প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তাজিন আপুকে খুব মনে পড়ে : ঊর্মিলা

ইমতিয়াজ মেহেদী হাসান : সাজঘরের শীতল কক্ষে এলোচুলে বসে আছেন ঊর্মিলা। হাতে চিত্রনাট্য। বসে বসে নিজের চরিত্র নিয়ে ভাবছেন। ক্ষণে ক্ষণে সংলাপও আওড়াচ্ছেন। ‘ভালো’র চেয়েও যদি ভালো কিছু থাকে, অভিনয়ে সেটাই করার চেষ্টা করেন তিনি। অনেকেরই অজানা, এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী খুব ভালো গানও করেন। পেয়েছেন রবীন্দ্রসংগীতে স্বর্ণপদকও। তবে অভিনয় ব্যস্ততায় এখন আর নিয়মিত গাওয়া হয়না সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠা ঊর্মিলার।

স্বামী-সংসার-অভিনয় শিল্পী সংঘ এবং অভিনয় নিয়েই এখন এই অভিনেত্রীর সময় কাটে। দম ফেলবার ফুরসত নেই একদম। ছুটির দিন এলে তাই বন্ধুবান্ধব আর পরিচিতজনদের সান্নিধ্যে থাকেন তিনি। সম্প্রতি আর কে সরকার পরিচালিত ‘মোহমায়া’ নাটকের সেটে আলাপকালে ঊর্মিলা বলেন, দিনে দিনে মানুষের ব্যক্তিগত সময় কমে আসছে। বাড়ছে রাস্তার যানজট। বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রার ধরণও। যে কারণে মানুষ ইচ্ছে থাকলেও আগের মত টিভি নাটকমুখী হতে পারছে না। তবে হ্যাঁ, ইউটিউবের কল্যাণে যখন খুশী তখন নাটক দেখছে। এ ব্যাপারটা পজেটিভ।

টিভি নাটকের মান ‘যথেষ্ট ঠিক’ আছে উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী বলেন, টিভি নাটকের মান ঠিক না থাকলে এতো মানুষ কখনই নাটক দেখতো না। যেটা আপনারা ইউটিউবের ভিউ এবং মানুষের মুখে আলোচনা শুনলেই বুঝতে পারবেন।

নাটকে আজকাল গানের ব্যবহার বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন। কারো মতে গল্পের দুর্বলতা ঢাকতেই গান, আবার কেউবা বলছেন গল্পের প্রয়োজনেই গান। এ ব্যাপারে টিভি পর্দার এই জনপ্রিয় মুখ বলেন, চাইলেই গানটা এখন আগের মত ব্যবহার করা যায়না। নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা থাকে। এতে পরিচালকদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাছাড়া গান ব্যবহারে অতিরিক্ত খরচাও হয়। পাশাপাশি দৃশ্যধারণের ‘আলাদা’ ঝক্কি তো আছেই। তাই আমার কাছে মনে হয় গল্পের দুর্বলতা ঢাকতে নয়, মানুষের ‘একঘেয়েমি’ দূর করে ভিন্ন ফ্লেভার দিতেই নাটকে গান ব্যবহার করা হয়। আর দর্শকদেরও এ ব্যাপারে ‘পজেটিভ রেসপন্স’ রয়েছে।

ইমরান ও পূজার ‘দূরে দূরে’ গানে মডেল হয়ে প্রশংসা কুড়ানো উর্মিলা বর্তমানে অভিনয় শিল্পী সংঘের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। শত ব্যস্ততার ফাঁকেও তিনি সর্বোচ্চ সময় ব্যয় করেন সংগঠনের জন্য। শিল্পীদের দেখভাল করেন। চেষ্টা করেন তাদের মুখে হাসি ফোটাতে।

প্রয়াত অভিনেত্রী তাজিন আহমেদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাজিন আপুর সঙ্গে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। ছোটবোন হিসেবে আমাকে সে প্রচন্ড আদর করতো। যেটা এখন খুব মিস করি। তাঁর সঙ্গে আমার ‘অন্য ধরণের’ একটা বন্ডিং ছিলো। সেই সূত্রে সে অনেক পার্সোনাল কথা আমার সঙ্গে শেয়ার করতো। আমিও তার কাছে অনেক কিছু শেয়ার করতাম। অনেক আবদারের একটা জায়গা ছিল। এখন সেগুলো খুব মনে পড়ে। যেখানেই থাকো, তুমি ভালো থেকো তাজিন আপু। সবাই তাঁর জন্য দোয়া রাখবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত