প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিন রহস্যে বিব্রত সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট:  একই সময়ে তিনটি ঘটনা। সৃষ্টি হয়েছে গভীর রহস্যের। বাংলাদেশ ব্যাংকে হিসাব মিলছে না রক্ষিত সোনার। বড় পুকুরিয়ায় প্রায় দেড় লাখ টন কয়লার খোঁজ নেই। অন্যদিকে মিরপুরে হঠাৎ গুপ্তধনের সন্ধানে নেমেছে পুলিশ।

এ তিন ঘটনায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা রহস্য থেকেই গেল

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা রাখা সোনা কীভাবে মিশ্র ধাতু হয়ে গেল সে রহস্যের এখনো কোনো সুরাহা হলো না। কীভাবে ২২ ক্যারেট সোনা ১৮ ক্যারেট হয়ে গেল তাও জানা গেল না। সোনা কেলেঙ্কারির ঘটনাটি গণমাধ্যমে আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টিকে ‘করণিক ভুল’ বলে চালিয়ে দিতে চাইলেও মেনে নেয়নি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। বলেছিলেন, অর্থমন্ত্রী দেশে ফেরার পর তাঁকে সব জানানো হবে। অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন। গতকাল সচিবালয়ে ডিসি সম্মেলন শেষে সোনা কেলেঙ্কারি নিয়ে মন্তব্যও করেছেন। সেই মন্তব্যে তিনি উল্টো বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, সোনা নিয়ে অনর্থক আলোচনা হচ্ছে। জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশে ফেরার পর সোনা কেলেঙ্কারির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই কমিটির প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে দুই মাস। এরপর ওই প্রতিবেদন প্রকাশ হলে জানা যেতে পারে ভল্টে রাখা সোনা কীভাবে বদলে গেল। আর রিজার্ভ কেলেঙ্কারি নিয়ে করা সরকারের প্রতিবেদনের মতো এই কমিটির প্রতিবেদনও যদি আটকে যায় তবে সোনা রহস্য চিরকাল রহস্যই থেকে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রগুলো জানায়, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে সোমবার (২৩ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ছয় সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। ছয় সদস্যের এই কমিটিতে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের চারজন জিএম (মহাব্যবস্থাপক) ও একজন ডিজিএম। এই কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এ এন এম আবুল কাসেমকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, কমিটি গতকালই কাজ শুরু করেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে গভর্নরের কাছে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এই কমিটি সোনা নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের প্রতিবেদনে উল্লিখিত অনিয়মের সত্যতা খতিয়ে দেখা ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সোনা রাখার পদ্ধতি আরও আধুনিক করা এবং সোনার মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও আধুনিক পদ্ধতি কীভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে সুপারিশ করবে। এদিকে সোনা কেলেঙ্কারি ইস্যুতে এনবিআরের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা নিয়ে এনবিআরের কোনো কথা বলারই প্রয়োজন ছিল না। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিষয়। গতকাল সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। মুহিত বলেন, ৯৩৬ কেজি সোনার মধ্যে দূষিত সোনার পরিমাণ মাত্র ৩ কেজি। তাও পুরোটা নয়। কাজেই এটি বড় কোনো সমস্যা নয়। সোনা নিয়ে অনর্থক আলোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে যা করার বাংলাদেশ ব্যাংকই করবে। গত ১৭ জুলাই ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে জমা রাখার পর তা মিশ্র বা সংকর ধাতু হয়ে যায়। এ ছাড়া ২২ ক্যারেটের সোনা ১৮ ক্যারেট হয়ে যায় বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার করা একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গণমাধ্যমে ওই সংবাদ প্রকাশের পরপরই বিষয়টি লুফে নেয় সরকারের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো। তারা সভা-সেমিনারে বিষয়টি নিয়ে সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেন। পাশাপাশি রিজার্ভ কেলেঙ্কারির সমাধান না হতেই আবার সোনা কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম জড়িয়ে পড়ায় অস্বস্তিতে পড়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল। ওইদিনই বাংলাদেশ ব্যাংক এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে ভল্টে রাখা সোনায় কোনো হেরফের হয়নি।

এত কয়লা গেল কোথায় কেউ জানে না

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ১ লাখ ৪২ হাজার টনের বিপুল পরিমাণ কয়লা হঠাৎ গায়েব হয়ে গিয়েছে। আর কয়লা সংকটে বন্ধ হয়ে পড়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লাচালিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে রংপুরের বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার মানুষ। কিন্তু এত কয়লা কোথায় গায়েব হয়ে গিয়েছে সে সম্পর্কে কেউই কিছু জানেন না। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে খোয়া যাওয়া কয়লার ব্যাপারে পূর্ণ তদন্ত কার্যক্রমের নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য পেট্রোবাংলাকেও মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আর কয়লা গায়েবের ঘটনায় দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতার আলামত মিলেছে বলেও জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা। এমনকি কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট আরও চারজনকে দেশত্যাগ করতে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগে চিঠিও পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনুসন্ধানে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর ধরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লার অবৈধ ব্যবহার ও এর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠেছে। বড়পুকুরিয়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষ এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত। বড় বড় কয়লা ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের অনেকেই আছেন, যারা ক্ষমতাসীন দলীয় লোকজনের সঙ্গে চলাফেরা করেন তারাও এই সিন্ডিকেটে জড়িত। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে কয়লা আন্দোলনকারী ও কয়েকটি দায়িত্বশীলরা এসব কথা জানান। তারা আরও জানান, কয়লা উত্তোলনের পর সুবিধাভোগীদের অনেকে ইটভাটার নামে ভুয়া ডিও লেটার তৈরি করে আবার প্রকৃত ইটভাটার মালিকরা তাদের চাহিদাপত্র দিয়ে, দায়িত্বশীল মহল যেমন— স্থানীয় মন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুপারিশপত্র দিয়ে নিজেদের চাহিদাপত্র অনুযায়ী খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করেন। আবার কয়লা খনির কয়েকজন কর্মকর্তা টাকা খাটিয়ে কয়লা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অবৈধ এই কর্মকাণ্ডে জড়িত আছেন। তবে আপাতদৃষ্টিতে এই বিশাল পরিমাণ কয়লার হদিস বের করা খুব কঠিন ব্যাপার। এ জন্য দীর্ঘদিন সময়ও লাগবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জিটিসি মধ্যপাড়ার কঠিন শিলার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘২০১২-১৩’ সালের দিকে আমি নিজেই ভুয়া ১১০টি ডিও হাতে পেয়েছি। আর এই কাজের সঙ্গে কয়লা খনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু কর্মকর্তা জড়িত ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই কর্তকর্তাদের চিহ্নিত করা যায়নি। পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও স্থানীয় কয়লা আন্দোলনকারী মশিউর রহমান বুলবুল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এখানে সিস্টেম লস কিছু আছে কিন্তু এখানে কয়লা চুরিও গেছে। না হলে এত কয়লার হঠাৎ উধাও হওয়ার কথা নয়। ইতিপূর্বে ৩০০ টন কয়লার (২৭ লাখ টাকার) ঘাপলা ছিল। কিন্তু খনির কর্মকর্তারা তখন নিজেরাই বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। আবার খনির কিছু ভুয়া কর্মকর্তার যোগসাজশে কয়লা বোঝাই অনেকগুলো ট্রাকের সঙ্গে লুকানো কিছু ট্রাকে করেও কয়লা পাচার করা হয়। খনির একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মাসুদ হাওলাদার এই কয়লা চুরির যোগসাজশের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে ধারণা করছি। ২০১৬ সালে একবার কয়লা সংকট হলে খনি বন্ধের আগে তিনজন ব্যবসায়ীর কাছে ত্রিশ হাজার টন কয়লা বিক্রি করা হয়। এর পরদিনই খনি বন্ধ হয়ে যায়। এই তিন ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে উধাও হয়ে যাওয়া কয়লা সম্পর্কে জানা যেতে পারে।

এমডি-জিএমের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা : বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ চারজনকে দেশত্যাগ করতে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল দুদক থেকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় তদন্তে গঠিত কমিটি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। দুদকের ওই চিঠিতে তালিকাভুক্ত অপর ব্যক্তিরা হচ্ছেন— বড়পুকুরিয়া কোল মাইন কোম্পানির এমডি হাবিব খুরশিদ আহমেদ, জিএম (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়া, জিএম (কোল মাইনিং) আবু তাহের মোহাম্মদ নুরুজ্জামান চৌধুরী এবং ডিজিএম (স্টোর) এ কে এম খাদেমুল ইসলাম। তদন্ত কমিটির প্রধান উপ-পরিচালক শামসুল আলম জানান, আমরা তদন্তের প্রয়োজনে যা যা দরকার সব ব্যবস্থাই গ্রহণ করছি।

কূলকিনারা হলো না গুপ্তধনের

হঠাৎ করেই চাউড় হয়ে গেল গুপ্তধনের খবর। এক কান দুই কান করে খবরটি জেনে গেল দেশবাসী। অমূল্য এই সম্পদ উদ্ধারে মোতায়েন করা হলো পুলিশ। নেওয়া হলো কড়া নিরাপত্তা। মাটি খুঁড়ে গুপ্তধন উদ্ধারের চেষ্টাও চলে দুই দিন। কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না। এখন চলছে এ নিয়ে প্রযুক্তিগত গবেষণা। এদিকে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে সন্দেহ-সংশয়। অনেকে এটা নিয়ে হাস্যরসও করছেন।

অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে- এটা বাড়ি দখলের কোনো অপচেষ্টা কিনা। আবার কেউ এটিকে ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন।  দুই পক্ষের সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পরিপ্রেক্ষিতে খনন শুরু হলেও স্ক্যানার মেশিনের অজুহাতে তা স্থগিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া গুপ্তধন খোঁজার দায়ভার নিয়ে থানা পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের কাছ থেকেও পাওয়া যায় ভিন্ন বক্তব্য। বাড়িটির মালিক মনিরুল ইসলাম জানান, গুপ্তধন আছে- এমন কথায় তার বাড়ির সামনে রীতিমতো কয়েকদিন মানুষের ভিড় জমে। এতে তিনি অনেকটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতেই তিনি গুপ্তধন উদ্ধারের আহ্বান জানিয়ে থানায় জিডি করেন। এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির বলেন, ‘গুপ্তধন খুঁজতে খনন অভিযানের ডায়েরি থেকে শুরু করে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে আগের ওসির দায়িত্বকালীন। থানা পুলিশ জিডি নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। পরবর্তীতে বাকি সব আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাইলে ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, ওই বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ আবেদন করেনি। খনন অভিযানের সব আয়োজন করেছিল থানা পুলিশ। তারা শুধু আমাদের কাছে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, ভূতত্ত্ব বিভাগ সেই স্থানটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। তাদের মতামত সাপেক্ষে আগামী শনি কিংবা রবিবার ফের অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুজ্জামানের নেতৃত্বে মিরপুরের ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১৬ নম্বর রোডে দুই কাঠা জমির ওপর নির্মিত বাড়িতে শুরু হয় গুপ্তধন খোঁজার অভিযান। প্রায় ৫ ঘণ্টা পর তা স্থগিত করা হয়।  সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা ইলেকট্রিক পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারের ৫০ গজ পশ্চিমে ওই বাড়ির অবস্থান। বাড়িটি দেখাশোনা করেন শফিকুল ইসলাম ও সুমন নামে দুজন। সুমন জানান, ২০১০ সালে সেলিম নামে একজনের কাছ থেকে তাদের মালিক মনিরুল ইসলাম বাড়িটি কিনেন। এরপর থেকে তারাই বাড়িটিতে অবস্থান করে দেখাশোনা ও তত্ত্বাবধান করছেন। কিন্তু কখনোই গুপ্তধন থাকার বিষয়টি জানতেন না। হঠাৎ করে তারাও লোকমুখে জানতে পারেন বিষয়টি। স্থানীয় লন্ড্রি দোকানি রাসেল জানান, গত ৭ বছর ধরে ওই এলাকায় লন্ড্রির ব্যবসা করছেন। তিনিও অভিযানের আগে জানতেন না গুপ্তধন থাকার বিষয়টি। তার মতে, বাড়ির মালিকানা কিংবা দখল নিয়ে কোনো ঝামেলা থাকতে পারে। জানা যায়, বাড়িটির মূল মালিক দিলশাদ খানের দূরসম্পর্কের আত্মীয় সৈয়দ আলমের বন্ধু তৈয়ব। তিনি পেশায় ডেভেলপার ব্যবসায়ী। ওই বাড়ির জায়গায় বহুতল ভবন করতে কয়েকদিন আগে অন্য একটি ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন বর্তমান মালিক মনিরুল ইসলাম। এরপরই গুপ্তধনের তথ্য জানিয়ে গত ১৫ জুলাই থানায় জিডি করেন তৈয়ব। পরদিন মনিরুল ইসলামও আরেকটি জিডি করেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ