প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘গুপ্তচরবৃত্তি’সহ আপত্তিকর শব্দগুলো থাকছে না
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রায় চূড়ান্ত করেছে সংসদীয় কমিটি

আসাদুজ্জামান সম্রাট : জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিলের কয়েকটি ধারায় ‘ভাষাগত’ পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সাংবাদিক ও সম্পাদকদের আপত্তিগুলো আমলে নিয়ে বিলটি অনেক বেশি সহনশীল করা হয়েছে। বিলটি নিয়ে সংসদীয় কমিটি কাজ শেষ করে আনলেও এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বলতে রাজি নয়।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে আবারও বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি। বৈঠকে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল হককে বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে রাখা হয়। তিনি বিলটি আইনগত দিকগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের আশঙ্কাগুলো অনেক সহনীয় করা হয়েছে। বিলটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আরেকদফা বৈঠক করে বিলটি পাসের সুপারিশসহ সংসদে রিপোর্ট প্রদান করা হবে।

উত্থাপিত বিলটির উপর সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন-অ্যাটকোর সাথে বৈঠক করেন সংসদীয় কমিটি। তাদের আপত্তি ও মতামতগুলো নিয়ে বুধবারের বৈঠকে আলোচনা হয়। ফলে ৩২ ধারা সংশোধন করে গুপ্তচরসহ আপত্তিকর অংশগুলো বাদ দেয়া হচ্ছে। ভাষাগত অনেক সংশোধনীও আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ। তিনি জানান, এ বিষয়ে আরেকবার সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বসা হবে।

গত ৯ এপ্রিল এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। পরে এটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। সংসদীয় কমিটি স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে দু’দফায় বৈঠক করে। এসব বৈঠকে এডিটরস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) এর ২১, ২৫, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারা সম্পর্কে তাদের আপত্তি জানানো হয়।

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর থেকে এই আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন গণমাধ্যম ও মানবাধিকারকর্মীরা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, দেশে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও ইউনিয়ন আইনটির কঠোর ও বিতর্কিত কিছু ধারা বাদ দেওয়ার দাবি তোলে। আইনের ২১, ২৫ ও ২৮ ধারা নিয়ে গত ২৫ মার্চ উদ্বেগ জানান ১১টি দেশের কূটনীতিক।

বিলে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তি, ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত, মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রচারণার মতো বিভিন্ন অপরাধের সংজ্ঞা ও সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরে বসে কেউ এই আইনের অধীনে এমন অপরাধ করলে এই আইনে বিচার করার বিধান রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশী সমালোচিত ৩২ ধারায় মূলত ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির কথা বলা হয়েছে। যা চূড়ান্ত বিলে থাকছে না। প্রস্তাবিত আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ অজামিনযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর আগে ২০০৬ সালে বাংলাদেশে প্রথম আইসিটি আইন করা হয় । পরে ২০০৯ ও ২০১৩ সালে শাস্তি বাড়িয়ে এটিকে আরো কঠোর করা হয়। এই আইনের ৫৭ ধারায় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ হয়রানির শিকার হন।

বুধবারের বৈঠকে কমিটির সদস্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ আমন্ত্রণে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বৈঠকে যোগদান করেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।