Skip to main content

ইলেকশন-গেট কেলেঙ্কারীর মূল হোতা আজ্ঞাবাহী ইসি : বিএনপি

শাহানুজ্জামান টিটু : বর্তমানে ইলেকশন-গেট কেলেঙ্কারীর মূল হোতা আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, নির্বাচনগুলোকে অন্যায়ভাবে সরকারের অনুকূলে নিয়ে যাওয়ার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি বারবার উপেক্ষা করছে কমিশন। এই নির্বাচন কমিশনের কাছে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা অরন্য রোদন, গল্পকথা মাত্র। বুধবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবর রহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত ধানের শীষ প্রতীক সমর্থকরা হেনস্তার শিকার হচ্ছে।নেতাকর্মীদেরকে প্রতিনিয়ত গ্রেফতার ভয় ভীতি ও হুমকী প্রদর্শন করা হচ্ছে। আর অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের এমপি ও মন্ত্রী পদমর্যাদার নেতারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিন সিটি নির্বাচনে। সড়ক-মহাসড়ক দখল করে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ করছেন তারা। বড় পিকআপ ভ্যানে বিশাল কালার মনিটর লাগিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনে এসব অভিযোগ দেয়ার পরেও তারা সরকারের মুখ চেয়েই কাজ করছে। রিজভী অভিযোগ করেন, অজ্ঞাত নামা মোবাইল নং-০১৭১০৪৩৪৩০১ থেকে ফোন করে নির্বাচনী এজেন্ট ও রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রোকসানা বেগম টুকটুকি-কে বলা হয়-সে নির্বাচনী প্রচারণা করলে পুলিশ দিয়ে তাকে ধরিয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। টুকটুকি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে মতিহার থানা একটি সাধারণ ডায়েরি করে। তিনি বলেন, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত ধানের শীষ প্রতীক সমর্থকরা হেনস্তার শিকার হচ্ছে। আটককৃত মনোনীত পোলিং এজেন্টসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের রাজশাহী ও রাজশাহী মহানগরীর বাহিরের বিভিন্ন থানার মামলায় চালান করে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ২৩ জুলাই ১৬ নং ওয়ার্ড ধানের শীষের মেয়র প্রার্থীর প্রচার কাজে উক্ত ওয়ার্ড যুবলীগ কর্তৃক বাধা ও হুমকি প্রদান করা হয়। গত ২৩ জুলাই রাতে ১৯ নং ওয়ার্ডে ধানের শীষের ০৮টি ফেস্টুন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। গতকাল রাতে ধানের শীষের ৯ নং ওয়ার্ড নির্বাচনী কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। সংবাদ সম্মেলনে আটক হওযা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নামের তালিকা প্রকাশ। রাজশাহীতে দিলদার হোসেন জনি, বোরহান উদ্দীন লিটন, মো. মেরাজ; মো. নুরুল ইসলাম; মো. আমিনুল ইসলাম; মো. শের আলী (পোলিং এজেন্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত), আব্দুস সেলিম, মো. সেলিম; মো. ইয়াসিন আলী; মো. পিয়াল হায়দার আবু, জয়নুল আবেদীন শিবলী; মইনুল হক হারু, হাফিজুল ইসলাম আপেল; খন্দকার ওয়ায়েশ করণী ডায়মন্ড; মো. গোলাম নবী গোলাপ, ইফতিয়ার মাহমুদ বাবু; জাহাঙ্গীর আলম লাবলু, শামীম আহমেদ, নুরনবী মুক্তার, ইব্রাহিম হোসেন বাচ্চু, মো. রানা, মো. ডোমেন, মো. সাজ্জাদ আলী, মো. মারুফ, আবুল কাশেম; আল আমিন বিদ্যুৎ; মো. মফিজ উদ্দীন, মো. শাহরিয়ার হোসেন নয়ন, মো. জুয়েল, মো. টিপু, মো. সাবদুল, মো. সাইফুল, মো. ইকবাল, মো. রাহাত হোসেন; মো. বাবু, মো. মনিরুল ইসলাম মনা, মো. হাসনাত, মো. শাইরুল, মো. পলাশ, মো. তুষার, মো. ফজলুল হক, মো. টিয়া প্রমূখ। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। তারা হলেন, সাইফুর রহমান নয়ন-সহ-সভাপতি জেলা ছাত্রদল, আবদুল হাই টিটু-সভাপতি ৬নং ওয়ার্ড যুবদল, আল আমিন-সাধারণ সম্পাদক শহর ছাত্রদল ,ফজলুল হক ফজলু-সাংগঠনিক সম্পাদক ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি, রবিউল আলম-সাংগঠনিক সম্পাদক ১২ নং ওয়ার্ড শ্রমিক দল, সোহাগ-যুগ্ম সম্পাদক ১২ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল, আবছার কামাল, সভাপতি ১২নং ওয়ার্ড ছাত্রদল, মোহাম্মদ ইউসুফ-সভাপতি ১২নং ওয়ার্ড শ্রমিক দল, ফারুক-সদস্য ১২ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল, রাসেল-সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ১১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল, আবদুর রশিদ-সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা যুবদল, অলি আহমদ-সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহর ছাত্রদল,হামিদ-সদস্য ১২ নং ওয়ার্ড যুবদল। অন্যদিকে নোয়াখালী জেলাধীন বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচন-২০১৮ উপলক্ষে সেখানে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তান্ডব চলছে। গত ২৩ জুলাই ২০১৮ রাত থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা, বোমাবাজী, এজেন্টদেরকে হুমকি এবং পোষ্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে ছয়ানী ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচন ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি করছি। রিজভী বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর আইনজীবী সমর্থকগণ কর্পোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও শোভাযাত্রা করছে। এই মিছিলে পাবলিক প্রসিকিউটর, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এবং স্পেশাল পিপিগণ অংশগ্রহণ করেছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার পরও তারা কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় আমি দলের পক্ষ থেকে নিন্দা জানাচ্ছি, অবিলম্বে নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর আহবান জানাচ্ছি। অনুরুপভাবে রাজশাহী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও চলছে ব্যাপক অনিয়ম ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক। উক্ত দু’টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারী কর্মকর্তারাও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নৌকা মার্কার পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে। গত পরশু দিন সিলেটে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দু’টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে সহজে ভোট কারচুপি করার জন্যই এই মামলা দায়ের।

অন্যান্য সংবাদ