Skip to main content

হজের ফরজ, ওয়াজিব সুন্নতসমূহ

আমিন মুনশি: পবিত্র হজ আদায়ের ক্ষেত্রে তিনটি কাজ রয়েছে, যেগুলোর কোনো একটি বাদ পড়লে হজ আদায় হবে না। এগুলোকে হজের ফরজ বলে। হজের ফরজ ৩টি হলো: ১. হজের নিয়ত বা ইহরাম বাঁধা। ২. জিলহজের ৯ তারিখে আরাফার ময়দানে দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কিছু সময় অবস্থান করা। ১০ জিলহজ ফজরের পূর্বে অবস্থান করলেও ফরজ আদায় হবে, সে ক্ষেত্রে দম দিতে হবে। ৩. জিলহজের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে একবার তাওয়াফে জিয়ারত করা। হজের ওয়াজিব ৬টি: ১. মুজদালিফায় ১০ই জিলহজ ফজরের সময় অবস্থান করা। ২. পাথর নিক্ষেপ করা। ৩. সায়ি করা অর্থাৎ সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝে ৭ বার দৌঁড়ানো। ৪. মাথা মুন্ডানো বা চুল খাটো করা। ৫. বহিরাগতদের জন্য বিদায়ি তাওয়াফ করা। ৬. হজে কিরান ও হজে তামাত্তুকারীদের পক্ষ থেকে দমে শোকর আদায় করা। ১০ জিলহজ যে পশু জবাই করে হাজিরা হালাল হন- এটিই মূলতঃ দমে শোকর। হজের সুন্নত: ১. কিরান হজকারী ও বহিরাগত ইফরাদ হজকারীর পক্ষ থেকে মক্কায় প্রবেশের পর কাবাঘর তাওয়াফ করা। এটি আগমনি বা তাওয়াফে কুদুম হিসেবে পরিগণিত। এটি করা সুন্নত। ২. তাওয়াফে কুদুমের সময় তাওয়াফে রমল অর্থাৎ বীরের মতো হেলেদুলে চলা। একইসঙ্গে ইজতিবা অর্থাৎ ইহরামের চাদর ডান হাতের বগলের নীচে দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের ওপর ফেলে রাখা সুন্নত। উল্লেখ্য, তাওয়াফে কুদুমের পরই সায়ি করার ইচ্ছে থাকলে রমল ও ইজতিবা করতে হবে। তখন সায়ি করলে তাওয়াফে জিয়ারতের পর সায়ি করতে হবে না। যদি তাওয়াফে কুদুমের পরে সায়ি না করার ইচ্ছে থাকে তাহলে রমল ও ইজতিবা তখন করতে হবে না। সে ক্ষেত্রে তাওয়াফে জিয়ারতের পরে রমল ও ইজতিবা করতে হবে। ৩. জিলহজের ৮ তারিখ সকালে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া সুন্নত। সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করাও সুন্নত। ৪. জিলহজের ৯ তারিখ সূর্যোদয়ের পর আরাফার ময়দানের উদ্দেশ্যে মিনা থেকে রওয়ানা দেওয়া সুন্নত। ৫. আরাফায় ৯ তারিখ দুপুর থেকে অবস্থান করে মুজদালিফার উদ্দেশ্যে সূর্যাস্তের পর রওয়ানা দেওয়া সুন্নত। ৬. আরাফায় অবস্থানকালীন গোসল করাও সুন্নত। ৭. মুজদালিফায় রাত কাটানো সুন্নত। ৮. মিনায় কংকর নিক্ষেপকালীন সময়ে ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় রাত কাটানো সুন্নত। সুন্নত পালন করলে সওয়াব হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবজ্ঞাভরে সুন্নত ছেড়ে দেওয়া খারাপ। নিয়ম শৃঙ্খলার স্বার্থে মুয়াল্লিমদের পক্ষ থেকে অনেক সময় সুন্নত সময়ের পূর্বে মিনায় ও আরাফায় পৌঁছে দেয়। সুন্নত পালনের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তা পালন করতে না পারলে গোনাহগার হবে না। বরং মনের আগ্রহের কারণে সওয়াবের আশা করা যায়। কোনো সুন্নত অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়লে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।