প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুক্তির পথে ‘রাত্রির যাত্রী’

ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ তারেক : শুরু হতে নানান বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ‘রাত্রির যাত্রী’ অবশেষে দেখলো আলোর মুখ। পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি সেন্সরবোর্ড হয়ে এখন মুক্তির মিছিলে। কোনরকম কর্তন ছাড়াই সেন্সর সনদ পেয়েছে এ চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রে মূল চরিত্রে রূপদান করেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী, গুণী অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন, কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান, শহিদুল আলম সাচ্চু, স¤্রাট, অরুণা বিশ্বাসসহ অনেকে।

সূচনালগ্ন হতেই অনলাইন, অফলাইনে প্রচারণা চলছিল ‘রাত্রির যাত্রী’র; সে প্রচারণায় নতুন হাওয়া লাগলো সেন্সর হয়ে যাওয়ায়। বিভিন্নমহল আন্তরিকভাবে এ চলচ্চিত্রের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। রয়েছে সমাজের সর্বস্তরের জনগণ। আইনজীবি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিক্ষকসহ নানান পেশার মানুষের মুখে মুখে এ নতুন ভাবনার ছবির নাম। রাত্রির যাত্রী নিয়ে যেন একটি যুদ্ধ চলছিল শুরু হতেই, সে যুদ্ধ জয়ের দ্বারপ্রান্তে রাত্রির যাত্রী পরিবার। চলচ্চিত্রে সুস্থধারাকে প্রতিষ্ঠিত করার যুদ্ধ, আপামর জনতাকে সিনেমাহলে ফিরিয়ে নিয়ে আসার যুদ্ধ, সৃজনশীল কর্মকান্ডকে তুলে ধরার যুদ্ধ- সব যুদ্ধকে জয় করতে চায় এ পরিবার।

রাত্রির যাত্রী পরিবার কৃতজ্ঞ যারা পাশে ছিলেন তাদের প্রতি। সারাদেশব্যাপী বন্ধুদের অক্লান্ত শ্রমে প্রচারণায় নতুনত্ব এসেছে, যা অব্যাহত আছে এখনো। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, পেজ, প্রিন্ট মিডিয়া, ভিজুয়াল মিডিয়া যেভাবে এ চলচ্চিত্রের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তা অভূতপূর্ব। হাবিবুল ইসলাম হাবিব যে স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন তা আজ পূর্ণ হবার পথে। তার প্রথম ছবি ‘রাত্রির যাত্রী’ শুধু তার একার ছবি নয়, এটি সকল সিনেমাপ্রেমীর ছবি, এটি গ্রাম-বাংলার ছবি, এটি গণমানুষের ছবি। এ ছবির প্রতিটি দৃশ্যের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অপরিসীম পরিশ্রম ও ভালোবাসার গল্প। যেদিন বড়পর্দায় ছবিটি দেখা যাবে সেদিনই এ ভালোবাসার প্রতিদান পাবে এ পরিবার।

চলচ্চিত্র ছোটপর্দায় নয়, বড়পর্দায় দেখতে হয়। সেজন্য যেতে হবে সিনেমাহলে। সিনেমার মানুষকে সিনেমার বিশাল পর্দায় দেখলে পূর্ণাঙ্গ তৃপ্তি পাওয়া যায়। মুঠোফোনের পর্দায় যার আবেদন সিকি ভাগও থাকেনা। তাই দর্শকের কাছে আবেদন, আপনারা সিনেমাহলে গিয়ে সিনেমাটি দেখুন। সমালোচনা অবশ্যই করবেন, তবে সিনেমা দেখার পর। কান নিয়েছে চিলে ভেবে চিলের পেছনে ছুটলে নিজেদেরই ক্ষতি। তাই সদলবলে রাত্রির যাত্রী দেখুন, অপরকে দেখতে উদ্বুদ্ধ করুন। দেশের রুগ্ন চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাতে সিনেমাহলে গিয়ে সিনেমা দেখার বিকল্প নেই।

‘রাত্রির যাত্রী’ হাসি ফুটিয়ে তুলুক সকলের মুখে, এ প্রত্যাশা। জয় হোক বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের, ভিনদেশী চলচ্চিত্রের আগ্রাসনে যেন আমাদের ছবি পথ না হারায়।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ইইটিই বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ