প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাঁচ হাসপাতাল বদল নূরের

ডেস্ক রিপোর্ট : চিকিৎসা পেতে এ যেন রীতিমতো যুদ্ধ। ছাত্রলীগের পিটুনির শিকার কোটা আন্দোলনের নেতা নূরুল হক নূরকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। শুরুতে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর একে একে তাকে বদলাতে হয়েছে পাঁচটি হাসপাতাল। ভুগছেন গ্রেপ্তার আতঙ্কেও। চিকিৎসার খরচ বহনেও হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার।

গতকাল তার সঙ্গে আলাপকালে নূর জানান, শুরু থেকে এ পর্যন্ত তাকে একে একে পাঁচটি হাসপাতাল পরিবর্তন করতে হয়েছে। এক হাসপাতালে বেশিদিন অবস্থান করা যাচ্ছে না। ফলে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল, উত্তরা ক্রিসেন্ট, হোপ, হাই কেয়ারসহ মোট পাঁচটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। নূর জানান, বর্তমানে যে হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন সেটাও তার জন্য নিরাপদ নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভয় পায়। চিকিৎসার স্বার্থে নিজের নামটা পর্যন্ত পরিবর্তন করতে হচ্ছে তাকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন, আমাকে রাখলে তাদের হাসপাতালের সমস্যা হবে। যে কারণে রিলিজ দিয়ে দেয়। ভর্তি তারা ঠিকই করে কিন্তু বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন এলে তারা আর রাখতে চায় না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, যে উপর মহলের চাপ আছে যেকোনো সময় আপনাকে হাসপাতাল ছাড়তে হতে পারে।

নুরুল হক বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক। নিজেকে এখন বাংলাদেশের অন্যতম অপরাধী মনে হচ্ছে। আত্মীয়স্বজনরাও তাদের বাসায় রাখতে ভয় পায়। আমাকে থাকতে দিয়ে তারা কোনো পুলিশি ঝামেলায় পড়তে পারে এই ভয়। এখন টার্গেট হচ্ছি আমরা যারা ৩-৪ জন বাইরে আছি তারা। আমাদের যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এই টেনশন নিয়ে আসলে কতটা ভালো থাকা যায় জানি না। এদিকে শরীরের তেমন কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ডাক্তার বলেছেন, পুরোপুরি সেরে উঠতে আরো সময় লাগবে। হাত, কোমর, ঘাড় সারাক্ষণ ব্যথা করে। ডানে বায়ে কাত হয়ে শুতে পারি না। চিকিৎসার খরচও দিনকে দিন বেড়েই চলছে। এ পর্যন্ত ৩ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। পুরো খরচই পরিবারকে বহন করতে হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষক ও ডিপার্টমেন্ট থেকে সামান্য কিছু আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ৩০শে জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন নূর।

এদিকে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের হাতুড়ির পিটুনিতে আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। গত ৯ই জুলাই তরিকুলের পায়ে প্রথম অস্ত্রোপচার করার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও কয়েকদিন পরেই অবস্থার অবনতি ঘটতে শুরু করেছে। ইনফেকশন হয় তার ডান পায়ে। যেখানে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। তখন থেকেই বাড়তে থাকে পায়ের ব্যথা। গত রোববার তার পায়ের দ্বিতীয় সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তরিকুলের এক সহপাঠী। তিনি বলেন, তরিকুল বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সঙ্গে রয়েছেন তার বড় ভাই তৌহিদুল। তবে কোন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে নিরাপত্তার স্বার্থে তা তরিকুলের পরিবার ও সহপাঠীরা জানাতে অপারগ প্রকাশ করছেন। তরিকুলের বন্ধুরা জানান, প্রথম অপারেশনের পর তরিকুলের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু তার পায়ে তীব্র ব্যথা কমছিল না। মেরুদণ্ড, কোমর ও পায়ের জন্য থেরাপি দেয়া হচ্ছিল। কিছু দিন পরেই ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়। পরে ডাক্তার জানায় যে, তরিকুলের ডান পায়ে ইনফেকশন হয়েছে। যতই দিন যাচ্ছে তরিকুলের শারীরিক অবস্থা ততই অবনতি হচ্ছে। এখনো সোজা হয়ে বসতে পারছে না সে। কারোর সাহায্য ছাড়া সে ঘুরে বসতে পারে না। হাত-পা সহ পুরো শরীর ব্যথায় কাতরাচ্ছে তরিকুল। চিকিৎসার জন্য যে পরিমাণ টাকার দরকার সেই টাকা তরিকুলের কৃষক পিতার পক্ষে একা বহন করা সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দানের টাকায় চিকিৎসা চলছে। তবে হাসপাতালে অনেক টাকা বকেয়া রয়েছে। বকেয়ার পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলছে।

গত ২রা জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পতাকা মিছিলে ছাত্রলীগের কয়েক নেতাকর্মী তরিকুলকে নির্মম ভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। হাতুড়ির আঘাতে তার মাথা ফেটে যায় এবং ভেঙে যায় ডান পায়ের হাঁটুর নিচের দুটি হাড়। ৫ই জুলাই অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা অসম্পন্ন রেখেই ছাড়পত্র দেয়ার পর শহরের বেসরকারি হাসপাতাল রয়্যালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসায় সেখান থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ