প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আত্মঘাতি বোমা ও সহিংসতার মধ্যে ভোটগ্রহণ
পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

ইমরুল শাহেদ : ৩ লাখ ৭১ সেনাসহ সাড়ে সাত লাখ নিরাপত্তা বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার সম্পন্ন হয়েছে পাকিস্তানের ১১তম সাধারণ নির্বাচন। কোয়েটায় আইএসের আত্মঘাতী হামলায় ৩৩ জনের প্রাণহানি এবং অনেক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোটে এগিয়ে ছিলেন ইমরান খান। সকালে ভোট দেয়ার পর পাকিস্তানের সেনা প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া জনগণের প্রতি ভোটকেন্দ্রে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, দেশের শত্রুকে পরাজিত করতে আপনাদের ভোট দিতে হবে।
রাত ৯টায় ভোট গননা শুরু হয়। ভারতের এনডিটিভি’র দেয়া তথ্যানুযায়ী, প্রাপ্ত ২৬৬ টি আসনের মধ্যে ১০৬টি আসনে এগিয়ে ছিলেন তেহরিক-ই-ইনসাফ এর সভাপতি ইমরান খান। নওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন) ৭০টি আসন নিয়ে ২য় অবস্থানে রয়েছেন। আর বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি পেয়েছে ৩৯টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ১৩৭টি আসন।
এর আগে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের খিপরো এলাকায় পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও গ্রান্ড ডেমোক্র্যাটিক এ্যালায়েন্সের (জিডিএ) মধ্যে নারী ভোট কেন্দ্রগুলোতে সংঘর্ষ হয়েছে। পরবর্তীতে এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষে জিডিএর একজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তাকে তখনই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। লারকানার সংঘর্ষে চার জন আহত, বেলুচিস্তানের নাসিরাবাদে গোলাগুলিতে চারজন আহত, খাইবার পাখতুন খোয়ায় আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির একজনকে গুলি করে, তেহরিক-ই-ইনসাফের একজনকে গুলি করে এবং পাঞ্জাবে নওয়াজের পাকিস্তান মুসলিম লীগ এবং ইমরানের পিটিআইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পেশোয়ারের চিত্রও প্রায় একই রকম। সেখানেও দলগত সংঘর্ষের কারণে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়। তবে পাকিস্তানের দির, কোহিস্তান এবং উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে নারীরা ভোট প্রদান করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এইবারই প্রথম উল্লিখিত স্থানে ভোট দিয়েছেন।
ডন জানিয়েছে, পাখতুন খোয়া, পাঞ্জাব, সিন্ধু এবং বেলুচিস্তানের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুই জন। ভোটকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২১০ জন। ভূয়া পরিচয়ে ভোট দিতে গেলে করাচিতে পুলিশ সাত জনকে আটক করেছে।
কোয়েটায় নির্বাচন চলাকালীনই ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত হন ৩৩ জন। আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচন চলার সময় সকাল ১১টা নাগাদ কোয়েটার এনএ-২৬০ কেন্দ্রে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হয়েছে। পুলিশ ভ্যানকে কেন্দ্র করে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর কিছুক্ষণের জন্য ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস।
এবারের নির্বাচনে লড়ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেলবন্দি নওয়াজ শরীফের পিএমএল-এন, ইমরান খানের পিটিআই ও প্রয়াত বেনজির ভুট্টোর পুত্র বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি’র মধ্যে। কোনও দলের সরকার গঠনের জন্য কমপক্ষে ১৩৭ আসনে জয় লাভ করতেই হবে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, ভোট দেওয়ার পর কিছু কিছু রাজনীতিবিদ বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য প্রদান করছেন বলে লক্ষ্য করেছে নির্বাচন কমিশন। তারা উল্লেখ করেছে, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ নেতা শেহবাজ শরীফ এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ ভোট দেওয়ার পর বক্তৃতা করেছেন। একই অভিযোগ ইমরান খানের বিরুদ্ধেও তোলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র ইসিপি নাদিম কাসিম বলেছেন, এসব রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। যারা ক্যামেরার সামনে ভোট দিয়েছেন তাদেরকেও মনিটর করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ভোটের কোনো সমস্যা হবে না। নির্বাচন কমিশনের আইন অনুসারে ভোটদাতার পরিণতি খারাপ হতে পারে। পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ভোটগ্রহণের সময় আরও এক ঘন্টা বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সে আবেদন নাকচ করে দেয়।
এক্সপ্রেস জানিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সুনির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তবে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ফল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোট গণনা হয়ে যাবে ভোটকেন্দ্রেই। কোনো একটি দলকে এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে ১৭২টি আসন পেতে হবে। নির্বাচনের ফলাফল পাওয়া যাবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে।

সেনাপ্রধানের আহবান: পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া ভোট দেয়ার সময় দেশবিরোধীদের বিরুদ্ধে একহতে জনগণকে আহ্বান জানান। বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়া পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্ত্রীসহ ভোটকেন্দ্র ভোট দিতে গিয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, জনগণকে বলছি, আপনারা আসুন এবং ভোট দিন । পাকিস্তানের শত্রুকে পরাজিত করতে আপনাদের ভোট দিতে হবে।
টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাজ করা অপশক্তিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছি। তাদের পরাজিত করতে আমরা পুরো জাতি এক হয়েছি। আমরা তাদের পরাজিত করতে একতাবদ্ধ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আজকের দিন আমাদের ভোটের, আসুন এবং ভোট দিন।’ ইসলামবাদ টাইমস ইয়ন, ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন , এনডিটিভি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ