প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যুবলীগ নেতার অপকর্মের সাক্ষী হওয়ায় খুন হয় শিষ্য রাশেদ

মাসুদ আলম : রাজধানীর মহাখালীতে যুবলীগ নেতা কাজী রাশেদ হত্যাকাণ্ডের ১১ দিনেও প্রধান অভিযুক্ত বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ সরদার সোহেল ওরফে সুন্দরী সোহেলসহ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ৬ জন অংশ নিলেও ৫ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। আসামিরা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সুন্দরী সোহেলের সব অপকর্মের সাক্ষী ছিল বনানী থানার যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য কাজী রাশেদ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট বলেছেন, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে সোহেলের দেহরক্ষী ছিল কাজী রাশেদ। গত বিএনপি সরকারের আমলে দক্ষিণ আফ্রিকায় চলে যায় সোহেল ও রাশেদ। পরে ২০০৯ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে দেশে আসেন তারা। মহাখালীর স্কুল রোডের জিপি-গ/৩৩/১ নম্বর ভবনে (কঙ্কাল বাড়ি) অফিসে বসে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতো সোহেল। গুলশান, বনানী ও মহাখালী এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতো সে। সোহেলে মহাখালীর অফিসটি ছিল টর্চার সেল হিসাবে পরিচিত। তার সব অপকর্মের সাক্ষী রাশেদ। নিয়মিতই ওই অফিসে মাদক ও জুয়ার আসর বসতো। সোহেলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

ওই এলাকায় সোহেলের নিজস্ব সিসিক্যামেরা। সোহেল প্রতিমাসে রাশেদকে খরচের জন্য যে টাকা দিতো, তা দিয়ে তার সংসার চলতো না। সেজন্য রাশেদ চেয়েছিল তার কাজ থেকে সরে অন্য কিছু করবে। এত দিনের শিষ্য রাশেদ খারাপ পথ ছেড়ে অন্য পথে যাবে তা মেনে নিতে পারেনি সোহেল। কারণ সোহেলের সব অপকর্মের সাক্ষী রাশেদ। বেশ কয়েকবার রাশেদকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিল সে। সেজন্য রাশেদ তার স্ত্রীকে বলেছিল সোহেল যদি আমাকে মেরেও ফেলে তার বিরুদ্ধে মামলা করবে না। ১৪ জুলাই সোহেলের অফিসেই রাশেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে পানি দিয়ে অফিসের মেঝেতে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে মুছে ফেলা হয়। ১৫ জুলাই সকালে সোহেলের অফিসের পাশ থেকে রাশেদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সিসি ক্যামেরায় দেখা গেছে, হাসু, ফিরোজ, দিপু এবং ফর্সা লম্বা গড়নের অচেনা এক যুবক রাশেদের লাশ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ওই চারজন ছাড়াও সোহেলের ক্যাশিয়ার রবি অফিসে উঠা নামা করতে দেখা গেছে। হত্যাকাণ্ডে সোহেলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ভাতিজা জাকির জড়িত । সোহেল রেইনবো নামের কথিত নিউজ পোর্টালটির প্রকাশক। তথাকথিত নিউজ পোর্টালের আড়ালে ভবনটিতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন অবৈধ অস্ত্র-ইয়াবার মজুদখানা। এদিকে হত্যাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন রাশেদের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদুল আলম ফরিদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। আসামিরা দেশেই রয়েছে। যেকোনো সময় তারা ধরা পরবে। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার সোহেলর অফিসে অভিযান চালিয়ে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২১টি গুলি জব্দ উদ্ধার করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত