প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এখনো লক্ষ্যহীন বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় নির্বাচনের মাসপাঁচেক বাকি। কিন্তু নির্বাচনে যাওয়া, না-যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনো লক্ষ্য স্থির করতে পারেনি বিএনপি। কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষের মত দলের ভেতরে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অনেকে শীর্ষনেত্রীর মুক্তির দাবিতে সেপ্টেম্বর থেকে বড় ধরনের আন্দোলনে যাওয়ার পক্ষে। এর পর নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন তারা। অবশ্য কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনে যাওয়ার বিকল্প নেই। তাদের যুক্তি, নির্বাচনবিমুখ হলে দলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব হুমকির মধ্যে পড়বে।
দলটির নীতিনির্ধারকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও সময় নিতে চাইছেন। কারণ খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় কী রায় আসে, তা দেখতে চায় বিএনপি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির জ্যেষ্ঠ এক নেতা বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে নাÑ এটা পরিষ্কার; তা-ও আমরা শেষ দেখতে চাই। এ ছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ও দ্রুতই হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। এ মামলায় তারেক রহমান আসামি। কী রায় হয়, তাও দেখতে হবে।
দলীয় নেতাদের ধারণার কথা উল্লেখ করে ওই নেতা আরও বলেন, বেগম জিয়ার সাজা হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তারেক রহমানের সাজা হতে পারে। এর পর সরকার এ দুজনকে বিএনপির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করতে পারে। দ-িত
কেউ দলীয় প্রধান থাকতে পারবে নাÑ আরপিওতে এমন সংশোধনী আনা হতে পারে কিংবা আদালতের মাধ্যমে এ নির্দেশনা আসতে পারে। সবকিছু দেখার পর লক্ষ্য স্থির করতে হবে।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গত শুক্রবার আড়াই বছর পর অনুষ্ঠিত জনসভায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচন করতে হলে এক নম্বর পূর্বশর্ত হচ্ছে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তাকে কারাগারে রেখে নির্বাচন হবে না এবং মানুষ তা হতে দেবে না।
মির্জা ফখরুল সেদিন আরও বলেন, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনের সময় ম্যাজিস্ট্র্রেসি পাওয়ারসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের সব মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে।
এ ব্যাপারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুও অভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, সরকারের পদত্যাগের পর নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। আগে এসব বিষয়ের মীমাংসা করতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আমাদের সময়কে বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। জনগণও এ ‘অবৈধ’ সরকারকে আর দেখতে চায় না। দেশের মানুষ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। সে প্রস্তুতি আমাদেরও আছে।
জানা গেছে, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রশাসনের ‘বাড়াবাড়ি’তে বিরক্ত বিএনপি হাইকমান্ড। কেউ কেউ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও বিএনপি শেষ পর্যন্ত থাকতে চায়। জাতীয় নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিন সিটির নির্বাচন কেমন হয়, তা পর্যবেক্ষণ করবে বিএনপি।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আছেন, যারা তার নির্দেশে দলের বিভিন্ন কাজ করে থাকেন। এমন একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেছেন, তারেক রহমানের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতিবাচকভাবেই ভাবছেন; তেমন প্রস্তুতিও আছে তার। কিন্তু এটি চূড়ান্ত নয়। আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়েও ভাবছেন তিনি।
জানা গেছে, গত কয়েক মাসে বিএনপির কয়েকজন নেতা একাধিকবার ভারত সফর করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেশী দেশটির ভাবনা জানতে বিজেপি ও কংগ্রেসের নেতা এবং দেশটির উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। কিন্তু তাদের নীতিতে পরিবর্তন দেখেননি। এরই মধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক নৈশভোজে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বাংলাদেশের বিষয়ে বেইজিংয়ের মনোভাব বুঝতে চেষ্টা করেছেন। মাসখানেক ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছে দলটি। বৈঠকে সব দেশের প্রতিনিধিরাই প্রশ্ন করেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা। এক্ষেত্রে বিএনপি সরাসরি উত্তর না দিয়ে বরং খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনের যে পরিবেশ নেই, তা তুলে ধরে। তবে এসব বৈঠক থেকে বিএনপি ‘সুনির্দিষ্ট’ কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।
গত রবিবার বিএনপির সম্পাদকম-লীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেও নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন। তারা জানান, প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে এর পর নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় এবং তার পর নির্বাচনে যাবে বিএনপি। লক্ষ্যহীন বিএনপি এখন জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকার পরিকল্পনা করছে।
এ ছাড়া দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং করণীয় নিয়ে সপ্তাহে একাধিকবার স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠক করছেন। সেসব বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিএনপিকে একের পর এক ইস্যু সামলাতে হচ্ছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি-অসুস্থতা, সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইত্যাদি ইস্যুতে বিএনপিকে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে। সরকার এক-একটি ইস্যু সামনে এনে বিএনপিকে দ্বিধার মধ্যে ফেলছে। সে কারণে সুনির্দিষ্ট কোনো প্ল্যান এ পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি দলটি।
সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত