প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চেকে স্বাক্ষর না করায় ফুফুকে হত্যা, দেখে ফেলায় দাদিও খুন

ডেস্ক রিপোর্ট : ফুফু শাহ মেহেরুন নেসার কাছে টাকা চেয়েছিলেন ভাইয়ের ছেলে মুশফিকুর রহিম ব্যাপ্তী (৩০)। কিন্তু ফুফু টাকা দিতে অপরাগতা পোষণ করেন। পরে নিজেই আলমিরা থেকে চেক বের করে ফুফুর কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করেন। তবে ফুফু চেকে স্বাক্ষর না করায় ঘরে থাকা বসার পিঁড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয় তাকে।

আর এই ঘটনা দেখে ফেলায় দাদিকেও গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করেন তিনি। নগরের খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় এমনই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন মুশফিকুর রহমান ব্যাপ্তী নামে মেহেরুন নেসার ভাইয়ের ছেলে।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মুশফিকুর রহিম ব্যাপ্তী আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেন, গত ১৪ জুলাই রাতে ফুপুর বাড়িতে যান মুশফিকুর রহিম ব্যাপ্তী। তিনি রাতে খাবার খাওয়ার পর ফুফুর কাছে টাকা চান। কিন্তু ফুফু টাকা দিতে অস্বীকার করায় রাতের দেড়টার দিকে একে একে দু’জনকে হত্যা করেন তিনি।

জবানবন্দিতে বলেন, মুশফিকুর রহিম সম্পর্কে শাহ মেহেরুন নেসার ভাইয়ের ছেলে। ব্যবসা করতেন তিনি। ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় লোকসান হয় তার। ব্যবসায় খাটানোর জন্য ১৪ জুলাই রাতে ফুফুর শাহ মেহেরুন নেসার (৬৭) কাছে টাকা চান তিনি। কিন্তু ফুফু মেহেরুন নেসা তাকে টাকা দিতে রাজি হননি। এই নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় তাদের।

এক পর্যায়ে মুশফিকুর রহিম নিজে আলমারি ভেঙে ব্যাংকের চেকবই বের করে ফুফুর কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় ফুফুর সাফ জওয়াব কোনো টাকা দেয়া হবে না। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িতে থাকা বসার পিঁড়ি দিয়ে ফুফু মেহেরুন নেসার মাথায় আঘাত করেন মুশফিক। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে এই ঘটনা দেখে ফেলেন দাদি মনোয়ারা বেগম (৯৭)। বলে দেযার ভয়ে দাদিকেও শ্বাসরোধে করে হত্যা করেন তিনি। পরে দু’জনের লাশ বাড়ির সিঁড়ির নিচে থাকা পানির রিজার্ভারে ফেলে দেন। আদালতকে জানান পুরো হত্যাকাণ্ডটি একাই ঘটিয়েছেন তিনি। এরপর রাতেই থেকে ওই বাসা থেকে বেড়িয়ে নিজ গন্তব্যে চলে যান।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস খান এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার মুশফিকুর রহিম ব্যাপ্তী নামে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সে একাই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে আদালতকে জানান।

মামলার এই তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস খান বলেন, ঘটনার পরপরই তার আচরণ সন্দেহজনক হয়। তখনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে আজ আদালতে হাজির করা হয়। তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মুশফিকুর রহিম ব্যাপ্তীর বাবা মতিউর রহমান মারা গেছেন। এরপর তার মা দেবর মোস্তাফিহুর রহমানের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। সে থেকে মুশফিকুর রহিম ফুফুর কাছে বড় হন। পরে আমবাগান এলাকার এক সন্ত্রাসীর ছোট বোনকে বিয়ে করায় মুশফিকুর রহিমকে ঘর থেকে বের করে দেন ফুফু মেহেরুন নেসা।

গত ১৫ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়দের খবরে খুলশী থানার আমবাগান ময়দার মিল এলাকার মেহের মঞ্জিলের রিজার্ভ ট্যাংকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মনোয়ারা বেগম (৯৭) চাঁদপুর জেলার মতলব পুরানবাজার এলাকার ফজলুর রহমানের স্ত্রী ও তার কন্যা শাহ মেহেরুন নেসা বেগম (৬৭) অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকতা। মেহেরুন নেসা রূপালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার ছিলেন। অবিবাহিত এই ব্যাংক কর্মকর্তা কয়েকবছর আগে অবসরে যান।

এই ঘটনায় মনোয়ারা বেগমের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (আসামির সৎ বাবা) বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে খুলশী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সূত্র : পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ