প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বগুড়ায় প্রকাশ্যে কলেজ ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত

আরএইচ রফিক, বগুড়া: বগুড়ায় প্রকাশ্যে দিবালোকে জনসমুক্ষে সুমাইয়া আক্তার নামের এক কলেজ ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। সুমাইয়া এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্চা লড়ছে। হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরে শহরের সুলতানগঞ্জ ঘোনপাড়া এলাকায় । হাসপাতালে চিকিৎসাধিন সুমাইয়ার অবস্থা আশংকাজনক ।

সুমাইয়া আক্তার (১৮)শহরের নিশিন্দারা ঘোনপাড়া এলাকার আব্দুল গফুরের মেয়ে এবং বগুড়া ফকির উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের মানবিক বিভাগ ১ম বর্ষের ছাত্রী ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত ছাত্রীর পারিবারীক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা আনুমানিক পোনে ২টার দিকে সুমাইয়া তার এক বান্দবী তারজিলার সাথে কলেজ ছুটির পর বাড়ী ফিরছিল । এসময় সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আল আমিন নামের এক যুবক ছুরি নিয়ে তার উপর ঝাপিয়ে পরে। এসময় কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার বুকে এবং পেটে উপূর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ওই যুবক ।

এব্যপারে জানা যায়, গত দু’বছর আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লিখাপড়া করার সময় একই এলাকার মৃত জয়নালের ছেলে আল আমিন প্রায়ই তাকে রাস্তা ঘাটে বিরক্ত করতো । এর এক পর্যায়ে সুমাইয়াকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে আল আমিন। কিন্তু সে বিয়ে এক মাসের মাথায় ছিন্ন হয় ।

এসময় স্থানীয় একটি সমিতিতে হিসাবরক্ষনের চাকুরী করতো আল আমিন । পরে টাকা আত্বসাৎ এর কারনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় । সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরওয়ানা বের হলে সে পলাতক থাকে ।

বিবাহ বিচ্ছেদের পর তার পারিবারীক চাপা চাপিতে আবারো লিখা পড়ায় মন দেয় সুমাইয়া । এ বছরে এসএসসি পাশ করার পর স্থানীয় ফকির উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তি হয় সে।

এদিকে কিছুদিন পলাতক থাকাবস্থায় আবারো রাস্তা ঘাটে সুমাইয়াকে উৎত্যাক্ত করা শুরু করে আল আমিন । এব্যপারে সুমাইয়ার পরিবার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এর কাছে ওই বিষয়ে বিচার চেয়ে অভিযোগ দেন তার বাবা আব্দুল গফুর । তার পরিবারের অভিযোগ কাউন্সিলর এ বিষয়ে কোন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা না রাখায় আবারো বেপরোয়া হয়ে ওঠে আল আমিন।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার কলেজ থেকে বান্দবী তানজিলার সাথে বাড়ী ফেরার সময় সুমাইয়ার উপর হামলা চালায় । বাড়ীর গেটের অনতিদুরে এঘটনা প্রত্যক্ষকরে অনেকেই । সকলের সামনে সুমাইয়ার বুকে প্রথম ছুরিকাঘাত করে আল আমিন । এসময় তানজিলা সুমাইয়াকে দ্বিতীয়বার ছুরিকাঘাত না করার জন্য আল আমিনকে বার বার হাত জোর করে কাকুতি মিনতী জানায় ।

কিন্তু আল আমিন তার সে কাকুতি মিনতি না শুনে দ্বিতীয় দফায় সুমাইয়ার পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয় । সুমাইয়া তার আত্বিয় পরিজনের চিৎকারে আশ পাশের লোকজন ছুটে এলে দৌড়ে পালিয়ে যায় আল আমিন।
এদিকে ঘটনার পর পর মূমুর্ষ অবস্থায় সুমাইয়াকে বগুড়া সরকারী শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ।

শেষ খবর পর্যন্ত সুমাইয়ার শরীরে অস্ত্রপ্রচার করা হচ্ছিল । অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারনে সুমাইয়ার অবস্থা আশংকাজনক বলে হাসপাতালের একটি সূত্রে জানা গেছে।
এব্যপারে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি সার্বিক) এমএম বদিউজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আসামী আটকের জন্য পুলিশ সদস্যদের মাটে নামানো হয়েছে।