প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকায় পানিপথের যুদ্ধ!

ডেস্ক রিপোর্ট:  টানা বৃষ্টিতে নগরজুড়ে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়কও। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরো কয়েকদিন এরকম অবস্থা থাকবে। গতকাল সরজমিন নগরীর মিরপুর-১, মিরপুর-১০, ১৩, ১৪, কালশি, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, তালতলা, দারুসসালাম আনসার ক্যাম্প, মতিঝিল, কমলাপুর , পীরজঙ্গি মাজার, মতিঝিল আইডিয়াল, কাওরানবাজার, বাসাবো, মুগদা, মানিকনগর, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, গোড়ান, সিপাহীবাগ, মাদারটেকসহ আরো একাধিক এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত হয়। এর বাইরে দিনভর বৃষ্টি থাকায় ঘরের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারতে পারেননি অনেকেই।
বিশেষ করে সকালে অফিসগামী মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের বাইরে এসে বেশ বেগ পেতে হয়। বৃষ্টি, জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পরিবহন সংকট ছিল চরমে। বেশির ভাগ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। কিছু কিছু সড়কে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করেছে। প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ ছিল। তবে যেসব এলাকায় উন্নয়ন কাজের খোঁড়াখুঁড়ি চলছে ওইসব এলাকায় ভোগান্তি একটু বেশিই ছিল। বৃষ্টির পানি জমে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সৃষ্ট গর্তগুলো মূল সড়কের সঙ্গে মিশে গেছে। এতে করে অধিকাংশ যানবাহন গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। আবার অচেনা পথে এসে কূলকিনারা না পেয়ে অনেকেই গর্তে পড়ে আহত হচ্ছেন।

এসব কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। সংশ্লিষ্টদের অবহেলাকে দায়ী করে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, একটা রাজধানী শহরের যদি এই অবস্থা হয় তবে অন্য এলাকায় কি হবে। সংশ্লিষ্টদের দায় দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নুরুল হক। বঙ্গভবন এলাকায় আশরাফ আহমেদ বলেন, এ কেমন শহর? আকাশে মেঘ দেখা দিলে এই শহর তলিয়ে যায়। এমনকি বঙ্গভবন এলাকায় জলাবদ্ধতার দেখা দেয়। বৃষ্টি হলে এমনিতে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে বেগ পেতে হয়। তার ওপর আবার পানি নিষ্কাশন না হলে দুর্ভোগের আর শেষ থাকে না। মিরপুর এলাকার বাসিন্দা হাফিজ বলেন, তালতলা থেকে শুরু করে শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুরের একাধিক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকার প্রধান সড়কে পানি থাকায় মানুষের কষ্টের সীমা নাই। স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এক ঘণ্টার রাস্তা তিন ঘণ্টায় শেষ হচ্ছে না। বিকল্প সুপার সিটি বাসের যাত্রী রফিক ইসলাম বলেন, মিরপুর গোল চত্বর থেকে সকাল ১১টায় বাসে উঠেছিলাম। প্রায় দেড়টার দিকে এসে পল্টন পৌঁছেছি। তিনি বলেন, সড়কে পানি থাকার কারণে চালকরা কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না। কারণ সোমবারের বৃষ্টিতে গর্তে পড়ে অনেক এলাকায় বাসসহ ছোট বড় অনেক গাড়ি উল্টে পড়েছে। তাই চালকরা রিকশা নিতে চায় না। আর জলাবদ্ধতা থাকলে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। গোড়ান এলাকার বাসিন্দা ছমির আলী বলেন, দুদিন ধরেই ঘরের ভেতরে পানি। ঘরের কোনো কাজই করা যাচ্ছে না এমনকি রান্নাবান্না। বাইরে থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে। মানবজমিন।