প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী!

রবিন আকরাম : বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনার হেরফের ও দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ার কয়লা গায়েবের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। এছাড়াও দেশে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশীশক্তি, সন্ত্রাস ও মাদক বিস্তারের ঘটনায় খুবই বিরক্ত দেশনেত্রী। এসব অশুভ তৎপরতা ও অনিয়ম নির্মূল করার জন্য জেলা প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা।

প্রধানমন্ত্রীর এই ক্ষোভের বড় কারণ কয়লা গায়েবের ঘটনা। বিশিষ্টজনের মনে করছেন, আওয়ামী সরকারের শেষ মুুহুর্তে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পেলতে পারে। বিশেষ করে দুর্নীতির ঘটনাগুলো বড় আকারে দেখছেন তারা।

এব্যাপারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ব্যাংকের টাকা লুট হয়, কোনো বিচার হয়না, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের সোনার মান বদলে যায় (২২ ক্যারেট থেকে ১৮ ক্যারেট) তার নিরপেক্ষ তদন্ত হয়না, কোনো বড় দুর্নীতিবাজ শাস্তি পায়না, কিছু চুনোপুটি ধরা পড়ে মাঝে মধ্যে। এই যদি পরিস্থিতি হয় তাহলেতো দুর্নীতি অপ্রতিরোধ্য হবেই।’

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের দেশে দুর্নীতি এখন স্বাভাবিক চিত্র হয়ে গেছে৷

এদিকে গত ২১ জুলাই দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলন করে রাখা ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে গেছে। বর্তমান বাজার মূল্যে এই কয়লার দাম ২২৭ কোটি টাকার ওপরে। কয়লা গায়েবের ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও একজন মহাব্যবস্থাপককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও একজন মহাব্যবস্থাপক ও উপ- মহাব্যবস্থাপককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কয়লা খনি কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা। এছাড়াও ইতোমধ্যে এই ঘটনায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ১৭ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি, তা হয়ে আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ছিল ২২ ক্যারেট সোনা, হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এ ভয়ংকর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে এ অনিয়ম ধরা পড়ে।

এই ঘটনায় অবশেষে ৬ সদস্যের ‘উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন’তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এএনএম আবুল কাসেম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ