প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টেকনাফে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধ্বসের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার

ফরহাদ আমিন, টেকনাফ (কক্সবাজার): কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে টেকনাফে পাহাড় ধ্বসে হাজারো পরিবার ঝুকিতে বসবাস করছে। গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ঝুকি বাড়ছে। দেশে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় সারাদেশে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। যা আগামী ৪ থেকে ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

২৫ জুলাই বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাহাড়ে বসবাসরত ঝুকিপূর্নদের নিরাপদ আশ্রয়ে সড়ে যেতে সর্তক করে মাইকিং করা হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাহাড়ে স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা ঝুকির্পূন বসবাস করছেন। পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণ বসবাস পরিবার ঢালু কিংবা খাড়া অংশের নিচে বাড়ি-ঘর তৈরি করেছে। এদের মধ্যে রোহিঙ্গারাও বসতি গড়ে তুলেন। এভাবে পাহাড় ধবসের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার বসবাস করছেন। ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ে বসতি নিয়ে খোদ প্রশাসন শংকিত বলে জানা গেছে।

গত ২০১০ সালে ১৫ জুন টেকনাফে পাহাড় ধ্বসে ৩৪ নারী-পুরুষ ও শিশুর প্রানহানী ঘটেছিল। এর পর পাহাড়ের পরিবার গুলোকে নিরাপদ স্থানে সড়িয়ে নেওয়া হয়। ওই সময় অন্যত্র পূর্নবাসনের কথা হলেও তা ফাইল বন্ধি রয়ে যায়।

২০০৭ সালে তৎকালীন ইউএনও টেকনাফের বৈদ্যঘোনা পাহাড় কাটার সরঞ্জামসহ ৩জনের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা করলে তা কিছুটা নাড়া দেয়। তবে পাহাড়ে বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় দালান-কোটা, সেমিপাকাসহ বাড়ী-ঘর তৈরি করা হচেছ। এভাবে অবৈধ বসবাস গড়ে উঠলে দিন দিন পরিবেশ হুমকির মূখে পড়বে এবং মৃত্যুর হার বাড়তে পারে বলে আশংকা রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলার পৌরসভা, সদর, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বন বিভাগের হাজার হাজার হেক্টর পাহাড় রয়েছে। এ সব পাহাড়ে স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা দিন দিন অবৈধ বসতি স্থাপন করে যাচেছ। পাহাড়ে বসবাসকারী অনেকেই পাহাড় কেটে ঝুঁকিপূর্ণ বসতভিটা তৈরি করছেন।

অধিকাংশ পাহাড়ী টিলায় বাড়ী-ঘর তৈরি করা হয়েছে। এমনিতেই বর্ষায় পাহাড়ের মাটি নরম হয়, ফলে পাহাড় কাটা বেড়ে যায়। এসময় পাহাড়ে অবস্থানরত কতিপয় পাহাড় খেকো অবৈধ দখল বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তবে পাহাড়ে বাস করছে অধিকাংশ রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে। এ সব রোহিঙ্গারা বন কেকুদের কাছ থেকে লাখ টাকায় অবৈধ দখলস্বত্ব নিয়ে বসবাস করছেন।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান জানান, টানা বর্ষনে পাহাড় ধ্বসের আশংকায় পাহাড়ে ঝুকিপূর্ন পরিবারকে মাইকিং করে অনত্র সরে যেতে বলা হয়েছে।পাহাড়ে ঝুকির্পূন স্থানে বাড়ী-ঘর উচেছদ করা হয়েছে। বন সংশ্লিষ্টদের সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ