প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইটেম গানে সেই ‘শালীনতা’ এখন আর নেই!

মহিব আল হাসান: হিন্দী, তামিল ও কলকাতার ছবির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঢাকাই সিনেমা এখন আইটেম জোয়ারে ভাসছে। এই আইটেম গান নিয়ে বিতর্কের কমতি ছিল না ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে। নায়িকার শরীর দোলানো উদ্দাম নাচ আর চটুল কথার গান দর্শকদের কাছে আইটেম নামে পরিচিত।

বলিউড অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত থেকে শুরু করে ক্যাটরিনা-প্রীতিরাও নেচেছেন। ঢাকাই ছবির মৌসুমি থেকে শুরু করে মাহিয়া মাহি, পরী মণি, ববি, সিমলা, আইরিনসহ অনেকে এই আইটেম গানে নেচেছেন।

ঢাকাই ছবিতে আইটেম গানের প্রচলন না থাকলেও এর আদলে অনেক ছবিতেই আইটেম গান যোগ করা হয়েছে। আশির দশকের ছবিতে দেখা যেত রাজা বাদশার জলসা ঘরে বাইজির নাচ। আবার সাদাকালো যুগের বাহাদুর ছবির ‘রূপে আমার আগুন জ্বলে’ গানটিকেও আইটেম গান বলা যায়। মহানায়ক বুলবুল আহমেদের ‘দেবদাস’ ছবিতে সুরাপান করতে করতে ‘পায়ের এই নূপুর আমার, গানটিও উপভোগ করার মতো। এই গানটিতে পারফরম করেছিলেন গুণী অভিনেত্রী আনোয়ারা। ওই সময়ে গানগুলোতে যথেষ্ট শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে চলচ্চিত্রে যেসব গান গল্পের দরকারেরই ব্যবহার করা হত।

সত্তর দশকের ছবিতেও ডিস্কোর গানগুলোতে আইটেম ব্যবহার করা হতো। নায়করাজ রাজ্জাক, নায়ক আলমগীর, নায়ক জাফর ইকবাল, চিত্রনায়িকা শাবানা, ববিতা, নূতন অনেকেই এসব গানে পারফরম করেছেন! তখনকার সময়ে এসব গান ব্যবহার করা হতো ছবির প্রয়োজনে। দেখা যেত ভিলেন ফাঁদে ফেলার জন্য নায়িকারা ডিস্কো অথবা বারে নাচতেন, নায়ককেও ছদ্মবেশে অংশ নিতে দেখা যেত এসব গানে।

একটু খেয়াল করলে পুরনো অনেক ছবিতেই খল-অভিনেতা নায়ক অথবা নায়িকার পরিবার কিংবা নায়ককে গুদাম ঘরে জিম্মি করে কোনো স্বার্থ আদায়ের লক্ষে নায়িকাকে নাচার জন্য বাধ্য করতেন। আবার নায়ককে উদ্ধার করার জন্য নায়িকা নিজেই ছদ্মবেশে ভিলেনকে কাবু করার জন্য আইটেমে পারফরম করতেন। এর বাহিরে আরও ধারা তখন লক্ষণীয় ছিল আইটেম গানের জন্য। আর সেটি হলো সত্তর থেকে নব্বইয়ের দশকের অনেক ছবিতে নায়িকা নায়কের মন জয়ের জন্য ছদ্মবেশে নাচতেন গাইতেন। এ ধারাটি চলচ্চিত্রে এখনো বিদ্যমান।

ঢাকাই ছবির অশ্লীলতায় বন্দী ছিল নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০০৬ পর্যন্ত। সেসময় প্রথম সারির নায়ক-নায়িকারা অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন। বি-গ্রেডের কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অশ্লীলতাকে শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন এদেশের চলচ্চিত্র ঐতিহ্য হারাতে থাকে। তবে তখনকার শিল্পীদের অভিযোগ ছিল পরিচালক-প্রযোজকের চাপেরে মুখেই বাধ্য হয়ে কাজ করতেন!

অশ্লীতার যুগে যেসব গান রাখা হতো সেসব গানকে আইটেম কিংবা সিচুয়েশনাল কিছুই বলা যায় না। পরিচিতি পেয়েছিলো কাটপিস নামেই। তখন কাটপিস নামক ভাইরাস ব্যবপক পরিচিতি পাওয়ায় নাম পাল্টিয়ে ডিব্বা, চাকা, চাক্তি নামে হলে পাঠানো হতো। আর এসব অশ্লীল গানের শুটিং আলাদাভাবে করানো হতো। পেক্ষাগৃহে কাটপিচের সাথে জুড়ে দেওয়া হত কয়েক সেকেন্ডের শয্যাদৃশ্য।কোনো প্রচারণা ছাড়াই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেত এ সব ছবি। শুধু সিলেক্টেড হলের মালিক ও ওই ছবির এক শ্রেণীর দর্শকই জানতো কোথায় এ ছবি চলছে!

সময়ের পরিবর্তনে ঢাকাই ছবির হাওয়া বদলে গেছে আইটেম গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ছবিতে আইটেম গান ব্যবহার করলেও মিল পাওয়া যায়নি, পার্শ্বচরিত্র ও নতুন মুখকে দিয়ে আইটেম করিয়ে অনেক প্রযোজক-পরিচালক অশ্লীলতার যুগকে ফিরিয়ে আনার আভাস দেন! আইটেম গান আগেও ছিলো এখনও আছে। বদলেছে ধারা,আগের গানে ছিল শৈল্পিকতা এখন তা হয়েছে আইটেম কন্যার খোলামেলা পোশাকের নাচ। অতীতে এ ধরনের গানে পারফরমাররা মার্জিত পোশাকই পরতেন। তাদের দক্ষতা ছিল নাচে।

চলচ্চিত্রবোদ্ধারা বলছেন,‘এখন সময় এসেছে ভালো খারাপের বিতর্ক বাদ দিয়ে চলচ্চিত্রের আাইটেম গানকে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করার। আর দায়িত্ব নিতে হবে চলচ্চিত্রকর্মীদের। এমন আন্তরিকতার মাধ্যমে ঢালিউডের আইটেম গানের নতুন মাত্রা পবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ