প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চোখ-নাক-কান দিয়ে রক্তক্ষরণের রোগী জিনাত ১ আগস্ট যাচ্ছে ভারতে

রিকু আমির : আগামী ১ আগস্ট ভারতের তামিলনাড়ুতে অবস্থিত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (সিএমসি) নেয়া হবে চোখ-নাক-কানসহ দেহের বিভিন্নস্থান দিয়ে রক্তক্ষরণের রোগী জিনাতকে।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জিনাতের বাবা মামুন বিশ্বাস এ প্রতিবেদককের প্রশ্নে বলেন, জিনাতকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেবার পর পাবনার একটি ছেলে আমাকে ফোন করে জানায়, সে-ও এই রোগাক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু দেশে সুফল পাননি, পরে সিএমসিতে চিকিৎসা করে সুস্থ জীবন-যাপন করছেন। সে ভিত্তিতেই জিনাতকে সিএমসিতে নিচ্ছি।

এ চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে আর্থিক সামর্থ না থাকায় মামুন রাতবিরাত এখান থেকে ওখানে ছুটছেন।

জিনাতের চিকিৎসায় দেশে কী কী করা হয়েছে- জানতে চাইলে মামুন বলেন, ২০১৬ সাল থেকে গত রোজার মাস পর্যন্ত তো দেশেই দেখিয়েছি, কেউ আমাকে সমাধান দিতে পারেননি, উল্টো সম্মানহানিকর, অশালীন মন্তব্য শুনতে হয়েছে কিছু চিকিৎসকের কাছ থেকে। এজন্য দেশের চিকিৎসকদের প্রতি আমার ভরসা নেই।

জিনাতের মধ্যে ২০১৬ সালে এই সমস্যা দেখা দেয় প্রথম বারের মতন। মামুন জানান, প্রথমে আনা হয় ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে। এরপর বিএসএমএমইউর চক্ষু বিভাগে। এ বিভাগ রেফার করে গাইনি বিভাগে। তারপর সালাউদ্দিন হাসপাতালে দেখানো হয় প্রখ্যাত চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হককে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে গ্রামে ফেরেন মামুন। হঠাৎ অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত নেন বরগুনার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে নেয়া হয় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ও চক্ষু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগ। এরপর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে ঢাকার হাইটেক মাল্টি কেয়ার হাসপাতাল। এখানে অবস্থার অবনতি ঘটায় প্রায় এক মাস ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছিল জিনাতকে।

সর্বশেষ গত রমজান মাসে ঢাকা মেডিকেলে ছিলেন জিনাত। ঈদুল ফিতরের তিনচারদিন আগে ব্যর্থ হয়ে গ্রামে ফেরেন জিনাত। তবে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে জিনাতের হ্যামোল্যাক্রিয়া হয়েছে।

জিনাতের বাবা মামুন বিশ্বাস আরও জানান, জিনাতের চোখ-নাক-কান এমনকি নাভি দিয়েও রক্ত বের হয়। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারায় জিনাত। দিনে ৪-৫ বার এমন ঘটনা ঘটে। এমনও হয়েছে- জিনাত নিজ হাতে খাবার খেতে বসেছে, তখন মনের অজান্তে নাক-চোখ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়েছে খাবার প্লেটে।

বর্তমানে জিনাত আছেন নানার বাসা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন পাগলা এলাকায়। জিনাতের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। কলেজ হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ