থেকে ১০০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছে ডিএসসিসি।

সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তামূলক প্রকল্প খাতে দুই হাজার ৪৮ কোটি ৬২ কোটি টাকা সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে বলে বাজেট বক্তৃতায় জানান মেয়র সাঈদ খোকন।

এছাড়া সরকারি মঞ্জুরি ৭০ কোটি, সরকারি বিশেষ মঞ্জুরি ৪৩৮ কোটি ৮৬ লাখ, ট্রেড লাইন্সেস ফি বাবদ ৮০ কোটি টাকা, বিজ্ঞাপন কর বাবদ পাঁচ কোটি টাকা, বাস-ট্রাক টার্মিনাল থেকে তিন কোটি ৪৭ লাখ টাকা, অস্থায়ী পশুর হাট থেকে আট কোটি ৫০ লাখ টাকা, রাস্তা খনন ফি বাবদ ২০ কোটি টাকা, যন্ত্রপাতি ভাড়া বাবদ পাঁচ কোটি টাকা, শিশু পার্ক থেকে পাঁচ কোটি টাকা, পেট্রোল পাম্প ভাড়া বাবদ দুই কোটি টাকা পাওয়ার আশা ডিএসসিসির।

বাজেটে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ৭৪২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা বলেছে ডিএসসিসি। এছাড়া শিশু পার্ক ও খেলা মাঠ উন্নয়নে ১৪৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানান মেয়র।

এছাড়া ৩৪০ কোটি টাকা বেতন ভাতা বাবদ, ভৌত অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ৩৯৫ কোটি ২৬ লাখ, মশক নিয়ন্ত্রণে ২৬ কোটি, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম বাবদ ৭৫৬ কোটি ১৬ লাখ, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বাবদ ছয় কোটি ৫০ লাখ, নতুন বাজার নির্মাণ বাবদ ২০০ কোটি, জবাইখানা নির্মাণ বাবদ ৬৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় করবে।
সূত্র : ঢাকা টাইমস

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ