প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘শ্রমিকরা ধর্মঘট না করলে এই দুর্নীতির ঘটনা হয়ত জানাই যেত না’

রবিন আকরাম : বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে কয়লা সরিয়ে ফেলায় তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে৷ বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের অনেক মানুষ। দেড়লাখ টন কয়লা কীভাবে হাওয়া হয়ে যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে৷

দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদকের দিনাজপুরের উপ-পরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘কয়লা ধীরে ধীরে সরানো হয়েছে। এই সময়ে বাস্তবে না থাকলেও কাগজপত্রে পরিমাণ ঠিকই রাখা হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লার নিয়মিত সরবরাহ থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও স্বাভাবিক ছিল। ফলে কয়লা সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি চাপা থেকেছে। তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতিদিন তিন হাজার টন কয়লা লাগে। আর কয়লা খনি’র উৎপাদন ক্ষমতাও প্রতিদিন কম বেশি তিন হাজার টন। ১৩ মে থেকে খনি শ্রমিকরা ধর্মঘটে যান। ২৪ দিন তাঁরা ধর্মঘটে থাকায় কয়লা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। আর তখনই দুর্নীতি ধরা পড়ে। কারণ প্রতিদিনের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়লার ঘাটতি দেখা দেয়। যেহেতু মজুদ কয়লা বাস্তবে পাচার হয়ে যায় তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন আর ঠিক রাখা যায়নি৷ প্রকাশ হয়ে পড়ে কয়লা গায়েব হওয়ার ঘটনা।’

তিনি জানান, ‘আমরা কাগজপত্র জব্দ করেছি৷ সেখানে কয়লার হিসাব ঠিক রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোল ইয়ার্ডে কয়লা নাই। তাঁরা নিজেরা এর আগেই অবশ্য একটি তদন্ত কমিটি করেছেন। আর তার ভিত্তিতে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে তাঁরা বলছেন সিস্টেম লসের কারণে কয়লা নাই।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘সিস্টেম লসের দাবি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সিস্টেম লসের কারণে ১-২ হাজার টন কয়লার ঘাটতি পড়তে পারে। কিন্তু তাই বলে দেড় লাখ টন কয়লা সিস্টেম লস! আমরা এখন কাগজপত্র খতিয়ে দেখছি। দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছি। এখন আমরা বের করার চেষ্টা করব কীভাবে এই কয়লা পাচার হলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা চিহ্নিত করব।’

এই ঘটনায় তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের এমডি হাবিব উদ্দীনসহ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ