প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ. লীগ বিপাকে, স্বস্তিতে বিএনপি!

ডেস্ক রিপোর্ট :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ক্রমেই সরগরম হয়ে উঠছে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড উপজেলা, নগরের আকবরশাহ ও পাহাড়তলীর একাংশ) সংসদীয় আসনের রাজনীতি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হচ্ছে ধরে নিয়ে মাঠ গোছাতে নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ফলে ইতিমধ্যে অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কোন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী কারা। আর এতেই বিপাকে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এই দলে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী থাকায় মনোনয়ন সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। একাধিক প্রার্থীর কথা শোনা যাচ্ছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টিরও। সেদিক থেকে বিএনপির একক প্রার্থী নিশ্চিত বলে দাবি দলটির।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে অনেকেই মনোনয়ন চাইবেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আবুল কাসেমের ছেলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও আলম-লায়লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল চৌধুরী, ঢাকাস্থ সীতাকুণ্ড সমিতির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী। জাতীয় পার্টিরও সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থীর কথা শোনা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে আছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাচ্চু ও দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব দিদারুল কবির। এখানে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। উপজেলা জামায়াতের আমির আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ : মনোনয়ন নিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য দিদারুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সীতাকুণ্ডে ব্যাপক নাশকতার সময়ই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর আস্থা রেখে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হয়ে আমি এলাকার উন্নয়নে যথাসাধ্য কাজ করে গেছি। সরকারি বরাদ্দে বাঁশবাড়িয়া সুবিশাল বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুৎ দেওয়া, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, গরিব-দুঃখী মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে শতকোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত টাকায় কলেজ স্থাপন, সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপনসহ নানাভাবে জনকল্যাণে কাজ করে গেছি।’

সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করার কথা জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, এসব করতে গিয়ে তিনি বিএনপি-জামায়াতের শত্রু হয়েছেন। তিনি আশা করেন, গতবারের মতো এবারও জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে মনোনয়ন দিয়ে এলাকার উন্নয়নের সুযোগ দেবেন।

মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘সুদীর্ঘকাল ধরে আমি সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত রেখেছি। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত সব সময় দলের জন্য কাজ করে গেছি। বর্তমান নেতাকর্মীরা এর সাক্ষী।’ ২৬ বছর ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন জানিয়ে বাকের বলেন, ‘মনোনয়ন চেয়েছি বিগত দিনেও; কিন্তু দল যখন যাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে তাঁর জন্য কাজ করেছি। কখনো কারো বিরোধিতা করিনি। এখনো দলকে শক্তিশালী করতে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দলের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। বিগত দিনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থীকে পরাজিত করে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছি। আমার বিশ্বাস, দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এবার প্রথমবারের মতো দলীয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে এমপি প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করবেন।’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী এস এম আল মামুন বলেন, তিনি ১৯৭৯ সালে স্কুল ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। এরপর ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সহসভাপতি ও ২০১৩ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। পাশাপাশি সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত তিনি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দল ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করছেন তিনি।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে সরকারি বরাদ্দ ও নিজের ব্যক্তিগত অর্থে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে দলের সুনাম বাড়ানোর পাশাপাশি দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন বলেও জানান মামুন। তিনি বলেন, ‘সবই দলের হাইকমান্ড অবগত আছে। তাই এবার এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী আমি। আশা করছি জননেত্রী শেখ হাসিনা এসব সুবিবেচনায় নিয়ে আমাকে বিবেচনা করবেন।’

ব্যবসায়ী বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা আমি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে গিয়েছিলাম। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোনো সুযোগ-সুবিধা চাইনি। ২০০১ সালে আমি মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছিলাম। সে সময় নেত্রী সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম আবুল কাসেমের জন্য কাজ করতে নির্দেশ দেন এবং পরেরবার আমাকে বিবেচনার আশ্বাস দেন।’ দলের দুঃসময়ে সহযোগিতা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেকোনো প্রয়োজনে দলের সঙ্গে আছি। এলাকার অনেক নেতাকর্মীই নানা কারণে আমাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তাঁদের অনুরোধে আমি এবার মনোনয়ন চাইব। আমার বিশ্বাস, নেত্রী আমাকে সুযোগ দেবেন।’

মনোনয়নের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন দুঃসময়ের নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফা কামাল চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজেকে জনসম্পৃক্ত রেখেছেন। ১৯৯২ সালে বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে থাকা এই নেতা ৯৩ সালে উপজেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অনেক ভোট পেলেও নির্বাচিত হতে পারেননি। এবার তিনি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান।

বিএনপি : কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আসলাম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে জেলহাজতে থাকলেও তাঁর মনোনয়ন নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর। তাঁর মতে, সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে আসলাম চৌধুরীর কোনো বিকল্প নেই। সব নেতাকর্মী তাঁকে শ্রদ্ধা করে। ফলে এখানে আসলাম চৌধুরী ছাড়া আর কেউ মনোনয়ন চাইবেনই না। আর মনোনয়ন পেলে তাঁর জয় সুনিশ্চিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। কারণ হিসেবে জহুর বলেন, ‘শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের সমর্থন নয়, আসলাম চৌধুরীর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। ফলে তাঁর সঙ্গে লড়াই করে জয়ী হবেন, এমন প্রার্থী সীতাকুণ্ডে নেই।’

এদিকে উপজেলা জামায়াতের আমির আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীকে নিয়ে বিএনপি জোটের এই শরিক দলটি ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় পার্টি : আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বেশি হওয়ায় এর সুযোগ নিতে চায় দলটির মিত্র ও সরকারের শরিক জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগের কোন্দল কাজে লাগিয়ে এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির জয়ী হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন দলের নেতারা।

একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর কথা শোনা গেলেও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন তিনি পাবেন—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব দিদারুল কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দল এবার আমাকেই একক প্রার্থী করবে। এ আসনে জাপার আর কোনো প্রার্থী নেই। কেউ প্রার্থী দাবি করলে সেটা তাঁর নিজস্ব মতামত হতে পারে, দলীয় নয়। আমি সে হিসেবে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তবে দলটির আরেক নেতা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘মনোনয়ন যে কেউ চাইতে পারে। আমিও আমার দল থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। কারণ উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে আমি সমগ্র সীতাকুণ্ডে উন্নয়নমূলক কাজের মধ্য দিয়ে উপজেলায় গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছি। ভবিষ্যতেও যদি সুযোগ পাই তাহলে এলাকার উন্নয়নে অনেক কাজ করার ইচ্ছা আছে।’
সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ