প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কথা দিয়ে সেই কাজ করতে পারার মত আনন্দ আর হয় না

তারানা হালিম : কথা দিয়ে সেই কাজ করতে পারার মত আনন্দ আর হয় না। নাগরপুরের আগদীঘলিয়াতে নদী ভাঙ্গনের কথা শুনে নদী ভাঙ্গনকবলিত মানুষগুলোর পাশে ছুটে যাই। সেখানে এক বৃদ্ধা ‘মা’ আমার হাত ধরে বললেন, ‘ত্রাণ চাই না মা ভাঙ্গনটা রোধ করে দাও।’ কথা দিয়েছিলাম, তিন দিনের মধ্যেই অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করবো। নাগরপুর আর দেলদুয়ারের মানুষ জানে, আমি কথা দিলে কথা রাখি বা কথা রাখার চেষ্টা করি। কথা দেবার পর থেকে ভয় হচ্ছিল, পারবো তো। যদি না পারি ঐ বৃদ্ধা মা নিশ্চয় ভুল ভাববেন। ভাববেন, নির্বাচনের আগে সবাই কথা দেয়। কিন্তু আমি যে একটু বেশি আবেগপ্রবণ, না করতে পারা আমাকে কষ্ট দেয়। অন্যের চোখের পানি আমাকে আবেগতাড়িত করে। চেষ্টা অব্যাহত রাখলাম। আল্লাহ সহায় হলেন। ৩ দিনে নয় ৬ দিনের মাথায় অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারলাম।
আমি বৃষ্টির মদ্যে এক কোণায় দাঁড়ানো সেই মায়ের চোখে যে আনন্দ দেখলাম, জীবনে এটা অনেক বড় পাওয়া। চৌহালীতে স্থায়ী একটা বাঁধ আগেই করে দিতে পেরেছিলাম। ঐ বাঁধটা ঠিক যেখানে শেষ, ঐখান থেকে আবার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। সেদিন ওরাও চেয়েছিল বাকিটা অস্থায়ীভাবে যেন এখনি ঠিক করে দেই। সেটারও অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে দেখলাম। ওরা কত অল্পতে খুশি!
এসি রুমে থেকে যদি ওদের কথা আমরা ভুলে যাই, তবে নিজে আদৌ মানুষ হয়েছি কিনা নিজেকে সেই প্রশ্ন করতে হবে আমাদের সবার। যখন কোনো অসহায় মানুষ বলেন, তুমি কথা দিয়ে যাও কারণ তুমি কথা রাখো। তখন আমার আবেগী মনটা ভাবে, আল্লাহ ! কখনো এমন প্রতিশ্রুতি যেন না দেই, যা রাখতে পারবো না। অনেক প্রতিশ্রুতি রাখতে পারি, কিছু রাখতে পারি না, চেষ্টা করার পরও। আহ্! সব প্রতিশ্রুতি যদি রাখতে পারতাম! আমার আবেগটা কি একটু বেশি? কিন্তু আবেগ ছাড়া কি অন্যের দুঃখে কষ্ট পাওয়া যায়? অন্যের দুঃখে কষ্ট না পেলে কি ঐ দুঃখ ঘোঁচানোর তাগিদ থাকে?
পরিচিতি: সংসদ সদস্য, বাংলাদশে আওয়ামী লীগ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ