প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গতিহারা চোরাচালান বিরোধী অভিযান

ডেস্ক রিপোর্ট:  জনবল সংকটে গতি পাচ্ছে না চোরাচালানবিরোধী অভিযান। ফলে বাড়ছে শুল্ক ফাঁকি। রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে সরকার। মাত্র ৮০ জন কর্মকর্তা নিয়ে রুটিন কাজই শেষ করতে পারছে না শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। এই সীমিত জনবল দিয়েই বিমানবন্দর, স্থলবন্দর, শুল্কবন্দরসহ সারা দেশে চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে সক্রিয় শুল্ক গোয়েন্দা। সংস্থাটি জল, স্থল ও আকাশপথে অবৈধ বাণিজ্যসহ আর্থিক অপরাধ ঠেকাতে চায়। এজন্য ডগস্কোয়াড, হেলিকপ্টার, জাহাজসহ ৩ হাজার ১৬৮ জনবলের যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাও পৌনে দুই বছর যাবৎ ঝুলে আছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম গতকাল বলেন, মাত্র ৮০ জন কর্মকর্তা আর অল্প কিছু কর্মচারী দিয়ে চলছে সব কার্যক্রম। চাহিদার তুলনায় এটা খুবই কম। জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ একটি আছে। তবে শুল্ক গোয়েন্দা যে জনবলের প্রস্তাব দিয়েছে, তার কোনো অগ্রগতি হয়নি। জানা গেছে, চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে অর্থ পাচার ও জঙ্গি অর্থায়নের নিবিড় যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে সরকারের রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তাই দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় সন্ত্রাসবাদ, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য অবৈধ বাণিজ্য সংকুচিত করতে নিজেদের কার্যক্রম শক্তিশালীকরণের ওপর নজর দিয়েছে রাজস্ব প্রশাসন। এমন প্রেক্ষাপটে সারা দেশের জল, স্থল ও আকাশপথে অবৈধ বাণিজ্যসহ আর্থিক অপরাধ ঠেকাতে ৩ হাজার ১৬৮ জনবলকাঠামো, ৩০টি ডগস্কোয়াড, দুটি হেলিকপ্টার ও পাঁচটি সামুদ্রিক জাহাজের প্রস্তাব করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। এনবিআরে ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর শুল্ক গোয়েন্দার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন ও সম্প্রসারণের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরপর চলে গেছে পৌনে দুই বছর। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, শুল্ক গোয়েন্দা চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে দৃশ্যমান বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এর সাংগঠনিক কাঠামোয় মোট জনবল রয়েছেন ৩৩৪ জন (সুপারনিউমারিসহ)। তবে আছেন মাত্র ৮০ জন কর্মকর্তাসহ কিছু কর্মচারী। এই সীমিতসংখ্যক জনবল দিয়ে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সামনে রেখে ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা এখন সময়ের দাবি। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে— রাজস্ব আহরণ, সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখতে সম্প্রতি সোনা, মাদক, মুদ্রা ও অন্যান্য ক্ষতিকর পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে শুল্ক গোয়েন্দার কার্যক্রম দৃশ্যমান এবং বিভিন্ন মহলে নন্দিত হয়েছে। এই দফতরের বর্তমান ভূমিকা সংসদেও প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমানে সন্ত্রাসবাদ বিস্তারের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় এনে শুল্ক গোয়েন্দার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত জনবলের সারসংক্ষেপে দেখা যায়, একটি মহাপরিচালক পদের সঙ্গে চারটি অতিরিক্ত মহাপরিচালকের পদ সৃষ্টি করতে বলা হয়েছে। এর সঙ্গে নতুন অন্য পদগুলো হলো— ১০টি পরিচালক, ১৮টি যুগ্মপরিচালক, ৮২টি উপসহকারী পরিচালক, একটি চিফ ক্যামিস্ট, একটি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, দুটি টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার, ছয়টি পাইলট, চারটি ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার, একটি প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, ৫৬টি প্রোগ্রামার, ১২৮টি রাজস্ব কর্মকর্তা, ৫১৮টি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, ৬৩টি সহকারী প্রোগ্রামার, ৬৯টি কম্পিউটার অপারেটর, ১৮টি অফিস সুপারিনটেনডেন্ট, ৫৫টি প্রধান সহকারী, ১২৫টি উচ্চমান সহকারী, পাঁচটি সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, ২৮টি সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর, ৫৯টি ক্যাশিয়ার, ১৫৫টি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ১৫১টি ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ১৮২টি গাড়িচালক, ৬৫টি ফটোকপি মেশিন অপারেটর, ১১২টি ডেসপাস রাইডার, ৬৯টি সাব-ইন্সপেক্টর, পাঁচটি ডগ হ্যান্ডলার ট্রেইনার, ৭২৪টি সিপাই, ৪০টি ডগ হ্যান্ডলার, ১০টি স্পিডবোট চালক, ২৫৪টি অফিস সহকারী/এমএলএসএস, ৫৭টি নৈশপ্রহরী ও ৯০টি সুইপার— এই মোট ৩ হাজার ১৬৮ জনবলের পাশাপাশি ৩০টি ডগ স্কোয়াডের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত